সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক ২০২৬: মার্কিন বায়ারদের নজর কাড়ল বাংলাদেশ

উত্তর আমেরিকার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন অ্যাপারেল সোর্সিং এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ট্রেড ফেয়ার ‘সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক (Sourcing at MAGIC) ২০২৬’-এ বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করেছে।  সোমবার (১০ আগস্ট) থেকে মেলাটি ১২ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার লাস ভেগাস ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর আর্থিক সহযোগিতায় এবং কনস্যুলেট জেনারেল বাংলাদেশ, লস অ্যাঞ্জেলসের ব্যবস্থাপনায় এ মেলায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ২০টি প্রতিষ্ঠান ২১টি বুথে অংশগ্রহণ করেছে।  বৈশ্বিক পোশাক প্রস্তুতকারক, টেক্সটাইল ও ফ্যাব্রিক সরবরাহকারী, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবক, খুচরা বিক্রেতা বা বায়ার, ব্র্যান্ড, ডিজাইনার এবং অন্যান্য পেশাদারদের সংযুক্ত করার একটি প্রধান আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্‌ম হিসেবে ‘সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক’ বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। এই ইভেন্টটি আন্তর্জাতিক প্রস্তুতকারক এবং সরবরাহকারীদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ এবং নতুন ব্যবসা ও সোর্সিংয়ের সুযোগ অন্বেষণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। ম্যাজিক ২০২৬ মেলার এবারের সংস্করণে বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ

সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক ২০২৬: মার্কিন বায়ারদের নজর কাড়ল বাংলাদেশ

উত্তর আমেরিকার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন অ্যাপারেল সোর্সিং এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ট্রেড ফেয়ার ‘সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক (Sourcing at MAGIC) ২০২৬’-এ বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করেছে। 

সোমবার (১০ আগস্ট) থেকে মেলাটি ১২ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার লাস ভেগাস ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর আর্থিক সহযোগিতায় এবং কনস্যুলেট জেনারেল বাংলাদেশ, লস অ্যাঞ্জেলসের ব্যবস্থাপনায় এ মেলায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ২০টি প্রতিষ্ঠান ২১টি বুথে অংশগ্রহণ করেছে। 

বৈশ্বিক পোশাক প্রস্তুতকারক, টেক্সটাইল ও ফ্যাব্রিক সরবরাহকারী, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবক, খুচরা বিক্রেতা বা বায়ার, ব্র্যান্ড, ডিজাইনার এবং অন্যান্য পেশাদারদের সংযুক্ত করার একটি প্রধান আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্‌ম হিসেবে ‘সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক’ বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। এই ইভেন্টটি আন্তর্জাতিক প্রস্তুতকারক এবং সরবরাহকারীদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ এবং নতুন ব্যবসা ও সোর্সিংয়ের সুযোগ অন্বেষণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে।

ম্যাজিক ২০২৬ মেলার এবারের সংস্করণে বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৪টি দেশের প্রদর্শকবৃন্দ অংশ নেন। মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ৮০০-রও বেশি বুথ বা স্টল স্থান পায়। মেলাটি প্রায় ৭০টি দেশ থেকে আসা আনুমানিক ৮,৫০০ দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করেছে, যার মধ্যে ৭৩ শতাংশেরও বেশি বায়ার এবং উচ্চ-পর্যায়ের নীতিনির্ধারক ছিলেন। 

বিশ্বব্যাপী পোশাক এবং টেক্সটাইল খাতে দেশের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতা করার শক্তি তুলে ধরতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সক্ষমতা তুলে ধরেছে। মেলায় ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’ আন্তর্জাতিক বায়ার এবং শিল্প অংশীদারদের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের ২০টি কোম্পানি তাদের বৈচিত্র্যময় পণ্যসামগ্রী প্রদর্শন করে, যা উচ্চমূল্য, প্রিমিয়াম এবং ভ্যালু-অ্যাডেড (মূল্য সংযোজিত) পণ্য তৈরিতে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রদর্শিত পণ্যগুলোর মধ্যে ছিল নিটওয়্যার ও ওভেন গার্মেন্টস, উচ্চ-মানের ক্যাজুয়াল অ্যাপারেল, কটন শার্ট, টি-শার্ট, ফাউন্ডেশনাল ওয়ার্ডরোব আইটেম, বিশেষায়িত ওয়াশড প্রোডাক্ট, কাঁচা টেক্সটাইল, ফিনিশড ডেনিম এবং পরিশীলিত ও উচ্চ-মার্জিনের ফর্মালওয়্যার। এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রদর্শকবৃন্দ তাদের আন্তর্জাতিক বায়ার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিশ্ববাজারে রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছেন।

তিন দিনব্যাপী এই ইভেন্টে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দর্শনার্থী, বায়ার এবং শিল্প অংশীদারদের সমাগম ঘটে। বাংলাদেশি প্রদর্শকবৃন্দ অসংখ্য বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) মিটিং এবং বাণিজ্য আলোচনায় অংশ নেন, প্রচুর বাণিজ্যিক ইনকোয়ারি বা অনুসন্ধান লাভ করেন এবং আন্তর্জাতিক বায়ারদের সাথে সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ও রপ্তানি অর্ডারের সম্ভাবনা যাচাই করেন। এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা প্রদর্শন, নতুন বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপন এবং একটি নির্ভরযোগ্য সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে।

‘সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক ২০২৬’-এ বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ মূলত দেশের রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণ ও সম্প্রসারণ, ভ্যালু-অ্যাডেড তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের প্রচার, আন্তর্জাতিক বায়ারদের আকর্ষণ করা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা জোরদার করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে। এই ইভেন্টটি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য তাদের প্রতিযোগিতামূলক যোগ্যতা, পণ্যের গুণগত মান, উৎপাদন ক্ষমতা এবং বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন ও অ্যাপারেল বাজারের ক্রমাগত পরিবর্তনশীল চাহিদা মেটাতে তাদের প্রস্তুতি প্রদর্শনের একটি মূল্যবান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে । রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর প্রতিনিধিত্বকারী 

‘সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক ২০২৬’-এ বাংলাদেশের এই সফল অংশগ্রহণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ, শক্তিশালী বায়ার সম্পর্ক এবং বাংলাদেশী তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের দৃশ্যমানতা ও পরিচিতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow