‘যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে নদীপাড়ে চলে আসেন, বাঁধ ভাঙছে’

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের সড়কটারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা বাঁধে আবারও ধস দেখা দিয়েছে। হঠাৎ বাঁধের ব্লক পিচিং নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের নদীপাড়ে ছুটে আসার আহ্বান জানান এক বৃদ্ধ। তাঁর সেই ঘোষণার আধা ঘণ্টার মধ্যেই শত শত মানুষ জড়ো হয়ে জিও ব্যাগে বালু ভরে ভাঙন ঠেকানোর কাজে অংশ নেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন ফরজ উদ্দিন (৭০)। স্থানীয়দের কাছে তিনি ডেসকা ব্যাপারী নামে পরিচিত। এ সময় নদীর তীব্র ঘূর্ণিস্রোতে বাঁধের ব্লক পিচিং ধসে নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত পাশের সড়কটারী জামে মসজিদে গিয়ে মাইকে ঘোষণা দেন, ‘যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে নদীপাড়ে চলে আসেন, বাঁধ ভাঙছে।’ তার ওই ঘোষণার আধা ঘণ্টার মধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ নদীপাড়ে এসে জিও ব্যাগে বালু ভরে ভাঙন ঠেকানোর কাজে নেমে পড়েন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই এলাকার প্রায় ২০০ গজ দূরে আর

‘যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে নদীপাড়ে চলে আসেন, বাঁধ ভাঙছে’

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের সড়কটারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা বাঁধে আবারও ধস দেখা দিয়েছে। হঠাৎ বাঁধের ব্লক পিচিং নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের নদীপাড়ে ছুটে আসার আহ্বান জানান এক বৃদ্ধ। তাঁর সেই ঘোষণার আধা ঘণ্টার মধ্যেই শত শত মানুষ জড়ো হয়ে জিও ব্যাগে বালু ভরে ভাঙন ঠেকানোর কাজে অংশ নেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন ফরজ উদ্দিন (৭০)। স্থানীয়দের কাছে তিনি ডেসকা ব্যাপারী নামে পরিচিত। এ সময় নদীর তীব্র ঘূর্ণিস্রোতে বাঁধের ব্লক পিচিং ধসে নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত পাশের সড়কটারী জামে মসজিদে গিয়ে মাইকে ঘোষণা দেন, ‘যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে নদীপাড়ে চলে আসেন, বাঁধ ভাঙছে।’

তার ওই ঘোষণার আধা ঘণ্টার মধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ নদীপাড়ে এসে জিও ব্যাগে বালু ভরে ভাঙন ঠেকানোর কাজে নেমে পড়েন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই এলাকার প্রায় ২০০ গজ দূরে আরও ৬০ মিটার ব্লক পিচিং ধসে পড়ে। চলতি জুলাই মাসে কাঁচকোল এলাকায় চারটি স্থানে প্রায় ২০০ মিটার ব্লক পিচিং ধসে যাওয়ায় তীররক্ষা বাঁধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, স্কুল, মসজিদ, বসতভিটা ও আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধটি ২০১৮ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বারবার জিও ব্যাগ ফেলে মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, শুধু জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। নদীর প্রবল স্রোত সরিয়ে নিতে অন্তত তিন থেকে চারটি টি-গ্রোয়েন নির্মাণ প্রয়োজন।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সর্দার মজিবর রহমান জানান, চলতি মাসে চার দফায় ২৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ১০টি স্থানে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রবল স্রোতের কারণে ফেলা জিও ব্যাগও অনেক ক্ষেত্রে সরে যাচ্ছে। তিনি স্থায়ী সমাধানের জন্য একসঙ্গে অন্তত এক লাখ জিও ব্যাগ বরাদ্দ এবং টি-গ্রোয়েন নির্মাণের দাবি জানান।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, নদীর পূর্ব তীরে নতুন চর জেগে ওঠায় স্রোত এখন পশ্চিম তীরঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির কারণে স্রোতের তীব্রতায় বাঁধে বারবার ধস দেখা দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে ২৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৪ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। ভাঙন রোধে কাজ চলমান রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow