যুদ্ধ-সংকটের মধ্যেই ইরানে দ্রব্যমূল্যে আগুন, চাপে সাধারণ মানুষ
যুদ্ধ পরিস্থিতি ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির দ্বৈত চাপে কঠিন সময় পার করছেন ইরানের সাধারণ নাগরিকরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দেশটির নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
রোববার (১০ মে) সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, জনগণকে বর্তমান বাস্তবতা বুঝে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি।
ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটির সার্বিক মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশে। তবে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে খাদ্যপণ্যের বাজারে। এক বছরের ব্যবধানে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে গড়ে ১১৫ শতাংশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক মাস আগেও যে অর্থে পরিবারের প্রয়োজনীয় বাজার করা যেত, এখন সেই অর্থে নিত্যপ্রয়োজন
যুদ্ধ পরিস্থিতি ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির দ্বৈত চাপে কঠিন সময় পার করছেন ইরানের সাধারণ নাগরিকরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দেশটির নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
রোববার (১০ মে) সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, জনগণকে বর্তমান বাস্তবতা বুঝে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি।
ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটির সার্বিক মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশে। তবে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে খাদ্যপণ্যের বাজারে। এক বছরের ব্যবধানে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে গড়ে ১১৫ শতাংশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক মাস আগেও যে অর্থে পরিবারের প্রয়োজনীয় বাজার করা যেত, এখন সেই অর্থে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারের আয়ের বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে শুধু চাল, ডাল ও মৌলিক খাদ্য কিনতেই।
এদিকে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দরও ভয়াবহভাবে কমে গেছে। এক বছর আগে যেখানে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৮ লাখ ৩০ হাজার রিয়াল পাওয়া যেত, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার রিয়ালে পৌঁছেছে। ফলে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম আরও বেড়ে গেছে।
অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট সীমিত থাকার প্রভাবও পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। টানা ৭২ দিনের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের কারণে স্টার্টআপ ও অনলাইনভিত্তিক ব্যবসাগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন। যদিও সরকারের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সীমিত পরিসরে নগদ সহায়তা ও ডিজিটাল কুপন চালু করেছে। তবে মাথাপিছু সহায়তার পরিমাণ ১০ মার্কিন ডলারেরও কম হওয়ায় তা সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে বড় বাজেট ঘাটতির কারণে সরকারও নতুন করে সহায়তা বাড়াতে পারছে না।
ইরানের ক্ষমতাসীন মহলের একাংশ মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক চাপকে দায়ী করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নানা বাধা ও সামুদ্রিক অবরোধের প্রভাবেও দেশটির অর্থনীতি আরও চাপে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র : আলজাজিরা