বৃত্তি পেয়েও ছাবিদের মুখে হাসি নেই, কাঁদছে পরিবার

‌‘আমি বড় হয়ে বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার হবো, তুমি হবে ইঞ্জিনিয়ারের মা’—এভাবেই মাকে কথাগুলো বলেছিল শিশু ইবনে ছাবিদ। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মরণব্যাধি। তারে ছোট্ট শরীরে বাসা বেঁধেছে ক্যানসারের জীবাণু। এরই মাঝে এসেছে আনন্দের খবর। অদম্য মেধাবী ছাবিদ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। তবে তার মনে নেই আনন্দ। পরিবারেও বিষাদের ছায়া। রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বেডে শুয়েই বৃত্তি পাওয়ার খবরে অশ্রুসিক্ত হয়েছে ছাবিদসহ তার পরিবার। আরও পড়ুন ক্যানসারে স্বামীর মৃত্যু, এবার আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে দিশাহারা মা ছাবিদ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়ার সাহাপুর গ্রামের আশরাফুল আলম রোকনের একমাত্র ছেলে। সে ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (আরএআরএস) উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্র জানায়, শিক্ষাজীবনে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মেধাতালিকা সবসময় প্রথম স্থান দখলে ছিল শিশু ছাবিতের। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় সে

বৃত্তি পেয়েও ছাবিদের মুখে হাসি নেই, কাঁদছে পরিবার

‌‘আমি বড় হয়ে বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার হবো, তুমি হবে ইঞ্জিনিয়ারের মা’—এভাবেই মাকে কথাগুলো বলেছিল শিশু ইবনে ছাবিদ। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মরণব্যাধি। তারে ছোট্ট শরীরে বাসা বেঁধেছে ক্যানসারের জীবাণু।

এরই মাঝে এসেছে আনন্দের খবর। অদম্য মেধাবী ছাবিদ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। তবে তার মনে নেই আনন্দ। পরিবারেও বিষাদের ছায়া।

রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বেডে শুয়েই বৃত্তি পাওয়ার খবরে অশ্রুসিক্ত হয়েছে ছাবিদসহ তার পরিবার।

ছাবিদ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়ার সাহাপুর গ্রামের আশরাফুল আলম রোকনের একমাত্র ছেলে। সে ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (আরএআরএস) উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

বৃত্তি পেয়েও ছাবিদের মুখে হাসি নেই, কাঁদছে পরিবার

পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্র জানায়, শিক্ষাজীবনে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মেধাতালিকা সবসময় প্রথম স্থান দখলে ছিল শিশু ছাবিতের। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় সে ক্যানসারে আক্রান্ত।

ছাবিদের বাবা রোকন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, চিকিৎসক জানিয়েছেন সুস্থ জীবনে ফিরতে ছাবিদের প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। এ অবস্থায় সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে তিনি চিন্তিত।

স্থানীয়রা জানান, ছাবিদ পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত করতো। আচার ব্যবহারও ছিল ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির। তার অসুস্থতায় অশ্রুসিক্ত প্রতিবেশীরাও।

বৃত্তি পেয়েও ছাবিদের মুখে হাসি নেই, কাঁদছে পরিবার

ছাবিদের মা লিজা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আর পাঁচটা ছেলের মতো যখন বইখাতা নিয়ে ছাবিদের ব্যস্ত থাকার কথা, তখন সে হাসপাতালের শয্যায়। তাকে এ অবস্থায় দেখে সহ্য করতে পারি না। আল্লাহ আমার ছাবিদকে সুস্থ করে দিক।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছাবিদের মতো মেধাবী শিক্ষার্থী ক্যানসার আক্রান্তের ঘটনা সত্যিই কষ্টের। সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে ক্যানসার আক্রান্তদের সহযোগিতা করার সুযোগ রয়েছে। তার পরিবার আবেদন করলে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।’

শেখ মহসীন/এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow