রোমাঞ্চকর রাইডের সঙ্গে ঈদ হোক আনন্দময়

এবারের ঈদে লম্বা ছুটি আর ঈদ মানেই বাড়তি আনন্দ। নতুন নতুন রাইডের সঙ্গে সেই বাড়তি আনন্দ উপভোগ করতে হলে চলে আসুন ফ্যান্টাসি কিংডম ও ফয়’স লেকে। ঢাকার কর্মব্যস্ত মানুষ যাতে ঈদের বিশেষ দিনটিতে পরিবার আর বন্ধুদের নিয়ে কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাতে পারেন, সেজন্য কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের সর্বপ্রথম বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ থিম পার্ক ফ্যান্টাসি কিংডম; পরবর্তীকালে ওয়াটার কিংডম, এক্সট্রিম রেসিং আর হেরিটেজ পার্ক প্রতিষ্ঠা করে। আর চট্টগ্রামের মানুষদের আন্তর্জাতিকমানের বিনোদনের স্বাদ দিতে প্রকৃতির কোল ঘেঁষে সেখানে স্থাপন করা হয় ফয়’স লেক কনকর্ড, যাতে রয়েছে সি ওয়ার্ল্ড আর আন্তর্জাতিকমানের রিসোর্ট। ফ্যান্টাসি কিংডম ফ্যান্টাসি কিংডম বাংলাদেশের সর্বপ্রথম স্বয়ংসম্পূর্ণ থিম পার্ক। এখানে যেমন রয়েছে থ্রিলিং সব রাইডস, সঙ্গে আছে বিশাল ওয়াটার কিংডম। আধুনিক বিনোদন জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আছে এক্সট্রিম রেসিং গো-কার্টসহ বিভিন্ন আর্কেড গেমসের সমারোহ। আবার বাংলার সৃষ্টি ধরে রেখে দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর ছোট আকৃতির নিদর্শন বানানো হয়েছে হেরিটেজ পার্কে। লিয়া রেস্টুরেন্টের মতো মাল্টি-কুইজিন রেস্টুরেন্টও আছে এ

রোমাঞ্চকর রাইডের সঙ্গে ঈদ হোক আনন্দময়

এবারের ঈদে লম্বা ছুটি আর ঈদ মানেই বাড়তি আনন্দ। নতুন নতুন রাইডের সঙ্গে সেই বাড়তি আনন্দ উপভোগ করতে হলে চলে আসুন ফ্যান্টাসি কিংডম ও ফয়’স লেকে। ঢাকার কর্মব্যস্ত মানুষ যাতে ঈদের বিশেষ দিনটিতে পরিবার আর বন্ধুদের নিয়ে কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাতে পারেন, সেজন্য কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের সর্বপ্রথম বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ থিম পার্ক ফ্যান্টাসি কিংডম; পরবর্তীকালে ওয়াটার কিংডম, এক্সট্রিম রেসিং আর হেরিটেজ পার্ক প্রতিষ্ঠা করে। আর চট্টগ্রামের মানুষদের আন্তর্জাতিকমানের বিনোদনের স্বাদ দিতে প্রকৃতির কোল ঘেঁষে সেখানে স্থাপন করা হয় ফয়’স লেক কনকর্ড, যাতে রয়েছে সি ওয়ার্ল্ড আর আন্তর্জাতিকমানের রিসোর্ট।

ফ্যান্টাসি কিংডম
ফ্যান্টাসি কিংডম বাংলাদেশের সর্বপ্রথম স্বয়ংসম্পূর্ণ থিম পার্ক। এখানে যেমন রয়েছে থ্রিলিং সব রাইডস, সঙ্গে আছে বিশাল ওয়াটার কিংডম। আধুনিক বিনোদন জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আছে এক্সট্রিম রেসিং গো-কার্টসহ বিভিন্ন আর্কেড গেমসের সমারোহ। আবার বাংলার সৃষ্টি ধরে রেখে দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর ছোট আকৃতির নিদর্শন বানানো হয়েছে হেরিটেজ পার্কে। লিয়া রেস্টুরেন্টের মতো মাল্টি-কুইজিন রেস্টুরেন্টও আছে এখানে। সঙ্গে রাত্রিযাপন আর বার-বি-কিউ পার্টির সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে রিসোর্ট আটলান্টিসে। 

ঢাকা জেলার আশুলিয়ায় সর্বপ্রথম এমন একটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক বানানো হয়, যা বিশ্বমানের বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়। পার্কটির উল্লেখযোগ্য রাইডগুলোর মধ্যে রয়েছে রোলার কোস্টার, ফেরিস হুইল, জুজু ট্রেন, বাম্পার কার, হ্যাপি ক্যাঙ্গারু, ম্যাজিক কার্পেট, মিনি টপ স্পিন, ড্রপ অ্যান্ড টুইস্ট, আকাশ পাড়ি বা স্কাই হুপার রাইড হারিকেন ৩৬০ ভিআরসহ ২০টির অধিক রাইডস। এ ছাড়া আধুনিক বিনোদন জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখানে তৈরি করা হয়েছে আর্কেড গেমস জোন। 

ফ্যান্টাসি কিংডমের ঠিক পাশেই তৈরি করা হয়েছে দেশের অন্যতম ওয়াটার থিম পার্ক এবং ওয়াটার কিংডম। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ওয়েভ রাইডস, স্লাইডস, জায়ান্ট পুল, লেজি রিভার এবং ডিজে পার্টি, যা দর্শনার্থীদের মন জুগিয়ে রাখে। 

ফ্যান্টাসি কিংডমের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ হেরিটেজ পার্ক, যেখানে ছোট-বড় রাইডের পাশাপাশি থাকছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থানের রেপ্লিকা, যা এখানে ঘুরতে আসা মানুষদের তাদের অস্তিত্বের মূলে নিয়ে যায়। 

এ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, আহসান মঞ্জিল, চুনাখোলা মসজিদ, সীতাকোট বিহারসহ আরও অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন। বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফ্যান্টাসি কিংডম প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে বিশ্বমানের গো-কার্ট রেসিংয়ের সুযোগ, এক্সট্রিম রেসিংয়ের মাধ্যমে। 

যদি ঈদের ছুটি কাটানোর জন্য অ্যাডভেঞ্চার আর থ্রিল হয় আপনার পছন্দ, তবে ফ্যান্টাসি কিংডমের এক্সট্রিম রেসিং আপনার জন্য হবে সঠিক জায়গা। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত গো-কার্ট ট্র্যাকে আপনি খুঁজে পাবেন উদ্যম আর বিশাল উত্তেজনা। এক্সট্রিম রেসিংয়ের আঁকাবাঁকা ট্রাকে গো-কার্টিং করার প্রতিটি মুহূর্তই শ্বাসরুদ্ধকর। ৪০০ মিটারেরও বেশি ট্র্যাকে চালানো হয় ফর্মুলা ওয়ান রেসিং কার, যা অভিযাত্রীদের দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা দিয়ে থাকে। 

ফ্যান্টাসি কিংডম সবসময়ই তাদের সেবা প্রদানের বিষয়ে বাকিদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে। এরই রেশ ধরে তারা ওয়াটার কিংডম প্রাঙ্গণে তৈরি করেছেন তিন তারকাবিশিষ্ট আটলান্টিস রিসোর্ট। এ রিসোর্ট প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যই ছিল এখানের বিনোদনপ্রেমীদের শহুরে কোলাহল থেকে দূরে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ করে দেওয়া। 

শুধু রাইডস দিয়েই ক্ষান্ত হয়ে যায়নি ফ্যান্টাসি কিংডম কর্তৃপক্ষ। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এখানে তৈরি করা হয়েছে লিয়া রেস্টুরেন্ট, আশুলিয়া ক্যাসেল, ওয়াটার টাওয়ার ক্যাফে এবং অ্যাকোয়া রেস্টুরেন্ট। এ রেস্টুরেন্টগুলোর মূল উদ্দেশ্যই হলো এখানে ঘুরতে আসা মানুষদের সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করা। ওয়াটার পার্কের দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য এখানে পুরুষ এবং মহিলাদের ভিন্ন চেঞ্জিং রুমের ব্যবস্থা করা আছে। 

ফয়’স লেক কনকর্ড
ঈদের খুশিকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দিতে চট্টগ্রামে ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ফয়’স লেক কনকর্ড ভিন্নরকম সাজে সজ্জিত হয়। ঈদের আনন্দমুখর দিনটি আরও রঙিন করতে পরিবার-পরিজন আর বন্ধুবান্ধব নিয়ে দলে দলে এখানে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। চট্টগ্রাম শহরের কোলাহলের ভেতরেই মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ফয়’স লেক কনকর্ডের অবস্থান। এ পার্ক কমপ্লেক্সে রয়েছে ফয়’স লেক কনকর্ড, সি ওয়ার্ল্ড কনকর্ড আর ফয়’স লেক রিসোর্ট।

চোখ ধাঁধানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর অত্যাধুনিক বিনোদন ব্যবস্থার এক অনন্য সমাহার ফয়’স লেক কনকর্ড। চট্টগ্রাম শহরের কোলাহলের ভেতরেই মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এ পার্কটি। এখানে বিশাল লেকটি ঘিরে যেমন রয়েছে চমৎকার পাহাড়রাশি, তেমনি রয়েছে বিরল প্রজাতির বিভিন্ন গাছগাছালি। ফয়’স লেক কনকর্ডের পাশেই রয়েছে চট্টগ্রামের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ড কনকর্ড। বিশাল জলরাজ্যের বিনোদনের জন্য অত্যাধুনিক সব রাইডস নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এ ওয়াটার পার্কটি। পাহাড় আর লেকের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর আধুনিক স্থাপত্যের সংযোজনে গড়ে তোলা হয়েছে বিনোদনের এই প্রাণকেন্দ্র।

