সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং শিল্প খাতকে টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও পরিবেশবান্ধব করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিল্পোদ্যোক্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং উৎপাদন খাতের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, বিশ্ব যখন দ্রুত নিম্ন-কার্বনভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের শিল্প খাতেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এখন আর বিকল্প নয়, বরং সময়ের দাবি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি: টেকসই উৎপাদনের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে এমন অভিমত জানানো হয়। বিপিজিএমইএ এবং এসটিএসি ফাউন্ডেশন যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি, শিল্পে জ্বালানি দক্ষতা, গ্রিন ফাইন্যান্স, নীতিগত সহায়তা, বিনিয়োগের সুযোগ, কার্বন নিঃসরণ কমানোর কৌশল এবং বাংলাদেশে টেকসই উৎপাদন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভাপতির বক্তব্যে বিপিজিএমইএ’র সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দি

সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই
দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং শিল্প খাতকে টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও পরিবেশবান্ধব করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিল্পোদ্যোক্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং উৎপাদন খাতের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, বিশ্ব যখন দ্রুত নিম্ন-কার্বনভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের শিল্প খাতেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এখন আর বিকল্প নয়, বরং সময়ের দাবি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি: টেকসই উৎপাদনের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে এমন অভিমত জানানো হয়। বিপিজিএমইএ এবং এসটিএসি ফাউন্ডেশন যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি, শিল্পে জ্বালানি দক্ষতা, গ্রিন ফাইন্যান্স, নীতিগত সহায়তা, বিনিয়োগের সুযোগ, কার্বন নিঃসরণ কমানোর কৌশল এবং বাংলাদেশে টেকসই উৎপাদন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভাপতির বক্তব্যে বিপিজিএমইএ’র সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে প্লাস্টিকসহ দেশের শিল্প খাত ভুগছে। জ্বালানি ছাড়া দেশের শিল্প চলতে পারে না। অন্তত একটি মেশিন যদি সৌরশক্তিতে চালানো সম্ভব হয়, তাহলে অন্য মেশিনগুলোও সচল রাখা সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রসারে চলতি বছরের বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলো আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক। ফলে শিল্পোদ্যোক্তারা এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে আরও উৎসাহী হবে। বিপিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি শহীদুল ইসলাম হেলাল তার বক্তব্যে বলেন, সৌর বিদ্যুতের অনেক উপকরণ আমদানিতে সরকার শুল্ক-কর কমিয়েছে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে শিল্প উদ্যোক্তারা সেসব সুবিধা পুরোপুরি পাচ্ছেন না। এই সুবিধাগুলোর সুফল পুরোপুরি মিললে শিল্প-কারখানাগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও বাড়বে। মূল প্রবন্ধে প্রকৌশলী মো. হাসান মাহমুদ খান বলেন, একটি সৌর প্যানেল একবার স্থাপন করলে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করলে প্রায় ২০ বছর ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে কেবল লাইনের স্থায়িত্ব ২০ থেকে ২৫ বছর। রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তুলনামূলক কম হওয়ায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক। আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেমন টেকসই উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখে, তেমনি এটি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতেও সহায়ক হবে। কারণ রপ্তানি বাজারগুলো ও বিদেশি ক্রেতারা এখন পণ্য কেনার বেলায় পরিবেশের দিকটি বিবেচনায় রাখছে। সমাপনী বক্তব্যে বিপিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, শুধু সৌর বিদ্যুতের উপকরণের বেলায় নয়, প্লাস্টিকের খেলনার অনেক উপকরণ আমদানিতে ব্যবসায়ীরা নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন, তাদের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এ ধরণের ভোগান্তিগুলো থেকে মুক্তি না পেলে ব্যবসায়ীরা তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। এসিআইয়ের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আনিসুর রহমান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি; বিশেষ করে শিল্প অবকাঠামোগুলোতে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহী। কিন্তু সৌর বিদ্যুৎ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত ধারণা কম। তাই অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না কিভাবে কি করবেন, কত খরচ হবে, পে-ব্যাক পিরিয়ড কত। তাই এ বিষয়ে পরিস্কার ধারণা থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিপিজিএমইএর সহ-সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক, পরিচালক নূর আলম বাচ্চু ও এ টি এম সাইয়েদুর রহমান বুলবুল, আরএফএল গ্রুপের ম্যানেজার সালাহউদ্দিন সিকদারসহ প্লাস্টিক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেমিনারে অংশ নেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow