যমুনায় বাড়ছে পানি, ভাঙছে বসতভিটা- ফসলি জমি

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ফলে আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে হাজারও মানুষের। জানা যায়, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলে যমুনার তীরে প্রবল ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সিরাজগঞ্জ সদর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও কাজীপুর উপজেলার অন্তত চার থেকে পাঁচ হাজার পরিবার দিশাহারা হয়ে ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া ও কাওয়াকোলা চরাঞ্চলের লোকজন জানান, জুনের শুরু থেকেই যমুনায় পানি বাড়তে শুরু করে। নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শুরু হয় নদীভাঙন। এ পর্যন্ত শতাধিক বসতঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। চরের কৃষক মোবারক আলী (৬৬) বলেন, ১৮ বিঘা জমি ছিল। ভাঙনে সব শেষ। দুই বছর আগে আবার চরেই ঘর বানাই। ভাঙন এখন সেই ঘরের দিকে এগোচ্ছে। এ নিয়ে ১৬ বার নদী আমার ঘর ভেঙেছে। শাহজাদপুর উপজেলার ধীতপুর গ্রামের ইয়ার আলী জাগো নিউজকে বলেন, নদীভাঙনে ধীতপুর ও কুড়সী গ্রাম এখন বিলীনের পথে। অনেকেই আশ্রয়হারা হয়ে অনত্র ঠাঁই নিয়েছেন। যমুনার ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে এ দুই গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, গ্রামে স্কুল, মসজিদ ও কত কিছু গড়ে উঠেছি

যমুনায় বাড়ছে পানি, ভাঙছে বসতভিটা- ফসলি জমি

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ফলে আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে হাজারও মানুষের।

জানা যায়, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলে যমুনার তীরে প্রবল ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সিরাজগঞ্জ সদর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও কাজীপুর উপজেলার অন্তত চার থেকে পাঁচ হাজার পরিবার দিশাহারা হয়ে ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া ও কাওয়াকোলা চরাঞ্চলের লোকজন জানান, জুনের শুরু থেকেই যমুনায় পানি বাড়তে শুরু করে। নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শুরু হয় নদীভাঙন। এ পর্যন্ত শতাধিক বসতঘর নদীতে বিলীন হয়েছে।

যমুনায় বাড়ছে পানি, ভাঙছে বসতভিটা- ফসলি জমি

চরের কৃষক মোবারক আলী (৬৬) বলেন, ১৮ বিঘা জমি ছিল। ভাঙনে সব শেষ। দুই বছর আগে আবার চরেই ঘর বানাই। ভাঙন এখন সেই ঘরের দিকে এগোচ্ছে। এ নিয়ে ১৬ বার নদী আমার ঘর ভেঙেছে।

শাহজাদপুর উপজেলার ধীতপুর গ্রামের ইয়ার আলী জাগো নিউজকে বলেন, নদীভাঙনে ধীতপুর ও কুড়সী গ্রাম এখন বিলীনের পথে। অনেকেই আশ্রয়হারা হয়ে অনত্র ঠাঁই নিয়েছেন। যমুনার ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে এ দুই গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার।

চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, গ্রামে স্কুল, মসজিদ ও কত কিছু গড়ে উঠেছিল। কিন্তু নদীতে সব বিলীন। কূলকিনারা না পেয়ে যে যেভাবে পেরেছে আশপাশে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙন বন্ধ করতে ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

যমুনায় বাড়ছে পানি, ভাঙছে বসতভিটা- ফসলি জমি

এদিকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে সিরাজগঞ্জ পাউবো সূত্র বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর হার্ড পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ও কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। যা হার্ড পয়েন্টে ১৫৫ ও কাজীপুর পয়েন্টে ১৯৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ঢলের পানির প্রচণ্ড চাপে নদীর তীরবর্তী অংশের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ডাম্পিং করে আপাতত ঝুঁকিমুক্ত করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীম জাগো নিউজকে বলেন, যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের সুবিধা পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এম এ মালেক/এএইচ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow