রাজনীতি ও সিনেমা নিয়ে খোলামেলা চঞ্চল চৌধুরী
বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃণাল সেনকে শুধু একজন নির্মাতা হিসেবেই নয়, বরং জীবনদর্শনের এক বড় শিক্ষক হিসেবে দেখেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম `আনন্দবাজার ডট কম’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন মৃণাল সেন, তার সিনেমা এবং বর্তমান সময়ে সিনেমা ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে। চঞ্চল চৌধুরী জানান, ছোটবেলায় গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকায় খুব সীমিতভাবে সিনেমা দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। পরে ভিসিআর যুগে নব্বইয়ের দশকে প্রথম মৃণাল সেনের সিনেমার সঙ্গে পরিচয় ঘটে তার। সেই সময় থেকেই তিনি ধীরে ধীরে এই নির্মাতার কাজের ভক্ত হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, উপমহাদেশের তিন মহান নির্মাতা হিসেবে তিনি সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটককে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন। তার মতে, মৃণাল সেনের সিনেমা বিষয়বস্তু ও নির্মাণশৈলীতে সবসময়ই আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার প্রসঙ্গে চঞ্চল জানান, পরিচালকের চরিত্রে কাজ করার আগে তিনি বেশ দ্বিধায় ছিলেন। তার ভাষায়, ‘মৃণাল সেন একজন মহীরুহ। তাকে পর্দায় ধারণ করা সহজ নয়।’ পরে পরিচালক সৃজিত মুখার্জীর অনুরোধে এবং নিজের আগ্রহে তিনি এই চরিত্রে কাজ করতে রাজি হন। চরিত্র
বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃণাল সেনকে শুধু একজন নির্মাতা হিসেবেই নয়, বরং জীবনদর্শনের এক বড় শিক্ষক হিসেবে দেখেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম `আনন্দবাজার ডট কম’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন মৃণাল সেন, তার সিনেমা এবং বর্তমান সময়ে সিনেমা ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে।
চঞ্চল চৌধুরী জানান, ছোটবেলায় গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকায় খুব সীমিতভাবে সিনেমা দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। পরে ভিসিআর যুগে নব্বইয়ের দশকে প্রথম মৃণাল সেনের সিনেমার সঙ্গে পরিচয় ঘটে তার। সেই সময় থেকেই তিনি ধীরে ধীরে এই নির্মাতার কাজের ভক্ত হয়ে ওঠেন।
তিনি বলেন, উপমহাদেশের তিন মহান নির্মাতা হিসেবে তিনি সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটককে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন। তার মতে, মৃণাল সেনের সিনেমা বিষয়বস্তু ও নির্মাণশৈলীতে সবসময়ই আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে।
অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার প্রসঙ্গে চঞ্চল জানান, পরিচালকের চরিত্রে কাজ করার আগে তিনি বেশ দ্বিধায় ছিলেন। তার ভাষায়, ‘মৃণাল সেন একজন মহীরুহ। তাকে পর্দায় ধারণ করা সহজ নয়।’ পরে পরিচালক সৃজিত মুখার্জীর অনুরোধে এবং নিজের আগ্রহে তিনি এই চরিত্রে কাজ করতে রাজি হন।
চরিত্রের প্রস্তুতির জন্য তিনি মৃণাল সেনের জীবন ও কাজ নিয়ে গভীরভাবে পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি তার সব সিনেমা আবারও দেখেন বলেও জানান চঞ্চল। তবে তার মতে, বইয়ের চেয়ে অনেক বেশি শেখা গেছে তার সিনেমা থেকেই।
সাক্ষাৎকারে রাজনীতি ও সিনেমার সম্পর্ক নিয়েও খোলামেলা মত দেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, একসময় মৃণাল সেন, সত্যজিৎ রায় ও ঋত্বিক ঘটকের মতো নির্মাতাদের ছবিতে সমাজ ও রাজনীতির স্পষ্ট প্রতিফলন থাকত। কিন্তু এখন অনেক নির্মাতা রাজনৈতিক বিষয় এড়িয়ে চলেন।
চঞ্চল চৌধুরীর মতে, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করলে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। তাই অনেক নির্মাতাই এখন নিরাপদ পথে হাঁটেন এবং বিনোদনকেই বেশি গুরুত্ব দেন। তার ভাষায়, আগে সিনেমা ছিল সমাজকে প্রশ্ন করার একটি মাধ্যম, কিন্তু এখন সেই জায়গাটি অনেকটাই সংকুচিত হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আগে যেভাবে চলচ্চিত্রে শাসকগোষ্ঠী বা সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরা হতো, এখন সেই সাহস অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় না। রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধ হলেই প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়, যা শিল্পীদের ওপর চাপ তৈরি করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
চলচ্চিত্রে কিছু মশা জন্মেছে: ওমর সানী
বিবাহিত নারীদের গানের বিচারক নন্দিত তিন তারকা
সাক্ষাৎকারের শেষাংশে চঞ্চল বলেন, যদি কখনো মৃণাল সেনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেতেন, তবে প্রথমেই তাকে প্রণাম জানাতেন এবং তার জীবনদর্শন নিজের জীবনে ধারণ করার চেষ্টা করতেন।
এমএমএফ
What's Your Reaction?