সন্তানকে সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা

বাবা-মা বা দাতা যাতে সম্পত্তি দান করার পরও জীবদ্দশায় সেটি ভোগ ও ব্যবহার করতে পারেন, সে বিধান রেখে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২’-এ দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার (লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট) সংরক্ষণের মাধ্যমে সম্পত্তি দানের বিধান সংযোজন করা হয়েছে। বর্তমান আইনে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান না থাকায় বাবা, মা, বা দাদা-দাদি সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও নিজ জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের আইনি নিশ্চয়তা পেতেন না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে বিষয়টিকে স্পষ্ট আইনি ভিত্তি ও সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।

সন্তানকে সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা
বাবা-মা বা দাতা যাতে সম্পত্তি দান করার পরও জীবদ্দশায় সেটি ভোগ ও ব্যবহার করতে পারেন, সে বিধান রেখে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২’-এ দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার (লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট) সংরক্ষণের মাধ্যমে সম্পত্তি দানের বিধান সংযোজন করা হয়েছে। বর্তমান আইনে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান না থাকায় বাবা, মা, বা দাদা-দাদি সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও নিজ জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের আইনি নিশ্চয়তা পেতেন না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে বিষয়টিকে স্পষ্ট আইনি ভিত্তি ও সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও জীবদ্দশায় তা ভোগ-দখলের অধিকার বাবা-মায়ের হাতে রাখার বিধান যুক্ত করে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার। তিনি আরও বলেন, আমাদের মুসলিম আইনে হেবা হয়, হিন্দু আইনে উইল হচ্ছে, আবার আমাদের মুসলিম আইনে ওয়াসিয়তনামা হচ্ছে। বিদ্যমান হেবা ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা যদি হেবা করে দেন, সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাত থেকে সম্পত্তি চলে যাচ্ছে। তারা নিজেদের সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং পরবর্তী সময়ে সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ছেলে-মেয়ে যদি তাদের না দেখে, তাহলে কিন্তু বাবা-মার আর কিছু করার থাকে না, তারা অসহায় হয়ে পড়ছেন।    আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, হেবার পাশাপাশি ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন) গিফটের একটা ধারা রয়েছে, যেখানে সাধারণভাবেই হেবার বাইরে গিয়ে যে কেউ গিফট করতে পারেন। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের বিধান যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত এই নিয়ম অনুযায়ী, সন্তানকে সম্পত্তি গিফট করার পরও বাবা-মা তাদের জীবদ্দশায় সেটি ভোগদখল করার অধিকার নিজের কাছে রেখে দিতে পারবেন। আইনমন্ত্রী বলেন, বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় দুই পক্ষের সম্মতি ছাড়া কেউই ওই সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না। সন্তান যেমন বিক্রি করতে পারবে না, তেমনি বাবা বা মা চাইলেও এককভাবে বিক্রি করতে পারবেন না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow