দিনাজপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সূর্যমুখীর চাষ
দিনাজপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি অধিদপ্তর। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হেক্টর বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ৬ মেট্রিক টন। সদর উপজেলার খামার কান্তবাড়ী বিদ্যাশ্বরি গ্রামের সহরাফ আলী ১ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত ৭ বছর ধরে সূর্যমুখী চাষ করছি। এবার পরিকল্পিতভাবে চাষ করেছি। ফুলও এসেছে। তাই দর্শনার্থীরা ৫০ টাকা টিকিট দিয়ে বাগানে ঢুকে ঘুরে বেড়ানোসহ ইচ্ছেমতো ছবি তুলতে পারবেন।’ বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের গরুল গ্রামের মাঠগুলো যেন সোনার সমুদ্রে পরিণত হয়েছে। হালকা হাওয়ায় দুলতে থাকা সোনালি ফুলগুলো সূর্যের দিকে তাকিয়ে হাসছে। কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা আর অপরূপ দৃশ্য মিলিয়ে উপজেলার কৃষকদের মুখে হাসি ফুটছে। প্রতিটি ফুলের পেছনে লুকানো শ্রমের গল্প, আর সেই গল্পগুলো দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন গ্রামের মানুষসহ দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা। আরও পড়ুনজয়পুরহাটে স্ট্রবেরি চাষে কৃষকের বিঘায় লাভ আড়াই লাখ গরুল গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম ৪৮ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তাকে দেখে অনুপ্র
দিনাজপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি অধিদপ্তর। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হেক্টর বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ৬ মেট্রিক টন।
সদর উপজেলার খামার কান্তবাড়ী বিদ্যাশ্বরি গ্রামের সহরাফ আলী ১ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত ৭ বছর ধরে সূর্যমুখী চাষ করছি। এবার পরিকল্পিতভাবে চাষ করেছি। ফুলও এসেছে। তাই দর্শনার্থীরা ৫০ টাকা টিকিট দিয়ে বাগানে ঢুকে ঘুরে বেড়ানোসহ ইচ্ছেমতো ছবি তুলতে পারবেন।’
বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের গরুল গ্রামের মাঠগুলো যেন সোনার সমুদ্রে পরিণত হয়েছে। হালকা হাওয়ায় দুলতে থাকা সোনালি ফুলগুলো সূর্যের দিকে তাকিয়ে হাসছে। কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা আর অপরূপ দৃশ্য মিলিয়ে উপজেলার কৃষকদের মুখে হাসি ফুটছে। প্রতিটি ফুলের পেছনে লুকানো শ্রমের গল্প, আর সেই গল্পগুলো দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন গ্রামের মানুষসহ দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা।
গরুল গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম ৪৮ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে কৃষকেরা এবার ঝুঁকছেন সূর্যমুখী চাষে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ৪ হেক্টর জমিতে ফুটেছে সূর্যমুখী। চোখজুড়ানো এ দৃশ্য শুধু কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে না, দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণ করছে। প্রতিদিন ছবি ও সেলফির জন্য মানুষ ছুটে আসছে। সোনালি মাঠ হয়ে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্র।
আকতারা খাতুন বলেন, ‘আমি এ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়লো সূর্যমুখীর বাগান। সঙ্গে সঙ্গে থামলাম। সোনালি সূর্যমুখীর সমুদ্র যেন আমার চোখের সামনে ফুটে উঠলো। প্রতিটি কোণই ছবি তোলার জন্য বিশেষ। সত্যিই অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা!’
কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি গত বছর প্রাথমিকভাবে চাষ করেছিলাম। এবার একটু বেশি জমিতে লাগিয়েছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভ হবে। উপজেলা কৃষি অফিসের সব ধরনের সহায়তা ও নিয়মিত পরামর্শ আমাদের চাষে অনেক সাহায্য করছে।’
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, ‘দিনাজপুরে এবার সূর্যমুখী চাষের জন্য ৫৪ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়। তবে অর্জন হয়েছে ৫৫ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন হবে ১.২৫ মেট্রিক টন বীজ। সে হিসেবে এবার জেলায় ৬৯ মেট্রিক টন সূর্যমুখীর বীজ উৎপাদন হবে।’
বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, ‘আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে সূর্যমুখী হতে পারে জেলার সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। ভোজ্যতেলের ওপর আমদানি নির্ভরতা কমানোর জন্য সরকার কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে কৃষকেরা ভালো দাম পাবেন। বিরল উপজেলায় এ মৌসুমে মোট ৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে।’
এএমএইচএম/এসইউ
What's Your Reaction?