৪০ বছর ধরে অবৈধ দখলে রেলওয়ের কোয়ার্টার, বাড়ছে অপরাধের ঝুঁকি
প্রায় চার দশক ধরে লালমনিরহাটে বাংলাদেশ রেলওয়ের স্টাফ কোয়ার্টারের প্রায় অর্ধেকই রয়েছে অবৈধ দখলে। একই সঙ্গে সংস্কারের অভাবে শতাধিক কোয়ার্টার জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরিত্যক্ত এসব ভবনের অনেকগুলোই এখন মাদকসেবন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আস্তানায় পরিণত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। রেলের শহর হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটে বাংলাদেশ রেলওয়ের ২ হাজার ৯১৭ একর ৫৫ শতক জমির ওপর গড়ে ওঠা শতবর্ষী স্টাফ কোয়ার্টারের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, অবৈধ দখল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৮৫০টির বেশি স্টাফ কোয়ার্টারের মধ্যে প্রায় ৪৫০টি বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০০টি কোয়ার্টার জরাজীর্ণ হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বৈধভাবে বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৩০০টি কোয়ার্টার। স্টোরপাড়া, ড্রাইভারপাড়া, রামকৃষ্ণ মোড়, বাবুপাড়া, শিশুপার্ক ও সাহেবপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত এসব কোয়ার্টারের বড় অংশে এখন আর রেলকর্মীরা বসবাস করেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪০ বছর ধরে অবৈধ দখলদাররা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে বসবাস করছেন। পাশাপাশি অনে
প্রায় চার দশক ধরে লালমনিরহাটে বাংলাদেশ রেলওয়ের স্টাফ কোয়ার্টারের প্রায় অর্ধেকই রয়েছে অবৈধ দখলে। একই সঙ্গে সংস্কারের অভাবে শতাধিক কোয়ার্টার জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরিত্যক্ত এসব ভবনের অনেকগুলোই এখন মাদকসেবন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আস্তানায় পরিণত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে।
রেলের শহর হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটে বাংলাদেশ রেলওয়ের ২ হাজার ৯১৭ একর ৫৫ শতক জমির ওপর গড়ে ওঠা শতবর্ষী স্টাফ কোয়ার্টারের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, অবৈধ দখল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৮৫০টির বেশি স্টাফ কোয়ার্টারের মধ্যে প্রায় ৪৫০টি বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০০টি কোয়ার্টার জরাজীর্ণ হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বৈধভাবে বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৩০০টি কোয়ার্টার।
স্টোরপাড়া, ড্রাইভারপাড়া, রামকৃষ্ণ মোড়, বাবুপাড়া, শিশুপার্ক ও সাহেবপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত এসব কোয়ার্টারের বড় অংশে এখন আর রেলকর্মীরা বসবাস করেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪০ বছর ধরে অবৈধ দখলদাররা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে বসবাস করছেন। পাশাপাশি অনেক পরিত্যক্ত ভবন আগাছায় ঢেকে গিয়ে মাদকসেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবু সাঈদ মাহমুদ ও প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, পরিত্যক্ত রেল কোয়ার্টারগুলোতে মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। এছাড়া বরাদ্দ পাওয়া কিছু কোয়ার্টার নিয়মবহির্ভূতভাবে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শিপন আলী বলেন, অবৈধ দখলে থাকা কোয়ার্টারগুলো থেকে সরকার কোনো ভাড়া পাচ্ছে না। ফলে রাষ্ট্র সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
লালমনিরহাট পৌরসভার কর্মকর্তা ও শহর পরিকল্পনাবিদ এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামান তালুকদার বলেন, রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তবে রেলওয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব জমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আফিরুল ইসলাম বলেন, রেলওয়ের অব্যবহৃত জমি পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা গেলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং আধুনিক নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৭৯ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে লালমনিরহাটে রেলওয়ের কার্যক্রম শুরু হয় এবং ১৯০০ সালে পূর্ণাঙ্গ রেল যোগাযোগ চালু হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য ১৯৩০ সালের মধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। এসব কোয়ার্টারের প্রায় ৯০ শতাংশই বর্তমানে পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত।
রেলওয়ের ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুর হোসেন বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী অব্যবহৃত রেলওয়ে জমি লিজ দেওয়া হয় এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান দখলকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
পরিত্যক্ত রেল ভবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহম্মেদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাটের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার মো. তসলিম আহমেদ খান বলেন, রেলওয়ের জমি ও আবাসিক ভবন দখলমুক্ত করতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জরাজীর্ণ কোয়ার্টার সংস্কারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিত্যক্ত জমি উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিত্যক্ত রেল ভবনের সংস্কার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং অব্যবহৃত জমির পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে জননিরাপত্তা বাড়বে, অপরাধ কমবে এবং লালমনিরহাটের নগর উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।
সূত্র : বাসস
What's Your Reaction?