শীতলক্ষ্যার তীরে ইটিপিবিহীন ২০ কারখানার বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) ছাড়া পরিচালিত ২০টি শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে আগামী ৩০ এপ্রিল আদালতে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে। এর আগে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইটিপিবিহীন শিল্পকারখানার কারণে নদীর পানি দূষণের অভিযোগ তুলে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৬ মে হাইকোর্ট রুল জারি করে দূষণকারী শিল্পকারখানা মনিটরিংয়ের জন্য কমিটি গঠন এবং পরিবেশগত ক্ষতির হিসাব আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর গত ৮ ডিসেম্বর আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা তীরবর্তী ২০টি
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) ছাড়া পরিচালিত ২০টি শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে আগামী ৩০ এপ্রিল আদালতে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এর আগে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইটিপিবিহীন শিল্পকারখানার কারণে নদীর পানি দূষণের অভিযোগ তুলে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৬ মে হাইকোর্ট রুল জারি করে দূষণকারী শিল্পকারখানা মনিটরিংয়ের জন্য কমিটি গঠন এবং পরিবেশগত ক্ষতির হিসাব আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর গত ৮ ডিসেম্বর আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা তীরবর্তী ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইটিপি ছাড়া তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আরএসকে ডাইং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিট ডাইং, মেসার্স রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইং অ্যান্ড প্রসেসিং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডাইং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডাইং, মায়ের দোয়া ডাইং, এমআর ডাইং, আব্দুর রব ডাইং, বিসমিল্লাহ নিট ডাইং, শিমুল ডাইং, রাজ্জাক ওয়াশিং ও হাজি রাসুল ডাইংসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এইচআরপিবির পক্ষ থেকে সম্পূরক আবেদন দাখিল করে ইটিপিবিহীন কারখানাগুলোর বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ইটিপি ছাড়া কোনো শিল্পকারখানা পরিচালনা করা পরিবেশ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে আইন অমান্য করে শীতলক্ষ্যা নদীতে বর্জ্য ফেলছে, ফলে নদী ও আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ইটিপি ছাড়া পরিচালিত শিল্পকারখানাগুলোর বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে নদীদূষণ কমানো সম্ভব হবে।
এইচআরপিবির পক্ষে সম্পূরক আবেদনটি দাখিল করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী। শুনানিতে মনজিল মোরসেদকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনতাসির উদ্দিন আহাম্মেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুর রহমান।
মামলায় বিবাদী করা হয়েছে শিপিং সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পুলিশ প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং ১১৭টি শিল্পকারখানার মালিককে।
What's Your Reaction?