৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনা চেয়ে ইসিকে জামায়াতসহ ১১ দলের চিঠি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনা চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘মৌলিক জায়গায় আপনি যতই সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ করেন না কেন, সুষ্ঠুভাবে যদি ফলাফল ঘোষণা না হয়, এখানে যদি ইঞ্জিনিয়ারিং হয়, আপনি যদি এটা রোধ করতে না পারেন, পদক্ষেপ না নিতে পারেন, তাহলে তো এখানে একটা দায়সারা গোছের বক্তব্য দিলে হবে না। এখানে দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকেও নিতে হবে। আমরা ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনা চেয়ে ইসিকে চিঠি দিয়েছি।’ এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) না থাকায় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। সেই সঙ্গে তিন কমিশনার ও ইসি সচিব উপস্থিত ছিলেন। এতে জামায়াত নেতা আযাদ ছাড়াও অংশ নেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন, লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জাতীয় নাগরিক

৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনা চেয়ে ইসিকে জামায়াতসহ ১১ দলের চিঠি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনা চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি বলেন, ‘মৌলিক জায়গায় আপনি যতই সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ করেন না কেন, সুষ্ঠুভাবে যদি ফলাফল ঘোষণা না হয়, এখানে যদি ইঞ্জিনিয়ারিং হয়, আপনি যদি এটা রোধ করতে না পারেন, পদক্ষেপ না নিতে পারেন, তাহলে তো এখানে একটা দায়সারা গোছের বক্তব্য দিলে হবে না। এখানে দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকেও নিতে হবে। আমরা ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনা চেয়ে ইসিকে চিঠি দিয়েছি।’

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) না থাকায় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। সেই সঙ্গে তিন কমিশনার ও ইসি সচিব উপস্থিত ছিলেন। এতে জামায়াত নেতা আযাদ ছাড়াও অংশ নেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন, লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধি। 
 
আযাদ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কয়েকটি ধাপ আছে। একটা হচ্ছে ভোটগ্রহণ, দ্বিতীয় হলো ভোট গণনা ও তৃতীয় হচ্ছে ফলাফল প্রকাশ। এই তিন ধাপের মধ্যে ভোটগ্রহণের বেলায় আমরা অতীতের তুলনায় কিছুটা গুণগত পরিবর্তন দেখেছি। খুনোখুনি বা বড় ধরনের সহিংসতা তেমন দৃশ্যমান ছিল না। তবে ভোটগ্রহণকালে কেন্দ্রগুলো ঘুরে আমরা দেখেছি সেখানে অসুস্থ পরিবেশ বিরাজমান ছিল নানা ধরনের। অর্থাৎ ভোটগ্রহণে সমাপ্তি সুন্দর হয়নি। এখানে জালভোট হয়েছে প্রচুর। কালো টাকার ছড়াছড়ি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও হুমকি-ধমকি, সন্ত্রাস, মারামারি অথবা হামলার ঘটনা ঘটেছে। বড় ঘটনা না ঘটলেও সুষ্ঠু নির্বাচনে এগুলো প্রশ্নবিদ্ধ করার বিভিন্ন উপাদান তৈরি করে।’

‘প্রার্থীদের পক্ষ থেকে, তাদের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো নিয়ে কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিতে আমরা দেখিনি। আজকে কমিশনও একই কথা বলেছে যে এখনো চার শতাধিক হারানো পিস্তল উদ্ধার হয়নি। কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আর অবৈধ অস্ত্র তো আছেই। সব মিলে নির্বাচনের মধ্যে প্রভাব তৈরির ক্ষেত্রে অস্ত্রগুলো ভূমিকা রেখেছে,’ যোগ করেন তিনি।

জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘আরেকটা বিষয় হচ্ছে, কালো টাকা, অস্ত্র ও হুমকি-ধমকির পাশাপাশি নির্বাচনে কারসাজি করার কিছু কার্যক্রম আমরা লক্ষ্য করেছি। কোনো কোনো কেন্দ্রে কর্তব্যরত কর্মকর্তারাও ব্যালটে সিল মারার কাজে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। দলীয় কর্মীরাও সিল মেরেছেন বলে অভিযোগ আছে। আবার ভোটগ্রহণকালে এখানে বাধা দেওয়া হয়েছে, ভয়ভীতি ছড়ানো হয়েছে। ভোট কাস্টিং কম হয়েছে। ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে এই ত্রুটিগুলো লক্ষ্য করা গেছে।’

ভোট গণনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘গণনার ক্ষেত্রে কত কত এজেন্টকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু গণনার যে সুস্থ পরিবেশ দরকার সেটা কোথাও কোথাও ব্যাহত হয়েছে। এটা ছিল না। ফলে ভোট গণনার মধ্যে যদি ত্রুটি থেকে যায় ফলাফলে তার প্রভাব পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। রেজাল্ট শিটেও দেখা গেছে ঘষামাজা, কাটাকাটি ও ওভাররাইটিং। অনেক জায়গায় যে আসল এজেন্ট ছিলেন প্রার্থীর, তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি।’ 
 
আযাদ জানান, ৩২টি আসনের বাইরেও তাদের কাছে অনিয়মের যথেষ্ট প্রমাণ আছে। যে ব্যবধান হওয়ার কথা, অনিয়ম করে এরচেয়ে বড় ব্যবধানে যদি তাদের প্রার্থীদের হারানোর প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তারা আইনের আশ্রয় নেবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সংস্কারে কিছু বিষয় মৌলিকভাবে এসেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে এগুলোর সুফল আমরা পাবো। যেহেতু বাস্তবায়ন হয়নি, সুফল পাইনি। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা চেষ্টা করেছে, পরিশ্রম করেছে। এটা আমরা শুনেছি, এটা আমরা বিশ্বাসও করতে চাই।’

এমওএস/একিউএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow