রাতে সিরিয়াল দিয়ে বললেন, তেল নিতেই যদি দুপুর হয় ইনকাম করবো কখন

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরও দেশের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেনি। বরং তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে আগের মতোই বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন যানবাহন চালকরা। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে এখনো দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, যা রাতভর চলমান থাকছে। কিছু কিছু পাম্প সন্ধ্যার পর বন্ধ হয়ে গেলেও পরদিন তেল পাওয়ার আশায় গাড়ির সিরিয়াল দিয়ে রেখেছেন অনেকে। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত ১১টায় রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়। সেখানে দেখা গেছে, পাম্প বন্ধ থাকলেও কর্মচারীরা পাহারার দায়িত্বে রয়েছেন। অনেক মোটরসাইকেল চালক তাদের যানবাহনে তালা লাগিয়ে সিরিয়ালে রেখে গেছেন। একইভাবে বহু প্রাইভেটকারও সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেগুলোর চালকরা বাইরে অবস্থান করছেন বা ফিরে গেছেন। কিছু চালক আবার গাড়ির ভেতরেই ঘুমিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে পাম্পের কর্মচারীরা বলেন, আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে পাম্পে তেল সরবরাহ শুরু হবে— এমন তথ্য জানার পর থেকেই অনেক যানবাহন চালক আগেভাগেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ আবার রাতে গাড়ি সিরিয়ালে রেখে বাসায় ফিরে গেছেন। অনেকেই পাম্প এলাকায় গাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে দিয়েছেন, যারা স

রাতে সিরিয়াল দিয়ে বললেন, তেল নিতেই যদি দুপুর হয় ইনকাম করবো কখন

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরও দেশের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেনি। বরং তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে আগের মতোই বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন যানবাহন চালকরা। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে এখনো দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, যা রাতভর চলমান থাকছে। কিছু কিছু পাম্প সন্ধ্যার পর বন্ধ হয়ে গেলেও পরদিন তেল পাওয়ার আশায় গাড়ির সিরিয়াল দিয়ে রেখেছেন অনেকে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত ১১টায় রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়।

সেখানে দেখা গেছে, পাম্প বন্ধ থাকলেও কর্মচারীরা পাহারার দায়িত্বে রয়েছেন। অনেক মোটরসাইকেল চালক তাদের যানবাহনে তালা লাগিয়ে সিরিয়ালে রেখে গেছেন। একইভাবে বহু প্রাইভেটকারও সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেগুলোর চালকরা বাইরে অবস্থান করছেন বা ফিরে গেছেন। কিছু চালক আবার গাড়ির ভেতরেই ঘুমিয়ে সময় কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে পাম্পের কর্মচারীরা বলেন, আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে পাম্পে তেল সরবরাহ শুরু হবে— এমন তথ্য জানার পর থেকেই অনেক যানবাহন চালক আগেভাগেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ আবার রাতে গাড়ি সিরিয়ালে রেখে বাসায় ফিরে গেছেন। অনেকেই পাম্প এলাকায় গাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে দিয়েছেন, যারা সকালে এসে পুনরায় লাইনে যোগ দেবেন।

পাম্পের কর্মচারী সারোয়ার বলেন, অনেক চালকই আশঙ্কা করছেন রাতে গাড়ি বাসায় নিলে সকালে তেল না পাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই তারা আগেই গাড়ি রেখে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে গেছেন। সকালে এ সিরিয়াল আরও দীর্ঘ হবে, ফলে অনেকেই আগেভাগেই অবস্থান নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার গাড়ির ভেতরেই রাত কাটাবেন।

মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে পাম্প কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সীমার বেশি তেল দিচ্ছে না, ফলে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এতে একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।

প্রাইভেটকার চালক রমজান বলেন, সোমবার সকালে তেল পাওয়ার আশায় আমি রাত ১০টায় (রোববার) গাড়ি লাইনে দিয়েছি। তবে সকালে এলেও তেল নিতে দুপুর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। দাম বাড়ার পরও যদি এমন পরিস্থিতি চলতে থাকে, তাহলে আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?।

মোটরসাইকেল চালক ইফাদ বলেন, সকাল থেকে গাড়ি চালাতে হবে। রাইড শেয়ার করেই আমি সংসার চালাই। তেল নিতে যদি দুপুর হয় ইনকাম করবো কখন? তাই রাতেই সিরিয়াল দিয়ে রাখলাম। গাড়ি তালা মেরে রেখে যাবো৷ সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে পাম্পে চলে আসবো।

আরেক চালক সুমন বলেন, ভোগান্তির শেষ নেই। দাম বাড়ার পরেও যদি এ অবস্থা হয়। সরকার বলছে, তেল আছে, তাহলে তেল যাচ্ছে কোথায়! এমন সংকট আমি জীবনেও দেখিনি।

তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত এ সংকট নিরসন করে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেবে সরকার, যাতে ভোগান্তি কমে আসে।।

এনএস/এমএএইচ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow