অজুহাত
তোমার সাক্ষাৎ পেতে অনেক হাতের প্রয়োজন হতো;
তাই হাতগুলো খুব যত্নে রেখে দিতাম।
কখনো পকেটে
কখনো মানিব্যাগে
কখনো পর মানুষের ঠোঁটে! চলতো হাতের হাঁটাহাঁটি ...
তুমি কী হাতের ব্যবহার করোনি?
তুমিও করেছো!
প্রেমের হাত তিনটি, ডান বা বামহাতের প্রয়োজন হতো না!
প্রেমে অজুহাতের প্রয়োজন খুব বেশি
তাই তোমাকে অজুহাতে পেয়েছিলাম!
তোমার আমার প্রেমে বেঁচে থাকুক নস্টালজিক অজুহাত ...
ফুলের কলঙ্ক
পথের কোমর ধরে হেঁটে যায় পথচারী, গাছপালা নদীনালা সবুজময় পাখি
অদূরে ফুলের গন্ধ ভাসে , ছুঁয়ে যায় পথচারীময় পথ
ফুল— জানেনা তার শরীরে কিসের গন্ধ
হাওয়ার প্রশ্নে উত্তর পাওয়া যায় ফুলেরও কলঙ্ক আছে …
সুঘ্রাণ
ফুলের গন্ধ আটকাবার স্পর্ধা দ্যাখায়নি কেউ
ফুল আপন ইচ্ছায় বিলিয়েছে সমস্ত যৌবন
আমিই পৃথিবীর প্রথম পুরুষ দেহময় যৌবন ফুলের সুঘ্রাণ
প্রকৃতির নিয়ম ভেঙে জমিয়ে রেখেছি গন্ধ
আমার শরীরে তৃষ্ণার্ত নদীর ক্ষুধার্ত ঢেউ
ঝাঁক বেঁধে আঁচড়ে পড়ে নদী — গন্ধ পাওয়ার মুগ্ধতায় …
মায়াজাল
দিনরাত্রির দেহখণ্ডে সূর্য মায়াজাল
সূর্যে অন্ধকার অদৃশ্য কী অদ্ভুত, দৃশ্য নিঃস্ব
দিন ফুরালে অসম্ভব সুন্দর রাত্রিদূত পাখির কন্ঠ।
ঋতুতে ঋতুর অমিল সময়ের যোগফল গভীর।
তুমি হাসলে আমি কৌতূহল ,অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল
হাসি কান্না জীবন অভিনয়, সত্যমিথ্যা হৈচৈ বর্ণনা।
তবে রঙ বিরহের মিথ্যে না!
আমি উড়তে চাই ঘুরতে চাই তোমার দেহমন,
আকাশ জমিন, খেতে চাই ইচ্ছের বিরুদ্ধে তোমায়!
বিচ্ছেদে জীবন্ত প্রেম, উল্লাসে মৃত
কে বলে ভালোবাসা বন্ধন!
তুমি ভালো না বাসলে
একফোঁটা জল দিবে?
আমি রাত্রি শেষে ... দিনকে দেবো একবিন্দু শিশির ..
পৃথিবীর রূপ
বালিশের তলে একগুচ্ছ চিন্তা রেখেছিলাম।
বালিশ উল্টাতেই বেরিয়ে আসে গন্ধ
গন্ধ টানতে টানতে কখন যে জন্ম নেয় প্রশ্নোত্তর
পৃথিবী কী, কী তার পরিচয় —
পুরুষ বলতে বুঝলাম পৃথিবী এবং নারী তার সৌন্দর্য ...
জন্মান্ধ পাখি
ঘুড়ি উড়াতে গিয়েছিলাম ছয় পাতার তিন বৃক্ষে
ডালপালাবিহীন আমাকে দ্যাখা যাচ্ছে না —
উপরে ঘুড়ি ও বৃক্ষ আমাকে উড়াচ্ছে, আমি উড়ছি ইচ্ছা মতো, যেমন উড়ে তীব্র মিথ্যা!
উড়তে উড়তে দ্যাখি সাপকে ইঁদুর খাচ্ছে,
সাপের গর্তে সোনা ব্যাঙ হাসছে নির্দ্বিধায়!
মা আমাকে নামাতে গেলেন, নয় শব্দের কোটায়
জন্মের আমেজে আমাকে শুদ্ধ করার জন্য
অথচ মা আমার জন্মান্ধ পাখি পবিত্রতার, তাই ইঁদুর খেলা
বুঝতে পারেননি, এরবারও!
আমি বুঝতে পেরেছি ঠিকই,রাজনীতির গন্ধ বিশ্বময়…
অস্তিত্ব
একটি ব্ল্যাকবোর্ড ঘষে ক্ষয় করেছি আস্ত চক
দাগ টেনে কিছু শব্দের সেলাই
তারপর তোমার রূপচর্চা, গুণাবলি দিয়ে নির্মাণ অবয়ব
কালো রঙের দেহে ফুটে উঠেছে ধবধবে সাদা উজ্জ্বল্য
সাদা উজ্জ্বল্যের ওপর দিয়ে একটি সাদা টান
একটানে কেটে গেল সমস্ত দেহ বিশেষ
সাদা দিয়ে সাদাকে কালো করা যায় সহজেই, সবসময়
তার উপর ডাস্টার চালিয়ে দিলে শেষ হয়ে যায় অস্তিত্ব ...
মৃত্যু
এইতো সেদিন, অক্ষি ভরে নিচ্ছিলাম কবিতার স্বাদ
তখন দক্ষিণের হাওয়ায় উড়ছে ভাত-রঙের ওড়না
লিপস্টিক শূন্য ঠোঁট দ্যাখেছি স্পষ্ট —
ডোয়া গেসে শুয়ে আছে নদী, কাঁশফুল না থাকলেও যৌবন ছুঁয়েছে কূল ;
জানলা টপকে ঢুকেছে পর পোলার রক্তাক্ত চোখ, আজ কবিতা ঘুমিয়ে গেছে রাতে, পুলিশ দখল করেছে বাজার
শুনলাম জানলার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটি নিখোঁজ
মেয়েটির পেট ভর্তি জল, ঘুমের ট্যাবলেট সনাক্ত হয়েছে ...!
পাতার প্রেম
মাঝেমধ্যে আমাদের কাগজের কথা চলতো
পাতায় পাতায় প্রেম
কাগজ ছিঁড়ার ভয়ে, জন্মাতো কৌতূহল
তাই শূন্য-মাঠে প্রেম উড়াইতাম ভাঙা ভাঙা গানে
তথ্যপ্রযুক্তির ধাঁধায়
আগের মতো প্রেম পাওয়া যায়না নদীর স্রোতে
অনেকটাই শুকিয়ে গেছে নদী পাঠ, তবুও —
মানহীন প্রেম বাঁচাতে ছুটে চলি
এখন আর পাতা জন্মায় না, জন্মায় অবহেলা ...
ক্ষুধার্ত চিঠি
অপেক্ষার খামে মোড়ানো একখানা চিঠি
চিঠির মেঝেতে বসে আছে আমাদের ভাঙাপ্রেম
পিষে যাওয়া ফুলের সুঘ্রাণ
আর
নদী রেখায় লাইনগুলোতে বয়ে গ্যাছে
সকাল সন্ধ্যার ট্রেন
ক্ষোভের পারফিউম
বাতাসের ধাক্কায় পাল্টে গ্যাছে সময়
ফোঁটা ফোঁটা জল-শব্দে
না পাওয়া আগুনে পুড়ছে দীর্ঘদিনের ক্ষুধার্ত অবয়ব ...
অধিকার
ব্যালকনিতে একটি মৌমাছির ঝাঁক বসেছে — অধিকারে!
ফুলগুলি ঝরে গ্যাছে —
সুবাস ছুঁয়েছে অসভ্য হাওয়া ;
ব্যালকনি আমার, ফুলগুলো আমার, সুবাস কেন পরের?
অথচ,
দ্যাখুন —
মধু ভাঙার কালে কামড় দিয়েছে অকালে …