২১ মিনিটেই বদলে যাবে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক

জারা হাসান আধুনিক ব্যস্ত জীবনে বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হলো, সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারা। একদিকে অফিসের চাপ, অন্যদিকে ঘরের কাজ, আর অবসরে ডিজিটাল স্ক্রিন আসক্তি। সবকিছু মিলিয়ে সন্তান যেন নিজের অজান্তেই একটু দূরে সরে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকত্বের নতুন এক কৌশল দারুণ সাড়া ফেলেছে, যার নাম ‘৭-৭-৭ রুল’ বা সাত-সাত-সাত নিয়ম। দিনে মাত্র ২১ মিনিটের এই জাদুকরী কৌশলটি সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের সম্পর্ক পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মটি শুনতে যতটা সহজ, এর প্রভাব ততটাই সুদূর প্রসারী। শিশু মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সারাদিন সন্তানের পেছনে ছুটে বেড়ানোর চেয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি মুহূর্তে তাদের পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া বেশি জরুরি। ‘৭-৭-৭’ নিয়মটি মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ৭ মিনিট, স্কুল বা বাইরে থেকে ফেরার পর ৭ মিনিট এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ৭ মিনিট। সবমিলিয়ে এই ২১ মিনিট সন্তানের জন্য বরাদ্দ করতে হবে। তবে প্রধান শর্ত হলো, এই সময় কোনো স্মার্টফোন, টিভি বা অন্য কোনো কাজ করা যাবে না। পুরো মনোযোগ থাকবে কেবল সন্তানের প্রতি। সকালের প্রথম ৭ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্

২১ মিনিটেই বদলে যাবে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক

জারা হাসান

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হলো, সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারা। একদিকে অফিসের চাপ, অন্যদিকে ঘরের কাজ, আর অবসরে ডিজিটাল স্ক্রিন আসক্তি। সবকিছু মিলিয়ে সন্তান যেন নিজের অজান্তেই একটু দূরে সরে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকত্বের নতুন এক কৌশল দারুণ সাড়া ফেলেছে, যার নাম ‘৭-৭-৭ রুল’ বা সাত-সাত-সাত নিয়ম। দিনে মাত্র ২১ মিনিটের এই জাদুকরী কৌশলটি সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের সম্পর্ক পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিয়মটি শুনতে যতটা সহজ, এর প্রভাব ততটাই সুদূর প্রসারী। শিশু মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সারাদিন সন্তানের পেছনে ছুটে বেড়ানোর চেয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি মুহূর্তে তাদের পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া বেশি জরুরি। ‘৭-৭-৭’ নিয়মটি মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ৭ মিনিট, স্কুল বা বাইরে থেকে ফেরার পর ৭ মিনিট এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ৭ মিনিট। সবমিলিয়ে এই ২১ মিনিট সন্তানের জন্য বরাদ্দ করতে হবে। তবে প্রধান শর্ত হলো, এই সময় কোনো স্মার্টফোন, টিভি বা অন্য কোনো কাজ করা যাবে না। পুরো মনোযোগ থাকবে কেবল সন্তানের প্রতি।

সকালের প্রথম ৭ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম থেকে ওঠার পর তাড়াহুড়ো না করে এই সময়টায় সন্তানের পাশে বসুন। একসঙ্গে সকালের নাস্তা করা বা আজকের দিনটি কেমন যাবে, তা নিয়ে হালকা গল্প করতে পারেন। এই ছোট্ট ইতিবাচক শুরুটি সারাদিন সন্তানকে মানসিকভাবে ফুরফুরে ও নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করে।

দিনের দ্বিতীয় ৭ মিনিট হলো স্কুল থেকে ফেরার পর। সারাদিন বাইরে কাটানোর পর ঘরে ফিরে সন্তান যখন আপনাকে কাছে পায়; তখন তার অনেক কিছু বলার থাকে। এই সময়টায় তাকে পড়াশোনা নিয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন না করে, বরং সে কী বলতে চায় তা মন দিয়ে শুনুন। তার সারাদিনের ভালো ও খারাপ লাগার অনুভূতিগুলো ভাগ করে নিন। এতে সন্তানের ভেতরে জমে থাকা ক্লান্তি এবং মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়।

দিনের শেষ ৭ মিনিট হলো রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সময়টা সন্তান সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ থাকে। এই ৭ মিনিট তাদের সঙ্গে শুয়ে গল্প করা, বই পড়ে শোনানো বা সারাদিনের সেরা মুহূর্তটি নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। এই ছোট্ট সান্নিধ্য তাদের মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়, যা তাদের গভীর ও শান্তিতে ঘুমাতে সাহায্য করে।

আন্তর্জাতিক শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, শিশুদের আসলে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই। তারা শুধু চায় বাবা-মা যেন তাদের কথাগুলো একটু মন দিয়ে শোনে। সকালের নাস্তা কতটা নিখুঁত হলো বা পরিবারের সুন্দর ছবি ইন্টারনেটে দেওয়া হলো কি না, শিশুরা এসব মনে রাখে না। তারা কেবল সেই মুহূর্তগুলোই মনে রাখে, যখন বাবা-মা সত্যিই তাদের পাশে ছিলেন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই ২১ মিনিটের হিসাবটা কোনো যান্ত্রিক বিষয় নয়। এটি মূলত বাবা-মায়েদের জন্য একটি সুন্দর রিমাইন্ডার, যাতে শত ব্যস্ততার মাঝেও তারা সন্তানের জন্য অবিভক্ত মনোযোগের কিছুটা সময় বের করতে পারেন।

পরিশেষে বলা যায়, সন্তান পালন কোনো ঘড়ি ধরে করার বিষয় নয়। তবে এই ‘৭-৭-৭’ নিয়মটি আধুনিক কর্মব্যস্ত বাবা-মায়েদের জন্য একটি দারুণ দিশারী হতে পারে। দিনের এই ছোট্ট ২১ মিনিটের বিনিয়োগ আপনার সন্তানের মানসিক বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে। তাই আজ থেকেই শুরু হোক এই নতুনচর্চা। কারণ আপনার দেওয়া একটুখানি গুণগত সময়ই হতে পারে সন্তানের আগামী দিনের সুন্দর ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow