ব্যবসায়ী দিদার হত্যার ৩৬ দিন পরেও গ্রেপ্তার হয়নি আসামি
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক এলাকায় ব্যবসায়ী দিদারুল আলম হত্যা মামলার তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ৩৬ দিন পার হলেও মামলার দ্বিতীয় মূল আসামি আবু জাফর (৫৫) গ্রেপ্তার হননি। একইসঙ্গে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও উদঘাটনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ স্বজনদের।
নিহত দিদারুল আলমের (৪৯) চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারে একটি স্টেশনারি দোকান ছিল। তিনি চার কন্যা সন্তানের জনক। তার বাড়ি পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগর গ্রামে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন সুলতানা বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রধান আসামি আবু তৈয়ব (৪৮) এক সময় দিদারুল আলমের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। অসদাচরণসহ নানা অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর থেকেই তিনি দিদারুলকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
গত ১০ এপ্রিল রাতে দিদার গ্রামের বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম শহরে ফেরার পথে কর্ণফুলীর শিকলবাহা ইউনিয়নের মইজ্জারটেক মোড়ে পৌঁছান। এ সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আবু তৈয়ব তার ওপর
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক এলাকায় ব্যবসায়ী দিদারুল আলম হত্যা মামলার তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ৩৬ দিন পার হলেও মামলার দ্বিতীয় মূল আসামি আবু জাফর (৫৫) গ্রেপ্তার হননি। একইসঙ্গে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও উদঘাটনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ স্বজনদের।
নিহত দিদারুল আলমের (৪৯) চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারে একটি স্টেশনারি দোকান ছিল। তিনি চার কন্যা সন্তানের জনক। তার বাড়ি পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগর গ্রামে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন সুলতানা বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রধান আসামি আবু তৈয়ব (৪৮) এক সময় দিদারুল আলমের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। অসদাচরণসহ নানা অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর থেকেই তিনি দিদারুলকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
গত ১০ এপ্রিল রাতে দিদার গ্রামের বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম শহরে ফেরার পথে কর্ণফুলীর শিকলবাহা ইউনিয়নের মইজ্জারটেক মোড়ে পৌঁছান। এ সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আবু তৈয়ব তার ওপর হামলা চালান।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইট দিয়ে মাথা, মুখ ও চোখে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে আবু তৈয়বকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।
নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর পুলিশ প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও মামলার দ্বিতীয় আসামি এখনো পলাতক। একইসঙ্গে আসামির পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ট্র্যাকিং করে অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তা অনুসন্ধানের অনুরোধ জানানো হলেও সে বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাতে আমরা হতাশ।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য সোমবার (১৮ মে) আদালতে তারিখ ধার্য আছে। এ মামলায় একজন আসামি গ্রেপ্তার থাকলেও দুই নম্বর আসামি এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। আমরা আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এরপরও যদি তদন্তে অগ্রগতি না হয় বা পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা না যায়, তাহলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক জুয়েল মজুমদার জানান, ব্যবসায়ী দিদার আলম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু তৈয়ব গ্রেপ্তার রয়েছেন। দ্বিতীয় আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে। তবে মামলার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনো হাতে আসেনি। পাশাপাশি আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাইয়ে পটিয়া থানায় পাঠানো অনুসন্ধানের জবাবও এখনো পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবু তৈয়ব দিদারুল আলমের কাছে টাকা পাওনা থাকার দাবি করেছেন। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, তিনি কোনো টাকা পাওনা ছিল না। বরং দিদারই তাকে গ্রাম থেকে এনে নিজের দোকানে কাজ দিয়েছিলেন। পরে অস্বাভাবিক আচরণ ও অযৌক্তিক টাকা দাবির কারণে তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে একাধিক সালিশ হলেও তৈয়ব কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।