বোরকা পরে শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোর রুমে আগুন, ৮৩ ল্যাপটপ উধাও

গভীর রাতে বোরকা পরে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন মিরপুর-২ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোর রুমে আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের পর ৮৩টি ল্যাপটপ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রেফতাররা হলেন- অধিদপ্তরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আসমাউল ইসলাম, মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস ও হুমায়ুন কবির খান। শনিবার (২ মে) রাতে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার। তিনি বলেন, শুক্রবার রাত রাত ২টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যবর্তী সময়ে মিরপুর-২ এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে দুর্বৃত্তরা আগুন দেন। এ ঘটনায় ৭৩৫টি ল্যাপটপের মধ্যে ৪৫০টি ভালো অবস্থায়, ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, ২৯টি অধিক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১৪০টি সম্পূর্ণ পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি ৮৩টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানার একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাক সরকার বলেন, পরে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষা অধিদপ্তর কর্মরত পরিচ্ছন্নকর্ম

বোরকা পরে শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোর রুমে আগুন, ৮৩ ল্যাপটপ উধাও

গভীর রাতে বোরকা পরে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন মিরপুর-২ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোর রুমে আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের পর ৮৩টি ল্যাপটপ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

গ্রেফতাররা হলেন- অধিদপ্তরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আসমাউল ইসলাম, মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস ও হুমায়ুন কবির খান।

শনিবার (২ মে) রাতে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাত রাত ২টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যবর্তী সময়ে মিরপুর-২ এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে দুর্বৃত্তরা আগুন দেন। এ ঘটনায় ৭৩৫টি ল্যাপটপের মধ্যে ৪৫০টি ভালো অবস্থায়, ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, ২৯টি অধিক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১৪০টি সম্পূর্ণ পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি ৮৩টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানার একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাক সরকার বলেন, পরে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষা অধিদপ্তর কর্মরত পরিচ্ছন্নকর্মী (মাস্টার রোল) মো. আসমাউল ইসলামকে মিরপুর-২ নম্বর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। যে কি না প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে নিজে স্টোর রুমে আগুন লাগানোর কথা স্বীকার করেছেন।

jagonews24

পরে গ্রেফতার আসমাউল ইসলামের স্বীকারোক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণের পর মিরপুর মডেল থানা পুলিশ একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মিরপুর শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযান পরিচালনা করে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য দুই আসামি মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস ও হুমায়ুন কবির খানকে গ্রেফতার করা হয়।

৮৩টি ল্যাপটপ খুঁজে না পাওয়ার কারণ হিসেবে পুলিশের এই কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কিন্তু কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাদের হাতেও ল্যাপটপ দেখা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, তদন্ত চলছে। গ্রেফতার আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ডে নিয়ে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদি অন্য কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর অগ্নিকাণ্ডস্থল সশরীরে পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেসময় তাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।

ধ্বংসাবশেষ দেখে মন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে সচিবকে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, এই আগুনের পেছনে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।

এছাড়া তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে তাগিদ দেন।

টিটি/এমআইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow