‘সকাল পৌনে ১০টায় ট্রেন, টিকিটের জন্য সেহরি খেয়েই চলে এসেছি’

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কমিউটার ট্রেনের টিকিট পেতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক যাত্রীকে টিকিট সংগ্রহ করতে চার ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) কথা হয় মাহাদি হাসানের সঙ্গে। তিনি আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে যাবেন। তার ট্রেন তিতাস কমিউটার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা। কিন্তু ঈদের শেষ মুহূর্তে যাত্রী বেশি হওয়ার আশঙ্কায় তিনি সেহরি খেয়ে ভোরেই স্টেশনে চলে আসেন। মাহাদি বলেন, ‘আমি প্রায় চার ঘণ্টা আগে স্টেশনে এসেছি কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য। সেহরি খাওয়ার পর শুধু ফজরের নামাজ পড়ে চলে এসেছি। ঈদের আগে যাত্রী অনেক বেশি হয়, তখন ট্রেনে ওঠাও কষ্টকর হয়ে যায়। আবার আমার শারীরিক সমস্যাও আছে, তাই ছাদে উঠতে পারবো না। এজন্য আগেই চলে এসেছি। একটু আগে টিকিট হাতে পেয়েছি। দুটি টিকিট কেটে একটি আসন পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।’ একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গতকাল থেকে আমাদের ছুটি হয়েছে। অফিস শেষ হতে হতে অনেক রাত হয়ে যায়। তাই আজ ভোরে পরিবার নিয়ে কমলাপুর

‘সকাল পৌনে ১০টায় ট্রেন, টিকিটের জন্য সেহরি খেয়েই চলে এসেছি’

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কমিউটার ট্রেনের টিকিট পেতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক যাত্রীকে টিকিট সংগ্রহ করতে চার ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) কথা হয় মাহাদি হাসানের সঙ্গে। তিনি আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে যাবেন। তার ট্রেন তিতাস কমিউটার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা। কিন্তু ঈদের শেষ মুহূর্তে যাত্রী বেশি হওয়ার আশঙ্কায় তিনি সেহরি খেয়ে ভোরেই স্টেশনে চলে আসেন।

মাহাদি বলেন, ‘আমি প্রায় চার ঘণ্টা আগে স্টেশনে এসেছি কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য। সেহরি খাওয়ার পর শুধু ফজরের নামাজ পড়ে চলে এসেছি। ঈদের আগে যাত্রী অনেক বেশি হয়, তখন ট্রেনে ওঠাও কষ্টকর হয়ে যায়। আবার আমার শারীরিক সমস্যাও আছে, তাই ছাদে উঠতে পারবো না। এজন্য আগেই চলে এসেছি। একটু আগে টিকিট হাতে পেয়েছি। দুটি টিকিট কেটে একটি আসন পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।’

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গতকাল থেকে আমাদের ছুটি হয়েছে। অফিস শেষ হতে হতে অনেক রাত হয়ে যায়। তাই আজ ভোরে পরিবার নিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এসেছি। কমিউটার ট্রেনের টিকিট আগে থেকে দেওয়া হয় না। যাত্রা শুরুর দুই ঘণ্টা আগে টিকিট বিক্রি করা হয়। তাই আগে না এলে আসন পাওয়া কঠিন।’

jagonews24

চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের যাত্রী জালাল উদ্দিনও ভোরেই স্টেশনে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের আয় কম, তাই আন্তঃনগর ট্রেন বা দামি বাসে চড়া সম্ভব হয় না। কমিউটার ট্রেনই ভরসা। সকাল পৌনে ৯টায় আমার ট্রেন হলেও সেহরি খেয়ে ভোরেই স্টেশনে চলে এসেছি।’

ঈদযাত্রার এ দিনে সকালে কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারের সামনে শত শত মানুষের ভিড় দেখা যায়। কাউন্টার থেকে টিকিটপ্রত্যাশীদের লাইন গিয়ে ঠেকেছে স্টেশনের পার্কিং এলাকা পর্যন্ত।

এদিকে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা শুরুর দুই ঘণ্টা আগে মোট আসনের ২৫ শতাংশ টিকিট স্ট্যান্ডিং (আসনবিহীন) হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব টিকিটের জন্যও কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

কমিউটার ট্রেনের যাত্রীরা জানান, সাধারণ সময়ে একটি টিকিট কিনলেই একটি আসন পাওয়া যায়। কিন্তু ঈদের সময় পরিস্থিতি ভিন্ন। একটি আসন নিশ্চিত করতে অনেক ক্ষেত্রে তিনটি টিকিট পর্যন্ত কিনতে হচ্ছে, এর মধ্যে একটি আসনের এবং বাকি দুটি স্ট্যান্ডিং টিকিট।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেক সময় একটি আসনের বিপরীতে তিনগুণ যাত্রী হয়ে যায়। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের ক্ষেত্রে আসন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

ইএআর/বিএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow