ভার্চুয়াল কোর্ট বন্ধের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের কালো পতাকা মিছিল

সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ভার্চুয়ালি বিচার কাজ বন্ধের দাবিতে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করেছেন আইনজীবীরা।  বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। শুরুতে শতাধিক আইনজীবী কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের প্রতিটি ফ্লোর প্রদক্ষিণ করে অ্যানেক্স কোর্ট ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।  এ সময় আইনজীবীরা স্লোগান দেন। স্লোগানের ভাষা ছিল ‘আইনজীবী জনতা-গড়ে তোল একতা’, ‘ভার্চুয়াল না অ্যাকচুয়াল-অ্যাকচুয়াল’, শর্টলিস্ট না ব্রডলিস্ট-ব্রডলিস্ট’।  সমাবেশ থেকে আবারও সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের এজলাস কক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দিতে জোরালে দাবি জানিয়েছেন।  আইনজীবী নেতারা বলছেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে বলেছি সাংবাদিকরা যে কোন আদালতে প্রবেশ করবেন এবং মামলার শুনানি প্রত্যক্ষ করে জাতিকে জানাবেন। সাংবাদিকরা আদালতে প্রবেশ করতে না পারলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিচার বিভাগ। ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণের ন্যায় বিচার প্রাপ্তির অধিকার। আমরা অনুরোধ করব সাংবাদিকরা যেন দ্রুত আপিল বিভাগসহ সমস্ত আদালতে আগের মত ‘ফ্রি-অ্যাকসেস’ পায়। যা

ভার্চুয়াল কোর্ট বন্ধের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের কালো পতাকা মিছিল

সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ভার্চুয়ালি বিচার কাজ বন্ধের দাবিতে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করেছেন আইনজীবীরা। 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। শুরুতে শতাধিক আইনজীবী কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের প্রতিটি ফ্লোর প্রদক্ষিণ করে অ্যানেক্স কোর্ট ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। 

এ সময় আইনজীবীরা স্লোগান দেন। স্লোগানের ভাষা ছিল ‘আইনজীবী জনতা-গড়ে তোল একতা’, ‘ভার্চুয়াল না অ্যাকচুয়াল-অ্যাকচুয়াল’, শর্টলিস্ট না ব্রডলিস্ট-ব্রডলিস্ট’। 

সমাবেশ থেকে আবারও সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের এজলাস কক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দিতে জোরালে দাবি জানিয়েছেন। 

আইনজীবী নেতারা বলছেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে বলেছি সাংবাদিকরা যে কোন আদালতে প্রবেশ করবেন এবং মামলার শুনানি প্রত্যক্ষ করে জাতিকে জানাবেন। সাংবাদিকরা আদালতে প্রবেশ করতে না পারলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিচার বিভাগ। ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণের ন্যায় বিচার প্রাপ্তির অধিকার। আমরা অনুরোধ করব সাংবাদিকরা যেন দ্রুত আপিল বিভাগসহ সমস্ত আদালতে আগের মত ‘ফ্রি-অ্যাকসেস’ পায়। যাতে দেশের জনগণ জানতে পারে আদালতে কি হচ্ছে।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব, অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী, ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান বিশ্বাস রায়হান, ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলামসহ অনেকে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে অ্যানেক্স কোর্ট ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী নেতা সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, বুধবার (২২ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে মাত্র ১৭৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। যার মধ্যে হাইকোর্টের ৬৩টি বেঞ্চে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৫৬ মামলা। যা খুবই অপ্রতুল।

তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম প্রধান বিচারপতি ভার্চুয়ালি কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন। কিন্তু উনি তা করেননি। এজন্য আমরা কালো পতাকা কর্মসূচী পালন করছি। আমরা বলতে চাই যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার যৌক্তিকতার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

আইনজীবী নেতা মাহবুবুর রহমান খান বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু এতে দেখা যাচ্ছে জ্বালানির কোন সাশ্রয় হচ্ছে না। তিনি বলেন, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত দেড়শ থেকে দুইশত মামলার শুনানি হত। বুধবার চেম্বার আদালতসহ আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টে শুনানি হয়েছে মাত্র ৯৫টি মামলার। আর হাইকোর্টের ৬৩টি বেঞ্চে ১৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে বিচারের যে প্রক্রিয়া সেটা স্থবির ও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। আমরা মনে করি ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত রিভিউ করে দ্রুত নিয়মিত কোর্ট চালু করা উচিত। যদি মঙ্গলবারের মধ্যে এটা করা না হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

নিষ্পত্তি ৫৯৬ মামলা

ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চেম্বার আদালতসহ আপিল বিভাগে ১৮৯টি মামলার শুনানি হয়েছে। নিষ্পত্তি হয়েছে ৯৫টি মামলা। হাইকোর্টের ৬৩টি বেঞ্চে ১২৭১টি মামলার শুনানি হয়। নিষ্পত্তি হয়েছে ৫০১টি মামলা। অর্থাৎ উভয় বিভাগে নিষ্পত্তির সংখ্যা ৫৯৬ মামলা।

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow