মনিরুল হক চৌধুরীর ‘আমার স্বপ্ন আমার কুমিল্লা’ কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি

কুমিল্লা ৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী তাঁর নির্বাচনের আগে ঘোষিত ‘আমার স্বপ্ন আমার কুমিল্লা’ শীর্ষক ১১ দফার কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। শনিবার সকালে নগরীর মনির টাওয়ারে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।মতবিনিময়কালে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লার জনগণ যে আস্থা রেখে তাঁকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন, তিনি তাঁদের আস্থার প্রতিদানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ইতিমধ্যেই সংসদে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কুমিল্লার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে উপস্থাপন করেছেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন এখন কুমিল্লাবাসীর প্রাণের দাবি। এই বিভাগ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন এবং সংসদে এ বিষয়ে উপস্থাপনের জন্য নোটিশ দিয়েছেন।তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠা হয়েছে, যা গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বিল পাস করার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এই রেললাইন চালু হলে কুমিল্লা ও ঢাকার রেল দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার কম

মনিরুল হক চৌধুরীর ‘আমার স্বপ্ন আমার কুমিল্লা’ কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি

কুমিল্লা ৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী তাঁর নির্বাচনের আগে ঘোষিত ‘আমার স্বপ্ন আমার কুমিল্লা’ শীর্ষক ১১ দফার কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। শনিবার সকালে নগরীর মনির টাওয়ারে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময়কালে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লার জনগণ যে আস্থা রেখে তাঁকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন, তিনি তাঁদের আস্থার প্রতিদানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ইতিমধ্যেই সংসদে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কুমিল্লার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে উপস্থাপন করেছেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন এখন কুমিল্লাবাসীর প্রাণের দাবি। এই বিভাগ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন এবং সংসদে এ বিষয়ে উপস্থাপনের জন্য নোটিশ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠা হয়েছে, যা গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বিল পাস করার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এই রেললাইন চালু হলে কুমিল্লা ও ঢাকার রেল দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার কমবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এই প্রকল্পে অর্থ প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে এবং এখন শুধু সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।

পদুয়ারবাজারে মানবসৃষ্ট মরণফাঁদ ব্যারিকেড সরানো এবং ওভারপাস সম্প্রসারণ নিয়ে সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় সচিবের নেতৃত্বে একটি টিম পাঠিয়ে সরেজমিনে রিপোর্ট সংগ্রহ করেছেন এবং দ্রুত সময়ে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণ নিয়ে তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সরেজমিনে সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং টেকনিক্যাল টিম এ বিষয়ে কাজ করছে।

তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে কুমিল্লা ওয়াসা গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য চিঠি প্রদান করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে একটি মিটিংও করা হয়েছে। সরকার ইতিমধ্যেই ওয়াসা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়াও, তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নামতি উপজেলা বাস্তবায়নের বিষয়ে কমিটি হয়, আদর্শ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ, ফায়ার স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। সে লক্ষ্যে স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে। গোমতী নদীর উত্তরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পৃথক ক্যাম্পাসের বিষয়ে কাজ চলমান।

এছাড়াও, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুর্ঘটনা কবলিত গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে অন্তত ৭টি আন্ডারপাস নির্মাণ, সদর দক্ষিণ উপজেলা স্টেডিয়াম (ফুলতলী মাঠ) পুনরুদ্ধার, কুমিল্লা ইপিজেড-এর বিষাক্ত বর্জ্য প্রাকৃতিক খালে প্রবাহ বন্ধ, বিষাক্ত বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের বিষয়েও সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট আবেদনের প্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে কুমিল্লা নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, তবে কয়েকটি খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা জলাবদ্ধতা লাঘব করবে।

কুমিল্লায় কোটবাড়ি সমবায় কলেজ ও কেটিসিসির সমন্বয়ে "কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়" প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্বেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অগ্রগতির বিষয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করলে তিনি ইতিবাচক মতামত দেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সদর দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক ৫০ শয্যার ট্রমা ইউনিট চালু এবং মা ও শিশু হাসপাতালে ট্রমা ইউনিট চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় দ্রুতই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন। কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, বিমানবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং বেসামরিক বিমানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow