স্বাধীন সাংবাদিকতা রোধ করলে সত্যের প্রবাহ বিলীন হয়ে যায় : মাহফুজ আনাম
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ১৮ মাসের সরকারের সময় গণমাধ্যমে আগুন লেগেছে। এর মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতা ব্যর্থ হয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতা যারা রোধ করে, তারা সত্যের প্রবাহকে বিলীন করে দেয়।
শনিবার (০৯ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের কনফারেন্স রুমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে ‘সমকালীন প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যম’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
পাঠকদের গুরুত্বারোপ করে মাহফুজ আনাম বলেন, ডেইলি স্টার সার্ভাইভ করে কেবল আপনাদের (পাঠক) পড়ার কারণেই। আমাদের মূল দায়িত্ব পাঠকদের স্বার্থ তুলে ধরা। আর পাঠক বা সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরা মানেই দেশের কথা বলা। আমরা মানুষের মূল্যবোধ ভিত্তিক সাংবাদিকতা ফিরিয়ে আনতে চাই।
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, গণমাধ্যমের রূপ আরও বলিষ্ঠ হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সেটা হলো না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সত্য বলার ঝুঁকি নিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সত
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ১৮ মাসের সরকারের সময় গণমাধ্যমে আগুন লেগেছে। এর মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতা ব্যর্থ হয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতা যারা রোধ করে, তারা সত্যের প্রবাহকে বিলীন করে দেয়।
শনিবার (০৯ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের কনফারেন্স রুমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে ‘সমকালীন প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যম’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
পাঠকদের গুরুত্বারোপ করে মাহফুজ আনাম বলেন, ডেইলি স্টার সার্ভাইভ করে কেবল আপনাদের (পাঠক) পড়ার কারণেই। আমাদের মূল দায়িত্ব পাঠকদের স্বার্থ তুলে ধরা। আর পাঠক বা সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরা মানেই দেশের কথা বলা। আমরা মানুষের মূল্যবোধ ভিত্তিক সাংবাদিকতা ফিরিয়ে আনতে চাই।
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, গণমাধ্যমের রূপ আরও বলিষ্ঠ হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সেটা হলো না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সত্য বলার ঝুঁকি নিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সত্য প্রকাশ করা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও গণমাধ্যমকে সেই দায়িত্ব পালন করতে হয়, কারণ এটি গণতন্ত্রের একটি সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত প্রতিষ্ঠান।
দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, সরকারনির্ভর অর্থায়নে রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি থাকে, আবার করপোরেট বিনিয়োগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা সম্পাদকীয় স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শক্তিশালী গণমাধ্যম গড়ে তুলতে যেমন বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন, তেমনি সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক টিকে থাকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নুরুন্নবী। তিনি বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতার প্রধান মাধ্যম। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখাও সমান জরুরি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মাজিদুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সবসময় প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে। তরুণ প্রজন্মকে সত্যনিষ্ঠ ও নৈতিক সাংবাদিকতায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন প্রশংসনীয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নব-নির্বাচিত সভাপতি মো. ইব্রাহিম খলিলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান-এর সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আলকামা রমিন, সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।