এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করলেন ‘ককরোচ’

ভারতে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তার অভিযোগ, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া সম্ভব ছিল না। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এ দাবি জানিয়ে দীপকে বলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর যেভাবে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পেলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরেছে, তার দায় অমিত শাহ এড়াতে পারেন না। এর একদিন আগে, বুধবার সংসদে প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধী বিল নিয়ে আলোচনার সময় ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও একই অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, গত ২০ জুলাই পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে ‘ককরোচ’ আন্দোলনকারীদের সংসদ অভিযানের সময় পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই করা হয়েছিল। সেই সময় রাহুল গান্ধীও অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন। রাহুলের বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একই সুরে সরব হন অভিজিৎ দীপকে। তিনি শুধু পুলিশ নয়, বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন দমনের অভিযোগ আনেন। এদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত

এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করলেন ‘ককরোচ’

ভারতে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তার অভিযোগ, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া সম্ভব ছিল না।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এ দাবি জানিয়ে দীপকে বলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর যেভাবে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পেলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরেছে, তার দায় অমিত শাহ এড়াতে পারেন না।

এর একদিন আগে, বুধবার সংসদে প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধী বিল নিয়ে আলোচনার সময় ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও একই অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, গত ২০ জুলাই পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে ‘ককরোচ’ আন্দোলনকারীদের সংসদ অভিযানের সময় পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই করা হয়েছিল। সেই সময় রাহুল গান্ধীও অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন।

রাহুলের বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একই সুরে সরব হন অভিজিৎ দীপকে। তিনি শুধু পুলিশ নয়, বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন দমনের অভিযোগ আনেন।

এদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে সিজেপি বিদেশি অর্থায়ন পেয়েছে—এমন অভিযোগও উড়িয়ে দেন তিনি। দীপকের ভাষ্য, যদি সত্যিই বিদেশি অর্থ এসে থাকে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তবে সেটিও অমিত শাহের ব্যর্থতা। সে ক্ষেত্রে নিজেকে ‘চাণক্য’ দাবি করার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দীপকের আরও অভিযোগ, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভকে সহিংস দেখানোর জন্য দিল্লি পুলিশ পরিকল্পিতভাবে পাথর নিক্ষেপের পরিবেশ তৈরি করেছিল। তার দাবি, যন্তর মন্তরে একটি ট্রাকে করে পাথর ও একটি ভাঙাচোরা গাড়ি এনে রাখা হয়েছিল, যাতে পরে পুলিশি অভিযানের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করা যায়। তিনি বলেন, বিজেপির লোকজন পাথর নিক্ষেপ করলেও দোষ চাপানো হয়েছে ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর।

প্রসঙ্গত, প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের জেরে গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর নিজ রাজ্য মহারাষ্ট্রে ফিরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন অভিজিৎ দীপকে।

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও কটাক্ষ করেন তিনি। দীপকের দাবি, দেশের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন মোদী। তার মন্তব্য, প্রধানমন্ত্রী চাইলে ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হিসেবেই ভালো করবেন এবং দেশের দায়িত্ব অন্য কোনো নেতার হাতে তুলে দেওয়া উচিত।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও কেন্দ্র এবং বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের সরকার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে হয়রানি করছে। অবিলম্বে এ ধরনের হয়রানি বন্ধ না হলে আগামী নির্বাচনে আন্দোলনকারীরাই তার জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি বলেও জানান দীপকে। তার ভাষায়, যেভাবে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তনের দাবিতেও আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow