রঙিন বেনারসি আর নতুনের গন্ধ নিয়ে মাটির ঘরে নববধূ মিতু

যেই লাল ওড়নার আড়ালে লাজুক হাসি দিয়ে মুখ ঢাকার কথা ছিল নববধূর, সেই সোনালি পাড়ের ওড়নাটিই আজ তার শেষ বিদায়ের কাফন হয়ে রইল। পরনে দামি বেনারসি, গায়ে বিয়ের গয়না, আর দু’হাত ভরে রাঙানো টুকটুকে লাল মেহেদি— সবই ঠিক আছে, শুধু নেই সেই প্রাণোচ্ছ্বল হাসিমাখা মুখটি। হাসপাতালের স্ট্রেচারে নিথর পড়ে থাকা মার্জিয়া আক্তার মিতুর এই দৃশ্যটি দেখে আজ পাষাণ হৃদয়েও রক্তক্ষরণ হচ্ছে। মাত্র দুদিন আগে কত স্বপ্ন আর আশা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে পা বাড়িয়েছিলেন মিতু। নতুন সংসারে প্রবেশের সেই আনন্দযাত্রা যে মাঝপথেই শ্মশানে পরিণত হবে, তা কে জানত? খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকাটি মিতুর জীবনের সব স্বপ্নের সমাধি হয়ে রইল। তার চোখে লেগে থাকা আগামী দিনের রঙিন স্বপ্নগুলো এখন চিরতরে বন্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিতুর সেই হৃদয়বিদারক ছবিটি যেন এক নির্মম সত্যের প্রতিচ্ছবি। বিয়ের সাজে সজ্জিত মিতুর নিথর দেহের ওপর রাখা এক টুকরো সাদা কাপড় সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে— জীবন কতটুকু অনিশ্চিত। হাতের মেহেদির রঙ এখনো ফিকে হয়নি, কিন্তু যে হাতটি শক্ত করে ধরে আগামীর পথ চলার কথা ছিল, সেই হাত দুটি এখন নিস্পন্দ। খুলনা

রঙিন বেনারসি আর নতুনের গন্ধ নিয়ে মাটির ঘরে নববধূ মিতু
যেই লাল ওড়নার আড়ালে লাজুক হাসি দিয়ে মুখ ঢাকার কথা ছিল নববধূর, সেই সোনালি পাড়ের ওড়নাটিই আজ তার শেষ বিদায়ের কাফন হয়ে রইল। পরনে দামি বেনারসি, গায়ে বিয়ের গয়না, আর দু’হাত ভরে রাঙানো টুকটুকে লাল মেহেদি— সবই ঠিক আছে, শুধু নেই সেই প্রাণোচ্ছ্বল হাসিমাখা মুখটি। হাসপাতালের স্ট্রেচারে নিথর পড়ে থাকা মার্জিয়া আক্তার মিতুর এই দৃশ্যটি দেখে আজ পাষাণ হৃদয়েও রক্তক্ষরণ হচ্ছে। মাত্র দুদিন আগে কত স্বপ্ন আর আশা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে পা বাড়িয়েছিলেন মিতু। নতুন সংসারে প্রবেশের সেই আনন্দযাত্রা যে মাঝপথেই শ্মশানে পরিণত হবে, তা কে জানত? খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকাটি মিতুর জীবনের সব স্বপ্নের সমাধি হয়ে রইল। তার চোখে লেগে থাকা আগামী দিনের রঙিন স্বপ্নগুলো এখন চিরতরে বন্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিতুর সেই হৃদয়বিদারক ছবিটি যেন এক নির্মম সত্যের প্রতিচ্ছবি। বিয়ের সাজে সজ্জিত মিতুর নিথর দেহের ওপর রাখা এক টুকরো সাদা কাপড় সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে— জীবন কতটুকু অনিশ্চিত। হাতের মেহেদির রঙ এখনো ফিকে হয়নি, কিন্তু যে হাতটি শক্ত করে ধরে আগামীর পথ চলার কথা ছিল, সেই হাত দুটি এখন নিস্পন্দ। খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রাম থেকে শুরু হওয়া উৎসবের রেশ এখন বিষাদে রূপ নিয়েছে।  মিতুর মামা আবু তাহের কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, নতুন জীবন শুরুর আগেই মেয়েটা এভাবে চলে যাবে, ভাবতেও পারি না। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow