ভেড়ামারায় ভোররাতে পদ্মায় ব্যাপক গুলিবর্ষণ, গুলিবিদ্ধ যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদীতে ঘণ্টাব্যাপী গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ শরিফুল ইসলাম ববি মনিপার্কের মালিক মনিরুল ইসলাম মনির ব্যক্তিগত সহযোগী ও দেহরক্ষী। তিনি বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মসলেমপুর গ্রামের মৃত আলম খন্দকারের ছেলে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে গোলাপনগর মনিপার্কের উত্তর দিকে পদ্মা নদীর চর দামুকদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। যদিও বিকেল পর্যন্ত বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি আলোচনায় আসে। ভেড়ামারা থানা, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে মনিরুল ইসলাম মনি এমভি বোল্ট ম্যারিনার নামে একটি উদ্ধারকারী স্পিডবোট কেনেন। শুক্রবার ভোরে তিনি শরিফুল ইসলাম ববি, বাদশা ঢালিম ও রেজা মোল্লাকে নিয়ে ট্রায়াল দিতে নদীতে বের হন। এ সময় তিনটি স্পিডবোটে থাকা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের সামনে এগোতে নিষেধ করে সংকেত দেয় এবং ফাঁকা গুলিও ছোড়ে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ, সংকেত উপেক্ষা করে এগিয়ে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলিবর্ষণ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদীতে ঘণ্টাব্যাপী গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ শরিফুল ইসলাম ববি মনিপার্কের মালিক মনিরুল ইসলাম মনির ব্যক্তিগত সহযোগী ও দেহরক্ষী। তিনি বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মসলেমপুর গ্রামের মৃত আলম খন্দকারের ছেলে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে গোলাপনগর মনিপার্কের উত্তর দিকে পদ্মা নদীর চর দামুকদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। যদিও বিকেল পর্যন্ত বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি আলোচনায় আসে।
ভেড়ামারা থানা, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে মনিরুল ইসলাম মনি এমভি বোল্ট ম্যারিনার নামে একটি উদ্ধারকারী স্পিডবোট কেনেন। শুক্রবার ভোরে তিনি শরিফুল ইসলাম ববি, বাদশা ঢালিম ও রেজা মোল্লাকে নিয়ে ট্রায়াল দিতে নদীতে বের হন। এ সময় তিনটি স্পিডবোটে থাকা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের সামনে এগোতে নিষেধ করে সংকেত দেয় এবং ফাঁকা গুলিও ছোড়ে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ, সংকেত উপেক্ষা করে এগিয়ে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু হয়।
এতে শরিফুল ইসলাম ববি গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া মনিরুল ইসলাম মনি, চালক বাদশা ঢালিম ও রেজা মোল্লাও আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রায় এক ঘণ্টায় অন্তত ১৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, একটি সূত্রের দাবি, স্পিডবোট থেকেও লাইসেন্সধারী অস্ত্র দিয়ে পাল্টা গুলি ছোড়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আহতদের প্রথমে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরিফুল ইসলাম ববিকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ববির শরীরে দুটি গুলি লাগে। একটি গুলি কাঁধের পাশ দিয়ে বাম হাত ভেদ করে বেরিয়ে যায়। অন্যটি বুকের বাম পাশের ওপরের অংশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।’
স্পিডবোটের চালক বাদশা ঢালিম বলেন, ‘প্রথমে মনি স্যার নৌযান চালাচ্ছিলেন। চারদিক থেকে গুলি শুরু হলে আমি স্টিয়ারিং হাতে নিই এবং সবাইকে নিচু হয়ে থাকতে বলি। এ সময় ভাঙা কাচে স্যারের মাথায় আঘাত লাগে এবং আমার পায়েও গুলি লাগে।’
লক্ষীকুন্ডা নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, স্পিডবোটটির বাইরের অংশে প্রায় ২৫টি এবং ভেতরে প্রায় ৩০টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ভেতর থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আমি নিজেই স্পট পরিদর্শন করেছি। নৌযানটি শক্তিশালী হওয়ায় জানমালের ক্ষতি হয়নি। গুলির চিহ্ন এক্সপার্ট টিম পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর আরো কিছু বিষয় আমাদের সামনে স্পষ্ট হবে। তবে বিষয়টিকে খুবই গুরুতর ভাবে নিচ্ছি।’ এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভেড়ামারা থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
What's Your Reaction?