ব্রাজিলের ম্যাচে সিগারেট খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির নেতা আহত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাজিল-জাপান ফুটবল ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আবদুল্লাহ আল-মামুন ও জাতীয় ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক মো. উলফাতুর রহমান (রাকিব) আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরও আহত হয়েছেন। এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকেরা হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদলের একাধিক সূত্র জানায়, সোমবার রাতে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে মার্কেটিং বিভাগের ২৩-২৪ বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার দিশান মেয়েদের জন্য নির্ধারিত স্থানের পাশে বসেছিলেন। বিষয়টি দেখে ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল-মামুন প্রতিবাদ করেন। ছাত্রদলের দাবি, দিশান মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেটও খাচ্ছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তদের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে ইফতেখার দিশান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ৮-১০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে আল-মামুনের সঙ্গে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাজিল-জাপান ফুটবল ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আবদুল্লাহ আল-মামুন ও জাতীয় ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক মো. উলফাতুর রহমান (রাকিব) আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরও আহত হয়েছেন। এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকেরা হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদলের একাধিক সূত্র জানায়, সোমবার রাতে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে মার্কেটিং বিভাগের ২৩-২৪ বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার দিশান মেয়েদের জন্য নির্ধারিত স্থানের পাশে বসেছিলেন। বিষয়টি দেখে ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল-মামুন প্রতিবাদ করেন। ছাত্রদলের দাবি, দিশান মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেটও খাচ্ছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তদের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে ইফতেখার দিশান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ৮-১০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে আল-মামুনের সঙ্গে দেখা করতে আসলে আবারও মারধর করেন। এ ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পলাশ মোল্লা জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা উলফাতুর রহমানকে কল দেন। উলফাত আহত শিক্ষার্থীকে মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পর শাহজালাল হলের সামনে এলে তার ওপর ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আহত হন এবং সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত মার্কেটিং বিভাগের ২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী ইফতেখার দিশান বলেন, আমি ছাত্রদলের এক বন্ধুর আমন্ত্রণে খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। সামনের সারিতে বসতে গেলে আবদুল্লাহ আল-মামুন আমাকে সরে যেতে বলেন। পরে কারণ জানতে চাইলে আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করা হয়। ঘটনাটি আড়াল করতেই আমার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সিগারেট খাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। পরদিন আমরা ৮-১০ জন অ্যাসোসিয়েশনের বন্ধু ও বড় ভাইদের নিয়ে দেখা করতে গেলে আমাদের আবার মারধর করা হয়। এতে আমার বন্ধু ইতিহাস বিভাগের সিয়াম আহত হয়। তাকে মেডিকেলে নেওয়ার জন্য বড় ভাই পলাশ মোল্লা উলফাতুর রহমানকে ফোন দেন। পরে তারাও উলফাতুর রহমানকে মারধর করে। আপনি আল-মামুন সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখেন সে সবসময় মারামারি বা এসব বিষয়ে সম্পৃক্ত থাকে।
অন্যদিকে, স্পোর্টস সাইন্স বিভাগের ২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আমি কয়েকজন সিনিয়রকে নিয়ে শাহজালাল হলের দিকে যাওয়ার সময় মাস্ক পরা কয়েকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে হামলাকারীরা হলে আশ্রয় নেয়। হামলায় আমার ঘাড়ে আঘাত লাগে। স্থানীয় লোকজনও হামলায় অংশ নিয়ে আবার হামলার হুমকি দেন।
রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী পলাশ মোল্লা বলেন, দিশান আমার জুনিয়র। তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তখন তারা আহত হওয়ায় আমার বন্ধু উলফাতকে ডাকি, যাতে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারে। এরপর তারা উলফাতের ওপর হামলা করে।
এ ঘটনায় আহত হওয়া জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা উলফাতুর রহমান বলেন, পলাশ মোল্লার অনুরোধে আহত এক শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে নিয়ে যাই। পরে ছাত্রদলের কয়েকজন আমাকে শাহজালাল হলের সামনে ডেকে নিয়ে গলা চেপে ধরে, লাথি মারে ও মারধর করে। নিরাপত্তা দপ্তর আমাকে উদ্ধার করলেও আমার বাসার চাবি নিয়ে যাওয়া হয়। আমার দোষ ছিল, আমি শুধু আহত একজনকে মেডিকেলে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেব।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন বলেন, মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে আগের দিনের বিরোধের জেরে আল-মামুনের ওপর হামলা হয়। নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। তখন নেতাকর্মীদের মাথা গরম ছিল। আমাদের কারও অন্যায় প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
সাংবাদিকদের হেনস্তার বিষয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সরিয়ে নিরাপদে নেওয়ারও চেষ্টা করেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক শুভাশীষ চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় দুইজন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে আসে। আল-মামুনের মাথায় আঘাত ও ফোলা ছিল। তাই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অন্য একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মতবিরোধ থেকেই দুপক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উভয় পক্ষকে আলোচনায় ডাকা হবে। সংঘর্ষের সময় আমি মাঝখানেই ছিলাম। সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
What's Your Reaction?