ভোটে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত এমপির ক্ষমতায় কোনো পার্থক্য আছে কি

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা একই হলেও বাস্তবে দায়িত্ব, প্রভাব ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে আসা একজন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনের একজন নারী সদস্য দুইজনই পূর্ণাঙ্গ সংসদ সদস্য এবং সুযোগ-সুবিধাও এক, কিন্তু ক্ষমতার ভারসাম্য এবং দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে দুজনের ব্যবধান বিস্তর। দীর্ঘদিন ধরেই সংরক্ষিত আসনের পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনের দাবি উঠলেও কোনো সরকার তা গুরুত্ব দেয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলীয় হাই কমান্ডের আনুগত্য কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যরা বেশি অগ্রাধিকার পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ সাহান বলেছেন, সংরক্ষিত আসন থেকে উঠে এসে জাতীয় নেতৃত্বে পৌঁছানো নারীর সংখ্যা খুবই কম— এটি থেকেই বাস্তবতা স্পষ্ট হয়। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনে সরাসরি ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। ম

ভোটে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত এমপির ক্ষমতায় কোনো পার্থক্য আছে কি

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা একই হলেও বাস্তবে দায়িত্ব, প্রভাব ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে আসা একজন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনের একজন নারী সদস্য দুইজনই পূর্ণাঙ্গ সংসদ সদস্য এবং সুযোগ-সুবিধাও এক, কিন্তু ক্ষমতার ভারসাম্য এবং দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে দুজনের ব্যবধান বিস্তর।

দীর্ঘদিন ধরেই সংরক্ষিত আসনের পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনের দাবি উঠলেও কোনো সরকার তা গুরুত্ব দেয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলীয় হাই কমান্ডের আনুগত্য কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যরা বেশি অগ্রাধিকার পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ সাহান বলেছেন, সংরক্ষিত আসন থেকে উঠে এসে জাতীয় নেতৃত্বে পৌঁছানো নারীর সংখ্যা খুবই কম— এটি থেকেই বাস্তবতা স্পষ্ট হয়।

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনে সরাসরি ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। মূলত এরপর তাদের ভোটের মাধ্যমেই আনুপাতিক হারে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নির্বাচিত করা হয়। ফলে কোন দল কতটি সংরক্ষিত আসন পাবে, তা নির্ভর করে জাতীয় নির্বাচনে তাদের অর্জিত আসনের ওপর।

আইন অনুযায়ী, সরাসরি নির্বাচিত এবং সংরক্ষিত— উভয় ধরনের এমপির ক্ষমতা ও সুবিধা সমান। তারা সংসদে বিল উত্থাপন, বাজেট আলোচনা এবং ভোটদানে পূর্ণ অধিকার ভোগ করেন। একই সঙ্গে তারা সমান বেতন-ভাতা, শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা, প্লট বরাদ্দসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পান।

সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে— মাসিক ৫৫ হাজার টাকা বেতন, ১২,৫০০ টাকা নির্বাচনী এলাকা ভাতা, ৫,০০০ টাকা সম্মানী, ৭০,০০০ টাকা পরিবহন ভাতা, অফিস খরচ বাবদ ১৫,০০০ টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১,৫০০ টাকা, ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজ বাবদ ৬,০০০ টাকা, বার্ষিক ভ্রমণ খরচ ১,২০,০০০ টাকা, স্বেচ্ছাধীন তহবিল পাঁচ লাখ টাকা এবং টেলিফোন ভাতা ৭,৮০০ টাকা। এছাড়া সংসদ ভবন এলাকায় এমপি হোস্টেল সুবিধাও রয়েছে।

যদিও সংরক্ষিত আসনের এমপিদের নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা না থাকায় তাদের কাজের ধরনে পার্থক্য দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মাধ্যমে নির্বাচিত না হয়ে দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতে সংসদে আসায় তাদের দায়বদ্ধতা মূলত দলীয় নেতৃত্বের প্রতিই বেশি থাকে।

অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম মনে করেন, নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা না থাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংরক্ষিত আসনের এমপিদের যোগাযোগও স্পষ্ট নয়। এতে তাদের কাজ পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়।

এছাড়া মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় সরাসরি নির্বাচিত এমপি ও সংরক্ষিত আসনের এমপিদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বা দ্বন্দ্বও দেখা যায়। উন্নয়ন প্রকল্প বা সরকারি অনুদান বণ্টনের ক্ষেত্রে সংরক্ষিত আসনের এমপিরা অনেক সময় কম গুরুত্ব পান। আবার কিছু ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় রাজনৈতিক সংঘাতেরও সৃষ্টি হয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সাংবিধানিকভাবে সমান ক্ষমতা থাকলেও বাস্তব রাজনৈতিক কাঠামো ও দায়বদ্ধতার জায়গায় সরাসরি নির্বাচিত এবং সংরক্ষিত নারী এমপিদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow