মহিলাদের মধ্যে বাড়ছে হার্ট ব্লকের ঝুঁকি, নেপথ্য কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞ

8 hours ago 3

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই নারীরা এখন পড়াশোনা, কর্মজীবন ও সামাজিক নেতৃত্বে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এই অগ্রগতির পাশাপাশি বাড়ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিও। বিশেষ করে হৃদরোগ এখন আর কেবল পুরুষদের রোগ নয়, বরং নারীদেরও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনারি আর্টারি ডিজিজ (CAD)বা হৃদযন্ত্রে ধমনি ব্লক হয়ে যাওয়া রোগ।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের মধ্যে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক নানা কারণ মিলেই এ সমস্যা বাড়ছে।

ভারতের কার্ডিওলজিস্ট ডা. হেমামালতি রথ জানাচ্ছেন, পুরুষদের তুলনায় নারীরা সাধারণত ১০ বছর দেরিতে CAD-তে আক্রান্ত হন। কিন্তু ধূমপান, ডায়াবেটিস কিংবা অকাল মেনোপজ হলে নারীদের শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে তুলনামূলক বেশি বয়সে হলেও নারীদের হার্ট ব্লক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।


নারীদের জন্য বিশেষ ঝুঁকির কারণগুলো

নারীদের হৃদরোগের ক্ষেত্রে এমন কিছু ঝুঁকির কারণ আছে, যা পুরুষদের তুলনায় আলাদা বা বেশি প্রভাব ফেলে। যেমন—

১. মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের ঘাটতি

২. গর্ভাবস্থায় জটিলতা (উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস)

৩. অকাল প্রসব

৪. পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)

৫. অকাল মেনোপজ

৬. রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া

৭. মাইগ্রেন ও দীর্ঘস্থায়ী অবসাদ

৮. অটোইমিউন রোগ (রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, সিস্টেমিক লুপাস বা SLE)


ডায়াবেটিস ও ধূমপানে দ্বিগুণ বিপদ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস আক্রান্ত নারীদের CAD-তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় সাতগুণ বেশি। অন্যদিকে ধূমপান নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে হৃদরোগের আশঙ্কা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে। এ কারণেই নারীরা অনেক সময় পুরুষদের তুলনায় আগেই এবং ভয়াবহভাবে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন।

মানসিক চাপ ও সামাজিক বাস্তবতা

বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে নিম্ন-আর্থসামাজিক স্তরের নারীরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে আছেন। গ্রামীণ নারীদের অপুষ্টি, চিকিৎসার অপ্রাপ্যতাসহ বিভিন্ন কারণে হৃদরোগের প্রকোপ বাড়ছে। অন্যদিকে আধুনিক নগর জীবনের চাপ, কর্মজীবী নারীদের মানসিক টানাপোড়েন, একাকিত্ব ও দীর্ঘস্থায়ী ডিপ্রেশনও হার্ট ব্লকের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ডা. রথের পরামর্শ, নারীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুস্থ খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান থেকে বিরত থাকা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

Read Entire Article