সবকিছুকে ষড়যন্ত্র বলাও ভুল, ষড়যন্ত্র নেই বলাও ভুল: শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সবকিছুকে ষড়যন্ত্র বলাও ভুল, ষড়যন্ত্র নেই বলাও ভুল। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবকিছুকে ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। আবার ষড়যন্ত্রের অস্তিত্বও অস্বীকার করা যায় না।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর নির্যাতনের শিকার হওয়া বিএনপির মতো একটি দল কেন ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেবে। মজলুমের কষ্ট আরেক মজলুমই সবচেয়ে ভালো বোঝে।’
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে স্থানীয় দৈনিক জালালাবাদ আয়োজিত সুধী সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা চাই না দেশ আবার চোরাবালিতে হারিয়ে যাক কিংবা অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করুক। এ দেশের মানুষের এত ত্যাগ, এত কোরবানি, ১ হাজার ৪০০ শহীদের আত্মদান এবং অসংখ্য আহত ও পঙ্গু মানুষের ত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে পারে না। জাতিকে সেই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্য দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি গণরায় পেয়েছিলাম, যা ছিল দেশ বদলের প্রত্যাশার প্রতীক। তখন সরকার-বিরোধী বা বিএনপি-জামায়াত কেউ আলাদা ছিল না, সবা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সবকিছুকে ষড়যন্ত্র বলাও ভুল, ষড়যন্ত্র নেই বলাও ভুল। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবকিছুকে ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। আবার ষড়যন্ত্রের অস্তিত্বও অস্বীকার করা যায় না।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর নির্যাতনের শিকার হওয়া বিএনপির মতো একটি দল কেন ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেবে। মজলুমের কষ্ট আরেক মজলুমই সবচেয়ে ভালো বোঝে।’
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে স্থানীয় দৈনিক জালালাবাদ আয়োজিত সুধী সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা চাই না দেশ আবার চোরাবালিতে হারিয়ে যাক কিংবা অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করুক। এ দেশের মানুষের এত ত্যাগ, এত কোরবানি, ১ হাজার ৪০০ শহীদের আত্মদান এবং অসংখ্য আহত ও পঙ্গু মানুষের ত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে পারে না। জাতিকে সেই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্য দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি গণরায় পেয়েছিলাম, যা ছিল দেশ বদলের প্রত্যাশার প্রতীক। তখন সরকার-বিরোধী বা বিএনপি-জামায়াত কেউ আলাদা ছিল না, সবাই সেই গণরায়ের পক্ষে কথা বলেছিল। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর অনেকে অবস্থান বদলে ফেললেন। তারা ভাবলেন, এখন যা ইচ্ছা তাই করা যাবে। অথচ জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করলে তার পরিণতি কী হয়, তার নজির বাংলাদেশের ইতিহাসেও আছে, বিশ্ব ইতিহাসেও আছে।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদী আমলের সব অন্যায়-অবিচারের অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা হোক। কিন্তু বাস্তবে সে ধরনের পরিবর্তন এখনও দৃশ্যমান নয়। এটা শুধু আমাদের কথা নয়, সরকারি দলের মহাসচিবও বলেছেন সরকার গঠনের পরও তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি বরং দুর্নীতি বেড়েছে। আমরা বহুদিন ধরে এ কথাগুলো বলে আসছি, কিন্তু তখন সেগুলো অস্বীকার করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি শুধু একটি দলের ভোটে নির্বাচিত মানুষের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি পুরো দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাই দেশের সব নাগরিকের প্রতি সমান দায়িত্ব পালন করতে হবে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। স্পিকার নিজেও সতর্ক করে বলেছেন, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে জাতির সামনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই সমাজকে সচেতন রাখে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনে। তাই গণমাধ্যমকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, দৈনিক জালালাবাদ-এর সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা মুকতাবিস উন নূর, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রব, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং ফিলিপাইন ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপুসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।