ভারতীয় চোরাই মসলায় দেশের বাজারে ধাক্কা

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বছরের এই সময়টাতে সাধারণত চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে দম ফেলার সময় থাকে না। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারদের ভিড়, ট্রাকের দীর্ঘ সারি, আড়তে আড়তে মাল ওঠানামা আর দাম বাড়ার উত্তেজনায় সরগরম থাকে দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ভোগ্যপণ্যের বাজারটি। কিন্তু এবার দৃশ্য সম্পূর্ণ উল্টো। গুদামে গুদামে বস্তাভর্তি জিরা, এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, গোলমরিচ, শুকনা মরিচ, আদা ও রসুন মজুত থাকলেও নেই ক্রেতার চাপ। বাজারজুড়ে নেমে এসেছে অস্বাভাবিক স্থবিরতা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক যুগেও এমন নিস্তেজ ঈদ মৌসুম দেখেননি তারা। সরেজমিনে রোববার খাতুনগঞ্জের ইলিয়াস মার্কেট, হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ও বিভিন্ন বাজারসহ আশপাশের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানেই মসলার বস্তা সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে। কিন্তু পাইকারি ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। কোথাও কোথাও দোকানিরা বসে অলস সময় পার করছেন। যে বাজারে ঈদের আগের সপ্তাহগুলোতে ট্রলি আর ট্রাকের চাপে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ত, সেখানে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক দিনের মতো পরিবেশ বিরাজ করছে। বাজারজুড়ে নেই আগের সেই কোলাহল, নেই মোকামভিত্তিক বড় অর্ডারের চাপও। অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, গত ১০ থ

ভারতীয় চোরাই মসলায় দেশের বাজারে ধাক্কা
কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বছরের এই সময়টাতে সাধারণত চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে দম ফেলার সময় থাকে না। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারদের ভিড়, ট্রাকের দীর্ঘ সারি, আড়তে আড়তে মাল ওঠানামা আর দাম বাড়ার উত্তেজনায় সরগরম থাকে দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ভোগ্যপণ্যের বাজারটি। কিন্তু এবার দৃশ্য সম্পূর্ণ উল্টো। গুদামে গুদামে বস্তাভর্তি জিরা, এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, গোলমরিচ, শুকনা মরিচ, আদা ও রসুন মজুত থাকলেও নেই ক্রেতার চাপ। বাজারজুড়ে নেমে এসেছে অস্বাভাবিক স্থবিরতা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক যুগেও এমন নিস্তেজ ঈদ মৌসুম দেখেননি তারা। সরেজমিনে রোববার খাতুনগঞ্জের ইলিয়াস মার্কেট, হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ও বিভিন্ন বাজারসহ আশপাশের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানেই মসলার বস্তা সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে। কিন্তু পাইকারি ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। কোথাও কোথাও দোকানিরা বসে অলস সময় পার করছেন। যে বাজারে ঈদের আগের সপ্তাহগুলোতে ট্রলি আর ট্রাকের চাপে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ত, সেখানে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক দিনের মতো পরিবেশ বিরাজ করছে। বাজারজুড়ে নেই আগের সেই কোলাহল, নেই মোকামভিত্তিক বড় অর্ডারের চাপও। অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, গত ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে এমন নিরব ও স্থবির বাজার তারা দেখেননি। খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ীরা এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন সীমান্তপথে ভারতীয় মসলার অবৈধ প্রবেশকে। তাদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জিরা, এলাচ, গোলমরিচ, দারুচিনি, শুকনা আদা, লবঙ্গসহ উচ্চমূল্যের মসলা চোরাই পথে দেশে ঢুকছে। এসব পণ্য কোনো ধরনের শুল্ক ছাড়াই বাজারে আসায় দাম কমে যাচ্ছে। ফলে বৈধভাবে আমদানি করা পণ্য প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। এতে একদিকে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচনের পর সীমান্ত পরিস্থিতি অনেকটা শিথিল হয়ে পড়ে। ফেনী, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি, সিলেট, বগুড়া ও বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ছোট যানবাহন, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকে করে রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ মসলা ঢুকছে দেশে। এসব পণ্য সরাসরি চলে যাচ্ছে বিভিন্ন মোকাম ও আঞ্চলিক বাজারে। ফলে আগের মতো পাইকারদের খাতুনগঞ্জমুখী হতে হচ্ছে না। খাতুনগঞ্জের কয়েকজন আড়তদার জানান, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই সীমান্তপথে পণ্য প্রবেশ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। আগে ঢাকার চকবাজার, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, কুমিল্লা, সিলেট কিংবা বরিশালের ব্যবসায়ীরা ঈদের আগে ট্রাকভর্তি মসলা কিনতে খাতুনগঞ্জে আসতেন। এখন তারা সীমান্তঘেঁষা এলাকা থেকেই কমদামে পণ্য সংগ্রহ করছেন। এতে দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজারটির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে গেছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের আমদানি তথ্যও বাজারে চোরাই পণ্যের প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাধারণত দেশে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা প্রতিবছর ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু চলতি বছরে বৈধপথে মসলা আমদানির পরিমাণ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৫ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। একই সময়ে রাজস্ব আয় কমেছে ১৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১২ ক্যাটাগরির মসলা আমদানি হয়েছিল দুই লাখ ১৫ হাজার ৫৪৫ টন। চলতি বছরে একই সময়ে আমদানি হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৫৬০ টন। গত বছর এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৫৫৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এবার একই সময়ে রাজস্ব এসেছে ৪৫৭ কোটি টাকা। কাস্টমস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। তারপরও বৈধ আমদানিতে এ বড় পতন বাজারে অবৈধ পণ্য প্রবেশের বড় ইঙ্গিত বহন করছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে পেঁয়াজ আমদানিতে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল ১৬ হাজার ৫১০ টন। এবার সেই পরিমাণ নেমে এসেছে মাত্র ৭৪ দশমিক ৫০০ টনে। শতাংশের হিসাবে আমদানি কমেছে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ। রসুন আমদানিতেও বড় ধরনের পতন হয়েছে। গত বছরের প্রথম চার মাসে রসুন আমদানি হয়েছিল এক লাখ ৩৫ হাজার ১৫৮ টন। এবার এসেছে ৬৯ হাজার ৫৫৯ টন। অর্থাৎ ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম আমদানি হয়েছে। এলাচ আমদানি গত বছর ছিল এক হাজার ৮৯৩ টন। এবার এসেছে এক হাজার ৯৮ টন। জিরা আমদানি কমেছে তিন হাজার ৯৩৮ টন থেকে দুই হাজার ৭৯৩ টনে। শুকনা মরিচ আমদানি কমেছে ২৩ দশমিক ২ শতাংশ। হলুদ আমদানি চার হাজার ৪৭৮ টন থেকে নেমে এসেছে মাত্র ৭৫৩ টনে। তবে ব্যতিক্রম দেখা গেছে আদা ও দারুচিনিতে। গত বছর যেখানে দারুচিনি আমদানি হয়েছিল ১০ হাজার ৬১১ টন, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৫৩৪ টনে। একইভাবে আদা আমদানি ৩৮ হাজার ৫৪৭ টন থেকে বেড়ে হয়েছে ৬২ হাজার ৩৯৪ টন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কিছু আমদানিকারক আগেভাগে বড় চালান এনে বাজার ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় তারাও এখন লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছেন। খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ী মেসার্স আইমন এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, বৈধভাবে এক কেজি জিরা আমদানি করতে সরকারকে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়। এলাচে শুল্ক দিতে হয় এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু যারা চোরাই পথে পণ্য আনছে তাদের হয়ত সীমান্ত খরচই হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। ফলে বৈধ ব্যবসায়ীরা কোনোভাবেই প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‌একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। যারা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এলসি খুলে পণ্য আনছেন, তারা এখন গুদামে মাল আটকে রেখে বসে আছেন। খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী মাইশা ট্রেডার্সের মালিক জুয়েল রানা বলেন, এবার বাজারে পণ্যের কোনো সংকট নেই। বরং অতিরিক্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে ব্যবসা কমে গেছে চোরাই চালানের জন্য, পাইকারি ক্রেতা কম। কারণ দেশের বিভিন্ন মোকামেও এখন সীমান্তপথে আসা কমদামের পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে। আগে ঢাকার ব্যবসায়ীরা ট্রাকভর্তি মসলা কিনতে খাতুনগঞ্জে আসতেন। এখন সেই চাপ নেই। বৈধ আমদানিকারকদের কাছ থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে চাইছেন না কেউ।' তিনি বলেন, খাতুনগঞ্জের ব্যবসা পুরোপুরি চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ঈদের আগে সাধারণত কয়েক দফা দাম বাড়তে দেখা যায়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি উল্টো। অনেকে লোকসানের ভয়ে গুদামে পণ্য আটকে রেখেছেন। আবার কেউ কেউ কম দামে ছেড়ে দিচ্ছেন। কারণ সামনে আরও দাম কমার আশঙ্কা রয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন বলেন, ক্রেতারা কম দামে পণ্য পেয়ে খুশি। কিন্তু ব্যবসায়ীরা লাভ পাচ্ছে না। আগে যে পণ্য এনে কিছুটা লাভ করা যেত, এখন সেটাও হচ্ছে না। কারণ বাজারে অতিরিক্ত পণ্য। ঈদের আগে সাধারণত বাজারে হাঁটার জায়গা থাকে না। এবার মানুষ কিনছে ঠিকই, কিন্তু পাইকারি বাজারের মতো পরিবেশ নেই। আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক শান্ত। এলাচ ব্যবসায়ী নাছির উদ্দীন বলেন, বর্তমানে এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭৫০ টাকায়। আমদানি ভালো হওয়ায় বাজারে পণ্য বেশি। তবে বৈধ আমদানির চেয়ে সীমান্তপথে আসা পণ্যের প্রভাব বেশি। খুচরা ব্যবসায়ী হাজী খুইল্লা মিয়া ট্রেডার্সের হারুন বলেন, এবার মসলার বাজারে দাম কম। ক্রেতাদের জন্য এটা ভালো হলেও ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন সময়। কারণ আগের দামে পণ্য কিনে এখন কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় চোরাই পণ্য বাজারে ঢোকার পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। খাতুনগঞ্জের ইলিয়াস-বেপারী মার্কেট মসলা ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা জানান, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বড় বড় আমদানিকারকরা বিপুল পরিমাণ শুল্ক দিয়ে পণ্য আমদানি করেছেন। কিন্তু বাজার এখন চোরাই মসলায় সয়লাব হয়ে গেছে। এতে বৈধ আমদানিকারকদের বড় অংশ লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছেন। তারা বলেন, দুই বছর আগেও শত শত কনটেইনার শুকনা আদা আমদানি হতো। খাতুনগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন মোকামে সেই আদা যেত। কিন্তু বর্তমানে মোকামের ব্যবসায়ীরা খাতুনগঞ্জে আসেন না। কারণ ভারত থেকে চোরাপথে আদা ঢুকছে। ফলে বৈধ আমদানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে। দেশ থেকে মসলাজাতীয় পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাপথে দেশে ঢুকছে। চোরাকারবারিরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এ কাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। শুধু মসলা নয়, সীমান্ত দিয়ে আরও অনেক পণ্য ঢুকছে। চোরাচালান বন্ধে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র। অন্যদিকে বৈধ আমদানিকারকরা লোকসানের ভারে দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম। খাতুনগঞ্জ ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে বিভিন্ন মসলার দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১৫ টাকা কেজি। সাদা গোলমরিচ ১ হাজার ২২০ টাকা, এলাচ ৩ হাজার ৭৩০ থেকে ৩ হাজার ৭৫০ টাকা, দারুচিনি ৪১০ থেকে ৪২০ টাকা, বড় দারুচিনি ৩৫৫ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ২৭৫ টাকা, জিরা ৫৩০ টাকা, টাইগার জিরা ৫৩৫ টাকা, জাইফল ৭২০ টাকা, কিসমিস ৭৭০ টাকা, মিষ্টি জিরা ১৬২ টাকা এবং মোটা যতিক ২ হাজার ৮৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পাইকারি ক্রেতা না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। আদা ও রসুনের বাজারও তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারে মানভেদে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। গত সপ্তাহে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া রসুন এখন পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। তবে খুচরা বাজারে দেশি রসুনের দাম এখনও ২৪০ থেকে ৩৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে। আমদানিকৃত রসুন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৫০ টাকায়। দেশি আদা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং আমদানিকৃত আদা ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে দাম কম থাকলেও এর পেছনে রয়েছে অস্বাভাবিক সরবরাহ পরিস্থিতি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, মসলাজাতীয় পণ্যের আমদানি ও রাজস্বের তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৈধ আমদানির ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে। তবে অবৈধ পথে পণ্য প্রবেশ রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, রাজস্ব আয় বাড়াতে বৈধ আমদানিকে উৎসাহিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ বন্ধ করা না গেলে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। খাতুনগঞ্জের প্রবীণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিতে খাতুনগঞ্জ শুধু একটি বাজার নয়, বরং ভোগ্যপণ্যের অন্যতম নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। এখানকার বাজার ধাক্কা খেলে তার প্রভাব পড়ে সারা দেশের পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে। তাই সীমান্তপথে চোরাচালান বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সামনে আরও বড় সংকটে পড়তে পারে বৈধ আমদানি খাত। তাদের মতে, বর্তমানে বাজারে যে নীরবতা দেখা যাচ্ছে, সেটি কেবল ব্যবসায়িক মন্দা নয়; বরং এটি বৈধ বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য এক ধরনের সতর্ক সংকেত। কারণ বৈধ পথে পণ্য আমদানি কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সরকার রাজস্ব হারাবে, ব্যাংকিং খাতে এলসি কার্যক্রম কমবে এবং আমদানিনির্ভর ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow