রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র
কিউবা ও ফ্লোরিডার মধ্যবর্তী স্থানে ১৯৯৬ সালে দুটি বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার জনসমক্ষে আসা এই মামলায় কাস্ত্রো এবং আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে তিনজন আমেরিকানসহ চারজনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে কিউবান-আমেরিকান গ্রুপ ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ এর মালিকানাধীন দুটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে। রাউল কাস্ত্রো সেসময় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন। বিমান দুর্ঘটনার পর আন্তর্জাতিকভাবে তাকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এখন তার বয়স প্রায় ৯৫ বছর। যেহেতু কিউবার কমিউনিস্ট শাসনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছে, তাই দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এই অভিযোগগুলোকে ‘আইনি ভিত্তিহীন একটি রাজনৈতিক চাল’ বলে দাবি করেছেন। মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চে ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বিমান ধ্বংস এবং আরমান্দো আলেহান্দ্রে জুনিয়র, কার্ল
কিউবা ও ফ্লোরিডার মধ্যবর্তী স্থানে ১৯৯৬ সালে দুটি বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার জনসমক্ষে আসা এই মামলায় কাস্ত্রো এবং আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে তিনজন আমেরিকানসহ চারজনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে কিউবান-আমেরিকান গ্রুপ ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ এর মালিকানাধীন দুটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
রাউল কাস্ত্রো সেসময় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন। বিমান দুর্ঘটনার পর আন্তর্জাতিকভাবে তাকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এখন তার বয়স প্রায় ৯৫ বছর।
যেহেতু কিউবার কমিউনিস্ট শাসনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছে, তাই দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এই অভিযোগগুলোকে ‘আইনি ভিত্তিহীন একটি রাজনৈতিক চাল’ বলে দাবি করেছেন।
মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চে ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বিমান ধ্বংস এবং আরমান্দো আলেহান্দ্রে জুনিয়র, কার্লোস আলবার্তো কস্তা, মারিও মানুয়েল দে লা পেনিয়া ও পাবলো মোরালেসের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক চারটি হত্যার অভিযোগও আনবে।
ব্ল্যাঞ্চে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের নাগরিকদের ভুলে যাননি এবং কখনো ভুলবেনও না।
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এই অভিযোগগুলো প্রমাণ করতে হবে। যার মধ্যে কিছু অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
হত্যার প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের আনা নতুন এই অভিযোগগুলো এমন এক সময় কিউবার কমিউনিস্ট নেতৃত্বের একজন প্রধান ব্যক্তিত্বকে নিশানা করেছে, যখন কিউবা তার একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র চাপের মুখোমুখি হচ্ছে।
আমেরিকান ইউনিভার্সিটির লাতিন আমেরিকার রাজনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম লিওগ্রান্ড বলেন, আমি মনে করি কৌশলটি হলো চাপ প্রয়োগ করে ধীরে ধীরে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাতে কিউবার সরকার নতি স্বীকার করে এবং আলোচনার টেবিলে আত্মসমর্পণ করে।
যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং দেশটিতে তেল সরবরাহের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে। এর ফলে সেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
এর আগে বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে মিলিয়ে সেদেশের জনগণের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দেন। রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র এবং একটি নতুন কিউবার মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন পথের প্রস্তাব দিচ্ছেন।
এই দ্বীপরাষ্ট্রের নাগরিকদের উদ্দেশে রুবিও বলেন, জিএইএসএ নামে পরিচিত কিউবান সামরিক বাহিনী পরিচালিত একটি বড় গোষ্ঠী, যারা জিএইএসএ নামে পরিচিতি, তারাই প্রধানত এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং খাদ্য সংকটের জন্য দায়ী, যা কি না দেশটির মানুষ ক্রমাগত সহ্য করে আসছে।
বন্দর থেকে শুরু করে পেট্রোল পাম্প এমনকি ফাইভ-স্টার হোটেল পর্যন্ত কিউবার অর্থনীতির বেশিরভাগ লাভজনক অংশের মালিকানা বা পরিচালনায় রয়েছে এই জিএইএসএ।
রুবিওর এই বার্তার প্রতিক্রিয়ায় কিউবার প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার এবং কিউবার জনগণের ওপর কালেক্টিভ পানিশমেন্ট বা যৌথ শাস্তি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।
কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ গঠনকে কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের মতো বোকামিকে ন্যায়সংগত করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন দিয়াজ-কানেল।
একইসঙ্গে বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃত করার অভিযোগও করেছেন তিনি। তার দাবি, কিউবা ‘তাদের নিজস্ব জলসীমায় বৈধ আত্মরক্ষার্থে’ এই পদক্ষেপ নিয়েছিল।
কাস্ত্রোকে বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার সম্ভাবনা সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ব্ল্যাঞ্চে জানান, তার বিরুদ্ধে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কাস্ত্রোকে ধরে আনার চেষ্টা করবে কি না সেটি নিশ্চিত করেননি তিনি। ব্ল্যাঞ্চে বলেন, আমরা আশা করি তিনি এখানে নিজের ইচ্ছায় হোক বা অন্য কোনো উপায়ে হোক হাজির হবেন।
আমেরিকান ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ লিওগ্রান্ড বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যদি কিউবানরা আলোচনার টেবিলে আত্মসমর্পণ না করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সাবেক এই নেতাকে ধরে আনতে প্রস্তুত।
টিটিএন
What's Your Reaction?