ফয়’স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কটি সাজানো হয়েছে শিশু ও বড়দের বিভিন্ন রাইডস দিয়ে। এখানের রাইডগুলোর মধ্যে ফেরিস হুইল, বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, পাইরেট শিপ, পনি অ্যাডভেঞ্চার, বেবি ড্রাগন, সার্কাস ট্রেন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ফয়’স লেক কমপ্লেক্সে এবারের ঈদে নতুন যোগ হতে যাচ্ছে এয়ারবর্ন শট, ফ্লাইং বাস, হ্যাপি ক্যাঙ্গারু, সান অ্যান্ড মুন, স্কাই হুপার এবং রিয়ালিটি রাইড হারিকেন ৩৬০। এ রাইডগুলো অতিথিদের আনন্দ ও রোমাঞ্চের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে।

সি ওয়ার্ল্ড কনকর্ডের মূল আকর্ষণই হলো কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট ঢেউসম্পন্ন ওয়েভ পুল। এ ছাড়াও এ পার্কে আছে ফ্যামিলি পুল, টিউব স্লাইড, মাল্টি স্লাইড, ডুম স্লাইড, পে জোনসহ নানা রাইডস। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য এখানে পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য আলাদা চেঞ্জ রুম ও লকারের ব্যবস্থাও আছে। 

ব্যস্ত জীবনের দিনগুলো থেকে সাময়িক অবসর নিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিরিবিলি পরিবেশে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে ফয়’স লেক রিসোর্ট একটি আদর্শ স্থান। এখানে রুমের সঙ্গে আপনি কমপ্লিমেন্টারি পাচ্ছেন সকালে নাশতা ও ফয়’স লেক কনকর্ডের সব রাইডস উপভোগ করার সুযোগ। ফয়’স লেক রিসোর্টে অতিথিদের জন্য রয়েছে বার-বি-কিউ নাইট, বোটিংয়ের সুবিধা, কনসার্টসহ নানারকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। 

এ ছাড়া পাশে অবস্থিত লেক ভিউ রেস্টুরেন্টে রয়েছে প্রকৃতির মাঝে জোৎস্না রাতে ডিনারের সুযোগ। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য ফয়’স লেক বেসক্যাম্প অন্যতম প্রিয় স্থান। বেসক্যাম্পটি প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি করে খোলামেলা জায়গা আর রোমাঞ্চকর নানা অ্যাকটিভিটির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নানা ধরনের কার্যক্রম রয়েছে বেসক্যাম্পে। রয়েছে দলগত সমন্বয় গড়তে অন গ্রাউন্ড অ্যাকটিভিটি, টিম বিল্ডিং গেম, ট্রেজার হান্টসহ বিভিন্ন অ্যাকটিভিটি। 

এ ছাড়া রয়েছে কায়াকিং, আর্চারি, ক্রাইম্বিং ওয়াল, উড কেবিন, ট্রি টপ অ্যাকটিভিটি, হিউম্যান ফুসবল ইত্যাদি। তবে ক্যাম্পের অন্যতম আকর্ষণ জিপ লাইন। আরও আছে ওয়াটার জিপ লাইন, জায়ান্ট সুইং, স্মল সুইং, জায়ান্ট হ্যামক ইত্যাদি। ঈদের আনন্দকে বাড়তি মাত্রা দিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ হয়েছে ফয়’স লেকে। ঈদের ছুটি বিশেষভাবে উপলব্ধি করতে ভ্রমণপিপাসুরা চলে আসতে পারেন পাহাড়ের মাঝে খোলা আকাশের নিচে আর্চারি, ক্লাইম্বিং ওয়াল, ট্রি টপ অ্যাকটিভিটি কিংবা বিশাল ফয়’স লেকের ওপর দিয়ে জিপ লাইন করতে।

ঈদের বিশেষ আয়োজন কেন্দ্র করে ফ্যান্টাসি কিংডম ও ফয়’স লেক কমপ্লেক্স সাজানো হয় বর্ণিল সজ্জায়। এই দিনের বিশেষ আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিজে পার্টি, ম্যাজিক শো, লাইভ পারফরম্যান্স, ডান্স শো, র‌্যাফেল ড্র, অ্যাক্রোব্যাট শোসহ আরও অনেক কিছু। 

তারকাদের উপস্থিতিতে ঈদের ছুটির দিনগুলো আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। পার্কগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগত অতিথিদের জানমাল ঝুঁকিহীন রাখার জন্য নিয়োজিত থাকে পুলিশ, আনসার ও কনকর্ড গ্রুপের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী। তাই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে ফ্যান্টাসি কিংডম আর ফয়’স লেকই অন্যতম সেরা জায়গা।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow