শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা, মাধ্যমিক-কলেজ-মাদরাসা বন্ধ

ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে দীর্ঘ ছুটিতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাৎসরিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী- আগামী ২৪ মে থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হবে। তবে তার আগে শুক্র ও শনিবার (২২ ও ২৩ মে) সাপ্তাহিক ছুটি পড়ায় মূলত বৃহস্পতিবার (২১ মে) ক্লাস হওয়ার পরই ছুটি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‌সাপ্তাহিক ছুটির ‘সুবিধা’ পেলেও বিড়ম্বনায় পড়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কারণ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী- রোজার বন্ধের ঘাটতি পোষাতে শনিবারও (২৩ মে) প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে। ক্ষুব্ধ প্রাথমিক শিক্ষকরা প্রাথমিকের শিক্ষকদের অভিযোগ, রোজার ছুটিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরিসহ সব প্রতিষ্ঠানই একই সময় বন্ধ ছিল। তাহলে প্রাথমিকে ঘাটতি হলে এবং তা পোষাতে শনিবার খোলা রাখা হলে কেন মাধ্যমিক, কারিগরি, কলেজ ও মাদরাসা শনিবারে খোলা রাখা হচ্ছে না। এটা স্পষ্ট বৈষম্য বলে উল্লেখ করেছেন তারা। রাজবাড়ীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজিম উদ্দিন। তিনি জা

শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা, মাধ্যমিক-কলেজ-মাদরাসা বন্ধ

ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে দীর্ঘ ছুটিতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাৎসরিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী- আগামী ২৪ মে থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হবে। তবে তার আগে শুক্র ও শনিবার (২২ ও ২৩ মে) সাপ্তাহিক ছুটি পড়ায় মূলত বৃহস্পতিবার (২১ মে) ক্লাস হওয়ার পরই ছুটি হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‌সাপ্তাহিক ছুটির ‘সুবিধা’ পেলেও বিড়ম্বনায় পড়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কারণ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী- রোজার বন্ধের ঘাটতি পোষাতে শনিবারও (২৩ মে) প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে।

ক্ষুব্ধ প্রাথমিক শিক্ষকরা

প্রাথমিকের শিক্ষকদের অভিযোগ, রোজার ছুটিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরিসহ সব প্রতিষ্ঠানই একই সময় বন্ধ ছিল। তাহলে প্রাথমিকে ঘাটতি হলে এবং তা পোষাতে শনিবার খোলা রাখা হলে কেন মাধ্যমিক, কারিগরি, কলেজ ও মাদরাসা শনিবারে খোলা রাখা হচ্ছে না। এটা স্পষ্ট বৈষম্য বলে উল্লেখ করেছেন তারা।

রাজবাড়ীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজিম উদ্দিন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘রোজায় আমরা যতদিন ছুটি পেয়েছি, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও ততদিন ছুটি ছিল। মাদরাসায় আরও বেশি ছিল। তাহলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন এত ঘাটতি, অন্য স্তরে কেন ঘাটতি হলো না? এটা প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটা জুলুম।’

প্রাথমিকের শিক্ষকদের সংগঠনের একজন নেতা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিলে শোকজের মুখে পড়তে হবে বিধায় তিনি পরিচয় প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন। ওই শিক্ষক নেতা জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদেরকে তাদের প্রতিপক্ষ মনে করে। সব সময় আগ বাড়িয়ে শিক্ষকদের ছুটিসহ নানান বিষয় চাপিয়ে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কলেজের বিষয়গুলো তুলে ধরে এবং শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পাওয়ার সুযোগ লাভের জন্য ২৩ মে ছুটি চেয়ে অনেক আগেই মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর তা আমলে নেয়নি। এভাবে জোর করে শিক্ষকদের কাছ থেকে ভালো পাঠদান আদায় করা সম্ভব নয়। শিক্ষকদের মানসিক প্রশান্তি না থাকলে শেখানোর মান বাড়বে না।’

বিপাকে অভিভাবকরাও

ঈদুল আজহা ও গরমের ছুটি শুরু হবে রোববার। তার আগে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এ তথ্য জেনে কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকা অধিকাংশ অভিভাবক তাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া সন্তানদের গ্রামে পাঠাতে টিকিট কিনে রেখেছেন। অনেকে বৃহস্পতিবারই পরিবারকে গ্রামে পাঠিয়েছেন, কেউবা শুক্রবার পাঠাবেন। কিন্তু শনিবারও বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্তে তারা ক্ষোভ জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের উপ-পরিচালক জয়নাল আবেদীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অধিদপ্তর থেকে একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। এটিতেই সব আছে। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তাকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকেও কল করে পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্যানুযায়ী—দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত তিন লাখ ৮৪ হাজার ৯৮১ জন। বিদ্যালয়গুলোতে পড়ালেখা করছে কোমলমতি প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী।

কোন প্রতিষ্ঠান কতদিন বন্ধ

মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কলেজে ছুটি শুরু হচ্ছে শুক্রবার (২২ মে) থেকে। এ ছুটি চলবে ৪ জুন পর্যন্ত। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ৭ জুন রোববার এসব প্রতিষ্ঠানে আবারও ক্লাস শুরু হবে। এতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও কারিগরির শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ১৬ দিনের ছুটি পাচ্ছে।

তবে শনিবার খোলা থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ছুটি ‍শুরু হচ্ছে ২৪ মে। সাপ্তাহিক ছুটি শেষে আগামী ৭ জুন রোববার বিদ্যালয় খোলা হবে। সে ক্ষেত্রে প্রাথমিকে টানা ছুটি মিলছে ১৪ দিন।

অন্যদিকে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা আরও বেশিদিন ছুটি পাচ্ছেন। ইবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদরাসাগুলোয় ২২ মে ছুটি শুরু হয়ে চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। পরে ১২ ও ১৩ জুন (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন রোববার ক্লাস শুরু হবে। ফলে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ২৩ দিনের ছুটি পাচ্ছেন।

এএএইচ/এমআইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow