বৃদ্ধা মায়ের খোঁজ নেয় না সন্তানরা, অসহায় তহমিনা একটা ঘর চান
স্বামী দ্বিতীয় বিয়ের করার পরই ভেঙে যায় তহমিনার সংসার। পরে তিন বছরের ছেলে মহসিন ও দুই মাসের মেয়ে রুবিনাকে নিয়ে বাবার বাড়ি আশ্রয় নেয় তহমিনা। বাবার মৃত্যুর পর সেই আশ্রয়স্থল টুকুও হারান তিনি। সরকারি জায়গায় একটা ছোট্ট টিনের জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরেই এখন তার বসবাস। সন্তানরা বিয়ে করে কেউ আর মায়ের খোঁজখবর রাখে না। বলছিলাম নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলা শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের বালুকাপাড়া খুলোপুকুরিয়া পাহাড়ের বাসিন্দা তহমিনা (৭০) নামে এক বৃদ্ধার গল্প। ভিটে নেই, মাটি নেই, নেই নিজের মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই। সরকারি খাস জমিতে কয়েকটি টিনের টুকরো দিয়ে কোনোমতে দাঁড়িয়ে থাকা জরাজীর্ণ ঝুপড়িই তার একমাত্র আশ্রয়স্থল। ঘরের চাল জুড়ে অসংখ্য ছিদ্র। বৃষ্টি হলেই পানি গড়িয়ে পড়ে ঘরের ভেতরে। চারপাশের বেড়া ফাঁকফোকরে ভরা। শীতের হিমেল বাতাস কিংবা ঝড়-বৃষ্টির সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাকে। স্যাঁতসেঁতে মেঝের ওপর ভাঙা খাটই তার ঘুমানোর একমাত্র ব্যবস্থা। রান্নাঘরের অবস্থা আরও করুণ। সামান্য বৃষ্টিতেই উঠান ও ঘরে পানি জমে যায়। নেই কোনো নিরাপদ টিউবওয়েল কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। প্রতিদিনই তিনি নানা কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দ
স্বামী দ্বিতীয় বিয়ের করার পরই ভেঙে যায় তহমিনার সংসার। পরে তিন বছরের ছেলে মহসিন ও দুই মাসের মেয়ে রুবিনাকে নিয়ে বাবার বাড়ি আশ্রয় নেয় তহমিনা। বাবার মৃত্যুর পর সেই আশ্রয়স্থল টুকুও হারান তিনি।
সরকারি জায়গায় একটা ছোট্ট টিনের জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরেই এখন তার বসবাস। সন্তানরা বিয়ে করে কেউ আর মায়ের খোঁজখবর রাখে না। বলছিলাম নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলা শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের বালুকাপাড়া খুলোপুকুরিয়া পাহাড়ের বাসিন্দা তহমিনা (৭০) নামে এক বৃদ্ধার গল্প।
ভিটে নেই, মাটি নেই, নেই নিজের মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই। সরকারি খাস জমিতে কয়েকটি টিনের টুকরো দিয়ে কোনোমতে দাঁড়িয়ে থাকা জরাজীর্ণ ঝুপড়িই তার একমাত্র আশ্রয়স্থল। ঘরের চাল জুড়ে অসংখ্য ছিদ্র। বৃষ্টি হলেই পানি গড়িয়ে পড়ে ঘরের ভেতরে। চারপাশের বেড়া ফাঁকফোকরে ভরা। শীতের হিমেল বাতাস কিংবা ঝড়-বৃষ্টির সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাকে। স্যাঁতসেঁতে মেঝের ওপর ভাঙা খাটই তার ঘুমানোর একমাত্র ব্যবস্থা।
রান্নাঘরের অবস্থা আরও করুণ। সামান্য বৃষ্টিতেই উঠান ও ঘরে পানি জমে যায়। নেই কোনো নিরাপদ টিউবওয়েল কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। প্রতিদিনই তিনি নানা কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এলাকার সচেতন মানুষ বৃদ্ধা তহমিনার পাশে দাঁড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সমাজের একজন দানশীল মানুষের সামান্য সহযোগিতাই পারে বৃদ্ধা তহমিনার অমানবিক জীবন থেকে মুক্তি দিতে।
বৃদ্ধা তহমিনা বলেন, মানুষের বাড়িতে কাজ ও এলাকায় মৃত মহিলা মারা গেলে শেষ গোসল করিয়ে যে চাল ডাল পেতাম তা দিয়ে অনেক কষ্ট করে খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের মানুষ করেছি। বৃদ্ধ বয়সে সন্তানরা এখন আর খোঁজখবর রাখে না আমার। এলাকায় প্রায় ৫ হাজার মহিলা মারা যাওয়া ব্যক্তিদের আমি গোসল করিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বয়স হয়েছে শরীরে রোগবালাই বাসা বেঁধেছে, এখন অন্যের বাড়িতে কাজ করতে পারি না। এলাকায় কোনো মহিলা মারা গেলেও আর শেষ গোসলটুকু করাতে পারি না। ঘরে চাল ডাল নেই, ওষুধ কেনার টাকা নেই, ঝুপড়ি ঘর মেরামত করবো কী দিয়ে। সরকার যদি আমারকে একটা ঘর ও খাবারের ব্যবস্থা করে দিত। তাহলে বৃদ্ধা বয়সে আল্লাহর একটু ইবাদত বন্দেগি করে মারা যেতাম।
What's Your Reaction?