মতলব উত্তরে ১৬ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে প্রধানের পদ শূন্য

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা ও প্রধানের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কিছু দপ্তরে পাশের উপজেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চলানো হলেও নিয়মিত তারা উপস্থিত না থাকায় সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ঘুরে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন দাপ্তরিক কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তদারকি ও দ্রুত বাস্তবায়নেও তৈরি হচ্ছে জটিলতা বর্তমানে মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, বিআরডিবি কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, দুইজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, আইসিটি কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জন এবং বন বিভাগের কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। এসব দপ্তরের কয়েকটি অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্

মতলব উত্তরে ১৬ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে প্রধানের পদ শূন্য
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা ও প্রধানের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কিছু দপ্তরে পাশের উপজেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চলানো হলেও নিয়মিত তারা উপস্থিত না থাকায় সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ঘুরে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন দাপ্তরিক কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তদারকি ও দ্রুত বাস্তবায়নেও তৈরি হচ্ছে জটিলতা বর্তমানে মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, বিআরডিবি কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, দুইজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, আইসিটি কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জন এবং বন বিভাগের কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। এসব দপ্তরের কয়েকটি অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা নিজ কর্মস্থলের পাশাপাশি মতলব উত্তরের দায়িত্ব পালন করায় তাদের পক্ষে নিয়মিত অফিস করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত, সেবা প্রদান, মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের গতি কমে যাচ্ছে। শুধু উপজেলা পরিষদের দপ্তরগুলোতেই নয়, শিক্ষা খাতেও দেখা দিয়েছে নেতৃত্ব সংকট। মতলব উত্তর উপজেলায় ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া উপজেলার ১১টি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এমনকি উপজেলার ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও ছেংগারচর সরকারি ডিগ্রি কলেজেও প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান মতলব উত্তর থানায়ও ওসি (তদন্ত) পদটি শূন্য রয়েছে। ফলে পুলিশের নিয়মিত তদন্ত কার্যক্রমেও অতিরিক্ত দায়িত্বের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অন্যদিকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একাধিক চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন সেবা নিতে উপজেলা পরিষদে এসে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার উপস্থিতির দিন না জানায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষকে একাধিকবার উপজেলা পরিষদে আসতে হচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জামাল হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়গুলোতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আপাতত দাপ্তরিক কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সেবা প্রদান ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে কিছুটা চাপ তৈরি হয়। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত কর্মকর্তা পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জনগণ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই কাঙ্ক্ষিত সরকারি সেবা পান, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow