শখ থেকে স্বপ্নপূরণ, আঙুর চাষে সফল উদ্যোক্তা জাহিদ

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরায় শখের বসে শুরু হওয়া আঙুর চাষ এখন রীতিমতো আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে করা এই চাষেই বাগানে ঝুলছে থোকায় থোকায় আঙুর। স্থানীয়দের বিস্মিত করে আঙুর চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন জাহিদ হোসেন নামের এক উদ্যোক্তা। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নে জাহিদ হোসেনের এই আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই কৌতূহলী মানুষের আগমন ঘটছে। মঙ্গলবার (১৩ মে) সরেজমিনে আঙুর বাগান ঘুরে কেরালকাটা গ্রামের জাহিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি পৈত্রিকভাবে পাওয়া দুই বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন। গত বছর ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিডিও দেখে তিনি এ চাষে উদ্বুদ্ধ হন। তিনি জানান, গত বছরের জুন মাসে আড়াই বিঘা জমি লিজ নিয়ে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেন। কারও কোনো পরামর্শ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে আঙুর গাছের চারা এনে রোপণ করেন। এরপর জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ, নিয়মিত পানি দেওয়া, নেট, বেষ্টনী ও রশির মাচা তৈরি করে গত ১১ মাস ধরে চারাগুলোর নিবিড় পরিচর্যা করেন। চলতি মাসে প্রতিটি গাছেই থোকায় থোকায় আঙুর ধরেছে। এই বাগা

শখ থেকে স্বপ্নপূরণ, আঙুর চাষে সফল উদ্যোক্তা জাহিদ

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরায় শখের বসে শুরু হওয়া আঙুর চাষ এখন রীতিমতো আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে করা এই চাষেই বাগানে ঝুলছে থোকায় থোকায় আঙুর।

স্থানীয়দের বিস্মিত করে আঙুর চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন জাহিদ হোসেন নামের এক উদ্যোক্তা। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নে জাহিদ হোসেনের এই আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই কৌতূহলী মানুষের আগমন ঘটছে।

মঙ্গলবার (১৩ মে) সরেজমিনে আঙুর বাগান ঘুরে কেরালকাটা গ্রামের জাহিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি পৈত্রিকভাবে পাওয়া দুই বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন। গত বছর ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিডিও দেখে তিনি এ চাষে উদ্বুদ্ধ হন।

তিনি জানান, গত বছরের জুন মাসে আড়াই বিঘা জমি লিজ নিয়ে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেন। কারও কোনো পরামর্শ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে আঙুর গাছের চারা এনে রোপণ করেন। এরপর জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ, নিয়মিত পানি দেওয়া, নেট, বেষ্টনী ও রশির মাচা তৈরি করে গত ১১ মাস ধরে চারাগুলোর নিবিড় পরিচর্যা করেন। চলতি মাসে প্রতিটি গাছেই থোকায় থোকায় আঙুর ধরেছে।

এই বাগানের আঙুর স্বাদে অনন্য। সবুজ ও বেগুনি রঙের আঙুরগুলো যেন নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। আধুনিক কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকেই স্বল্প পরিসরে আঙুরের চারা রোপণ করেন জাহিদ হোসেন।

পরিপাটি এই বাগান ঘুরে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে নজরকাড়া আঙুরের থোকা। প্রতিদিন বাগান দেখতে ভিড় করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনেকেই বলছেন, এ অঞ্চলের মাটিতে আঙুর চাষ সম্ভব—এ ধারণা আগে তাদের ছিল না। জাহিদ হোসেন জানান, প্রথমবারের এই বাগানে লিজসহ প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, শুরুতে বাগান করার বিষয়টি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর অবগত ছিল না। পরে বিষয়টি জানার পর তারা সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানান, খুলনা বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ আঙুর বাগান পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম ইতোমধ্যে বাগানটি পরিদর্শন করেছেন।

পরিদর্শনকালে বাগান উদ্যোক্তা জাহিদুল ইসলাম ধানঘরা প্রাইমারি স্কুল থেকে বাগান পর্যন্ত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান। পাশাপাশি সেখানে বিদ্যুতায়নের দাবিও তোলেন তিনি।

বাজারে আঙুরের চাহিদা থাকায় দেশীয়ভাবে উৎপাদিত আঙুরের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার সুস্বাদু আঙুর আমদানিকৃত আঙুরের তুলনায় মানের দিক থেকেও বেশ উৎকৃষ্ট।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেলে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের আশা করছেন জাহিদ হোসেন। শখের বসে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন এলাকার কৃষিতে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow