চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রী পরিষদে থাকতে পারেন যারা

দীর্ঘ ২৫ বছর পর (২০০১ সালের পর) বিএনপির ভূমিধস এ বিজয় হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। সারা দেশের মতো বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের ২১টিতে বিপুলভাবে বিজয় হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নানা স্মৃতিও রয়েছে এ চট্টগ্রামে। জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চট্টগ্রামকে বলা হয় বিএনপির ঘাঁটি। এর আগে কখনো একসঙ্গে এত বেশি আসনে জয় পায়নি দলটি। সবমিলিয়ে বিএনপির এ বিজয়ের মাধ্যমে বৃহত্তর চট্টগ্রাম কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান মিলে মন্ত্রী পরিষদে ব্যতিক্রম কিছু উপহার আসতে পারে। পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী হুইপসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারে বলে বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে। দলীয় ও সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার ১৬ আসনের ১৪টিতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩টি এবং কক্সবাজারের ৪টি আসনের সবকটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। অতীতের ন্যায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায়ও গুরুত্ব পাবে চট্টগ্রাম। সর্বশেষ ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ১৯৩ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। একই বছরের ১০ অক্টোবর গঠন করে মন্ত্রিসভা। পর্যায়ক্রমে ওই মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম জেলা থেকে স্থান প

চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রী পরিষদে থাকতে পারেন যারা
দীর্ঘ ২৫ বছর পর (২০০১ সালের পর) বিএনপির ভূমিধস এ বিজয় হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। সারা দেশের মতো বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের ২১টিতে বিপুলভাবে বিজয় হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নানা স্মৃতিও রয়েছে এ চট্টগ্রামে। জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চট্টগ্রামকে বলা হয় বিএনপির ঘাঁটি। এর আগে কখনো একসঙ্গে এত বেশি আসনে জয় পায়নি দলটি। সবমিলিয়ে বিএনপির এ বিজয়ের মাধ্যমে বৃহত্তর চট্টগ্রাম কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান মিলে মন্ত্রী পরিষদে ব্যতিক্রম কিছু উপহার আসতে পারে। পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী হুইপসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারে বলে বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে। দলীয় ও সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার ১৬ আসনের ১৪টিতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩টি এবং কক্সবাজারের ৪টি আসনের সবকটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। অতীতের ন্যায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায়ও গুরুত্ব পাবে চট্টগ্রাম। সর্বশেষ ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ১৯৩ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। একই বছরের ১০ অক্টোবর গঠন করে মন্ত্রিসভা। পর্যায়ক্রমে ওই মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম জেলা থেকে স্থান পান ৫ জন। এর বাইরে চট্টগ্রাম থেকে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার জাতীয় সংসদ এর হুইপ ও মন্ত্রী মর্যাদায় সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টাও। ফলে পূর্বের ধারাবাহিকতায় এবারও চট্টগ্রাম থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রাখা হতে পারে। এক্ষেত্রে আলোচনায় আছেন অনেক নেতাও। চট্টগ্রাম উত্তর নগর বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন শিকদার কালবেলাকে বলেন, দ্বিতীয় বৃহত্তম চট্টগ্রাম এবং বাণিজ্যিক রাজধানী। একইভাবে চট্টগ্রামের ২৩টি আসে অনেক আসনও বিএনপি জয়ী হয়েছে। সবমিলিয়ে আশা করছি অতীতের ন্যায় এবারও রাষ্ট্র পরিচালনায় চট্টগ্রাম থেকে আশানুরূপ অংশগ্রহণ থাকবে। পূর্ণমন্ত্রীসহ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় যেসব নেতারা বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন এমন নেতাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন ১০ জন। তারা হচ্ছেন- বিএনপির প্রবীণ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম-১১ আসনের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী মীর নাছির উদ্দিনের ছেলে চট্টগ্রাম-৫ আসনের নির্বাচিত ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম নগরীর বাণিজ্যিক ঘাঁটি চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে নির্বাচিত আবু সুফিয়ান, সাবেক মন্ত্রী ও প্রয়াত প্রবীণ বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নেমানের ছেলে চট্টগ্রাম-১০ থেকে নির্বাচিত জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-৬ আসনের নির্বাচিত গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও টেকনোক্রেট কোনো পদে আসতে পারেন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আকবর খোন্দকার, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনে বিএনপির নির্বাচিত এমপি আসলাম চৌধুরী, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি সংসদীয় আসনের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বান্দরবান আসনে বিএনপির প্রার্থী সাচিংপুর জেরী ও খাগড়াছড়ি আসনের বিএনপির বিজয়ী ওয়াদুদ ভূঁইয়া প্রমুখ।  তবে মন্ত্রিসভায় কয়জন স্থান পাবেন, কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন; এসব নিয়েই চলছে দলের ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা। শরিক দলের বা বিরোধী দলের কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখা হবে কিনা সেটা নিয়েও আছে নানা গুঞ্জন। অন্যদিকে এসব আলোচনার মধ্যে রয়েছে আলোচিতদের মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে পূর্ণমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেতে পারেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নাম আছে সবার শীর্ষে। বিএনপির কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি এবার মন্ত্রিসভায় তারুণ্যকে মূল্যায়ন করবে। সেক্ষেত্রে তরুণ সংসদ সদস্যদের দলের প্রতি অবদানের পাশাপাশি শিক্ষাসহ বিভিন্ন যোগ্যতা খতিয়ে দেখা হবে। চট্টগ্রাম থেকে আলোচনায় থাকা দুই তরুণের মধ্যে মীর হেলাল ও সাঈদ আল নোমানের নামও উঠে এসেছে। তাছাড়া সাধারণত চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে দলের কেউ নির্বাচিত হলে তাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়ার অনুশীলন আছে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে। সেক্ষেত্রে এবার এ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান মন্ত্রিসভার কোনো স্থানে আসতে পারে।  একই সঙ্গে প্রবীণ হিসেবে মন্ত্রিসভার জন্য আলোচনায় আছেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচনেও রাউজান থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারও টেকনোক্রেট মন্ত্রী হতে পারেন নানা ইস্যু বিবেচনা করে। এবারের নির্বাচনে রাউজান থেকে গিয়াস কাদের চৌধুরীর পাশাপাশি দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন গোলাম আকবরও। যদিও শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান গিয়াস কাদের। তবে অনেকেই বলছেন, গোলাম আকবর খোন্দকারকে দল মনোনয়ন না দিলেও মূল্যায়ন করবেন। সেক্ষেত্রে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। জানা গেছে, ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পর চট্টগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদায় বিভিন্ন পদে ৬ জন স্থান পেয়েছিলেন। বন্দরের অবস্থান এবং ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে চট্টগ্রামের আলাদা গুরুত্ব আছে পুরো বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায়। কাজেই গুরুত্ব বিবেচনায় সব সরকারই চট্টগ্রামের প্রাধান্য দেয় তাদের মন্ত্রিসভায়। মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া ৮ জনের মধ্যে ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এল কে সিদ্দিকী, বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসন থেকে নির্বাচিত এম মোরশেদ খান। প্রতিমন্ত্রী ছিলেন জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। এর মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০২ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৩ মার্চ থেকে সরকারের শেষ পর্যন্ত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।  আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০৪ সালের ২৫ পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন। ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মোরশেদ খান। সরকারের শেষ সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এল কে সিদ্দিকী ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ২২ মে পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর সরকারের শেষ সময় পর্যন্ত পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের (বর্তমানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়) প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। জাতীয় সংসদের হুইপ প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow