ভারতীয় গরুর নিলাম নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মারামারি, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বাজেয়াপ্ত হওয়ার ভারতীয় গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুপক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে রৌমারী থানায় অভিযোগগুলো জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রৌমারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ভারতীয় ১০টি গরুর প্রকাশ্যে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলাম চলাকালে আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব খাটানো এবং ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত দুই দলের নেতারা এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। এতে দুই পক্ষই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। থানা সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের শৌলমারী ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন মিয়া বাদী হয়ে জামায়াতের আট নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করে এজাহার দা
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বাজেয়াপ্ত হওয়ার ভারতীয় গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুপক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে রৌমারী থানায় অভিযোগগুলো জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রৌমারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ভারতীয় ১০টি গরুর প্রকাশ্যে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলাম চলাকালে আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব খাটানো এবং ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত দুই দলের নেতারা এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। এতে দুই পক্ষই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের শৌলমারী ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন মিয়া বাদী হয়ে জামায়াতের আট নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করে এজাহার দায়ের করেন।
অভিযোগে মিলন মিয়া দাবি করেন, ২৮ জুলাই নিলামে তার বড় ভাই ইসরাফিল সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকায় ১০টি গরু ক্রয় করেন। নিলাম শেষে জামায়াত নেতা মাহবুব আলম, এমরান শঈমি হেকিম, শহীদ মাসউদ আহমদ, আনোয়ার হোসেনসহ অন্য আসামিরা তাদের কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাদেরকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তারা আসামিদের ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা নেওয়ার পরও তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর রৌমারী উপজেলা ‘আবু সাঈদ ইউনিট’-এর সভাপতি মো. মাহবুব আলম বাদী হয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের ৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৫-৭ জনকে আসামি করে থানায় পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন।
জামায়াতের অভিযোগে বলা হয়, নিলাম কার্যক্রমে অনিয়ম এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের অংশ গ্রহণে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় জামায়াত নেতাদেরকে মারধর করা হয়। অভিযোগকারী মাহবুব আলম মুঠোফোনে অনিয়মের দৃশ্য ধারণ করতে গেলে ছাত্রদল ও যুবদল নেতা মিলন মিয়া, আল আমিন, রাশেদ ও শাহীন আলমসহ বেশ কয়েকজন তাদের ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন।
এ বিষয়ে রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী কালবেলাকে জানান, উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
What's Your Reaction?