ভাইরাসে সর্বস্বান্ত খামারি, শেষ ভরসা ‘রাজাবাবু’

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার দড়িকান্দি গ্রামের ফরিদ মিয়া একসময় ছিলেন এলাকার অন্যতম বড় গরুর খামারি। কিন্তু করোনার পর খামারে লাম্পি স্কিন ডিজিজ ছড়িয়ে পড়লে একে একে মারা যায় তার গরু। লোকসানের মুখে বিক্রি করতে হয় খামারে থাকা বাকি গরুও। এখন সব হারিয়ে তার শেষ ভরসা একমাত্র গরু ‘রাজাবাবু’। জানা গেছে, এক সময় ফরিদ মিয়া এলাকার অন্যতম বড় গরুর খামারি ছিলেন। তার গোয়ালঘরে সবসময় ১০ থেকে ১২টি গরু থাকতো। স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে সুখেই চলছিল তার সংসার। কিন্তু হঠাৎ করেই ভাইরাসজনিত রোগে বদলে যায় সবকিছু। কিন্তু করোনার পরপরই তার খামারে দেখা দেয় গরুর ভাইরাসজনিত রোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’। একে একে মারা যায় খামারের সবচেয়ে বড় দুটি গরু। পরে আরও কয়েকটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়লে লোকসানের আশঙ্কায় অল্প দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন বাকি গরুগুলোও। এতে পথে বসার উপক্রম হয় তার। ফরিদ মিয়া বলেন, আমি ছিলাম এই এলাকার বড় খামারিদের একজন। আমার গোয়ালঘরে সব সময় ১০ থেকে ১২টি গরু থাকতো। খুব ভালোভাবেই সংসার চলছিল। কিন্তু হঠাৎ গরুর শরীরে ফুসকা পড়া রোগ দেখা দেয়। করোনার পর আমার দুটি বড় গরু মারা যায

ভাইরাসে সর্বস্বান্ত খামারি, শেষ ভরসা ‘রাজাবাবু’

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার দড়িকান্দি গ্রামের ফরিদ মিয়া একসময় ছিলেন এলাকার অন্যতম বড় গরুর খামারি। কিন্তু করোনার পর খামারে লাম্পি স্কিন ডিজিজ ছড়িয়ে পড়লে একে একে মারা যায় তার গরু। লোকসানের মুখে বিক্রি করতে হয় খামারে থাকা বাকি গরুও। এখন সব হারিয়ে তার শেষ ভরসা একমাত্র গরু ‘রাজাবাবু’।

জানা গেছে, এক সময় ফরিদ মিয়া এলাকার অন্যতম বড় গরুর খামারি ছিলেন। তার গোয়ালঘরে সবসময় ১০ থেকে ১২টি গরু থাকতো। স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে সুখেই চলছিল তার সংসার। কিন্তু হঠাৎ করেই ভাইরাসজনিত রোগে বদলে যায় সবকিছু। কিন্তু করোনার পরপরই তার খামারে দেখা দেয় গরুর ভাইরাসজনিত রোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’। একে একে মারা যায় খামারের সবচেয়ে বড় দুটি গরু। পরে আরও কয়েকটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়লে লোকসানের আশঙ্কায় অল্প দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন বাকি গরুগুলোও। এতে পথে বসার উপক্রম হয় তার।

ফরিদ মিয়া বলেন, আমি ছিলাম এই এলাকার বড় খামারিদের একজন। আমার গোয়ালঘরে সব সময় ১০ থেকে ১২টি গরু থাকতো। খুব ভালোভাবেই সংসার চলছিল। কিন্তু হঠাৎ গরুর শরীরে ফুসকা পড়া রোগ দেখা দেয়। করোনার পর আমার দুটি বড় গরু মারা যায়। পরে আরও কয়েকটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়লে কম দামে বিক্রি করে দেই। এতে আমি অনেক লোকসানে পড়ে যাই। পরে কী করবো বুঝতে না পেরে ব্র্যাক ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি গরু কিনি। সেই গরুই এখন রাজাবাবু।

তিনি বলেন, এই গরু সারা বছর ঘাস, কুঁড়া ও ভুসি খাইয়ে যে খরচ হয়েছে, হিসাব করে দেখি এবারও লোকসান হবে। গরুর পেছনে আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু কেউ ১ লাখ টাকার বেশি দাম বলতে চায় না।

খামারি বলেন, প্রতি বছর এভাবে লোকসান হলে কিভাবে গরু পালন করবো? লোকসান দিতে দিতে আমি শেষ হয়ে গেছি। এবার যদি কোরবানির ঈদের পরে আবার গরু কিনি, হয়তো আগামী বছর এই ভিটাটাও বিক্রি করতে হবে। এখন আমার শেষ ভরসা এই রাজাবাবু। তাকে বিক্রি করে যদি ঋণ শোধ করতে পারি, তাহলে অন্য কোনো কাজ করবো। আর গরু পালন করবো না।

একই গ্রামের বাসিন্দা মো. কাউছার বলেন, করোনার আগেও দেখেছি যে ফরিদ অনেক বড় খামারি। কিন্তু হঠাৎ করেই একটা রোগ এসে ফরিদের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায় তিনি প্রায় নিঃস্ব। এখন তার মাত্র একটি গরু আছে। সেই গরু নিয়েই সারা দিন কাটে তার।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা খামারিদের সব সময় পরামর্শ দিয়ে থাকি যাতে খামারিরা লাভবান হতে পারেন। এ জেলায় ঘাসের পরিমাণ অনেক হওয়ায় খামারিদের গরু মোটাতাজাকরণে তেমন বাড়তি খরচ করতে হয় না। এ জন্য আমরা আশা করি এ বছর খামারিরা লাভবান হতে পারবেন।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৬৫ হাজার ৮৭০টি। এর বিপরীতে মজুত রয়েছে ৯৯ হাজার ৭১১টি পশু। ফলে জেলায় উদ্বৃত্ত রয়েছে ৩৩ হাজার ৮৪১টি পশু, যা চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। জেলার সাতটি উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর মধ্যে গরু রয়েছে ৫৪ হাজার ১৯৫টি, মহিষ ১০১টি, ছাগল ৪০ হাজার ৫৬৩টি এবং ভেড়া রয়েছে ৪ হাজার ৮৫২টি।

মো. সজল আলী/এনএইচআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow