মৃত্যুর পর বাবার মুখ দেখতে চান না সন্তানরা

বাবার বিরুদ্ধে জমি দখল, নির্যাতন, একাধিক বিয়ে ও সন্তানদের প্রতি দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পাঁচ ভাই-বোন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের ধোপাবিলা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল মোতালেবের মেয়ে লিমা খাতুন। ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে একমাত্র মেয়ে লিমা খাতুন বলেন, ‘সব সন্তান বাবার স্নেহে বড় হয়, কিন্তু আমাদের জীবনে বাবা মানেই নির্যাতন। মৃত্যুর পরও আমরা তার মুখ দেখতে চাই না।’ লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, তাদের বাবা আব্দুল মোতালেব, চাচা আবু বক্কর ওরফে বাক্কা এবং সৎ চাচা জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ ভাই-বোন ও তাদের ফুফু জোসনা খাতুনকে জমিজমা নিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। লিমা জানান, তাদের দাদা মৃত আজিজুল হক জীবিত থাকতেই ছেলের চরিত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সে কারণেই তিনি নাতনি লিমা খাতুনের নামে ২৫ শতাংশ এবং বড় ছেলে ইকরামুলের নামে ২ একর ৫ শতাংশ জমি ২০১৬ ও ২০১৭ সালে রেজিস্ট্রি করে দেন। তার দাবি, দাদা মৃত্যুর আগ থেকেই পিতা ও তার

মৃত্যুর পর বাবার মুখ দেখতে চান না সন্তানরা

বাবার বিরুদ্ধে জমি দখল, নির্যাতন, একাধিক বিয়ে ও সন্তানদের প্রতি দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পাঁচ ভাই-বোন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের ধোপাবিলা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল মোতালেবের মেয়ে লিমা খাতুন।

ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে একমাত্র মেয়ে লিমা খাতুন বলেন, ‘সব সন্তান বাবার স্নেহে বড় হয়, কিন্তু আমাদের জীবনে বাবা মানেই নির্যাতন। মৃত্যুর পরও আমরা তার মুখ দেখতে চাই না।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, তাদের বাবা আব্দুল মোতালেব, চাচা আবু বক্কর ওরফে বাক্কা এবং সৎ চাচা জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ ভাই-বোন ও তাদের ফুফু জোসনা খাতুনকে জমিজমা নিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন।

লিমা জানান, তাদের দাদা মৃত আজিজুল হক জীবিত থাকতেই ছেলের চরিত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সে কারণেই তিনি নাতনি লিমা খাতুনের নামে ২৫ শতাংশ এবং বড় ছেলে ইকরামুলের নামে ২ একর ৫ শতাংশ জমি ২০১৬ ও ২০১৭ সালে রেজিস্ট্রি করে দেন।

তার দাবি, দাদা মৃত্যুর আগ থেকেই পিতা ও তার সহযোগীরা দাদার ওপর চাপ সৃষ্টি ও হামলা চালাতেন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনও জানেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিমা আরও অভিযোগ করেন, তার মা জীবিত থাকতেই পিতা একাধিক বিয়ে করেন। এসব নিয়ে পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকত। প্রতিবাদ করায় তার মা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। একপর্যায়ে ২০২৩ সালে তার মা মারা যান।

তিনি বলেন, বড় ভাই ইকরামুল বর্তমানে বিজিবিতে কর্মরত। ছুটিতে বাড়িতে এলে ভাড়াটে লোকজন এনে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ইকরামুল ও তার ছোট সন্তান আহত হয়ে কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

লিমা খাতুনের অভিযোগ, তার বাবা বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এমনকি একটি ধর্ষণ মামলার মীমাংসার জন্য দাদার রেখে যাওয়া জমিও বিক্রি করেছেন। পরে কাঞ্চনপুর এলাকায় আরেক নারীর সঙ্গে বসবাস শুরু করলে স্থানীয়রা তাদের বিয়ে পড়িয়ে দেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এছাড়া তাদের ফুফু জোসনা খাতুনের পৈতৃক সম্পত্তিও জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় জোসনা খাতুন আদালতে মামলাও করেছেন বলে জানান লিমা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লিমার বড় ভাবি ও ফুফু। তারা অভিযোগ করেন, পরিবারে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের সুযোগও তাদের দেওয়া হয়নি।

সবশেষে আবেগাপ্লুত হয়ে লিমা বলেন, ‘আমরা বাবার ভালোবাসা পাইনি, পেয়েছি শুধু ভয় আর নির্যাতন। এমন বাবার বিচার চাই।’

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মোতালেবের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow