শ্রমিকদের বাজারে মুহূর্তেই লাশের সারি, নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় ঝরল ৭ প্রাণ

ভোরের আলো ফোটার আগেই বগুড়ার এরুলিয়া বন্দরে বসেছিল শ্রমিকদের বাজার ‘কামলার বাজার’। আমন ধান রোপণের মৌসুমে কাজের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে এসে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছিলেন দিনমজুর ও কৃষি-শ্রমিকরা। কেউ অপেক্ষা করছিলেন জমির মালিকের জন্য, কেউ দরদাম করে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।  হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দেয় বিদ্যুতের খুঁটিতে, এরপর থামেনি- চলে যায় শ্রমিকদের ওপর দিয়ে। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রাণ হারান সাতজন, আহত হন অন্তত ১৪ জন। দুর্ঘটনার ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে এরুলিয়া বন্দরের মুদি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানান, তিনি তখন দোকানের ভেতরে ছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ শুনে বাইরে তাকিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার দৃশ্য দেখতে পান। আব্দুর রহিম বলেন, এখানে তো কামলার বাজার বসে। এই রাস্তার দুধারে সব লোকজন বসে থাকে। যার যার দরকার দরদাম করে কামলাদের নিয়ে যায়। আজ হঠাৎ বাসটি এসে আমার দোকানের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লাগায়। কিন্তু বাস না থেমে লোকজনের ওপর দিয়ে চলতে শুরু করে। ঘটনার পরপর বাসের চালক, সহকারী পালিয়ে গেছে। তারপর তো আমরা গিয়ে কয়েকজনকে তুলে হাসপাতালে দিয়ে পাঠা

শ্রমিকদের বাজারে মুহূর্তেই লাশের সারি, নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় ঝরল ৭ প্রাণ

ভোরের আলো ফোটার আগেই বগুড়ার এরুলিয়া বন্দরে বসেছিল শ্রমিকদের বাজার ‘কামলার বাজার’। আমন ধান রোপণের মৌসুমে কাজের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে এসে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছিলেন দিনমজুর ও কৃষি-শ্রমিকরা। কেউ অপেক্ষা করছিলেন জমির মালিকের জন্য, কেউ দরদাম করে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। 

হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দেয় বিদ্যুতের খুঁটিতে, এরপর থামেনি- চলে যায় শ্রমিকদের ওপর দিয়ে। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রাণ হারান সাতজন, আহত হন অন্তত ১৪ জন।

দুর্ঘটনার ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে এরুলিয়া বন্দরের মুদি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানান, তিনি তখন দোকানের ভেতরে ছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ শুনে বাইরে তাকিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার দৃশ্য দেখতে পান।

আব্দুর রহিম বলেন, এখানে তো কামলার বাজার বসে। এই রাস্তার দুধারে সব লোকজন বসে থাকে। যার যার দরকার দরদাম করে কামলাদের নিয়ে যায়। আজ হঠাৎ বাসটি এসে আমার দোকানের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লাগায়। কিন্তু বাস না থেমে লোকজনের ওপর দিয়ে চলতে শুরু করে। ঘটনার পরপর বাসের চালক, সহকারী পালিয়ে গেছে। তারপর তো আমরা গিয়ে কয়েকজনকে তুলে হাসপাতালে দিয়ে পাঠাই।

স্থানীয় আরও কয়েকজন বাসিন্দা দুর্ঘটনার বিষয়ে জানান। তাদের ভাষ্য, মোটরসাইকেল চালকের নাম বেল্লাল। তিনি একজন কামলাকে নিজের মোটরসাইকেলে তুলে হঠাৎ রাস্তায় চলে আসেন। এরপরই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার কিছুক্ষণ পর তার স্বজনরা মরদেহ নিয়ে বাড়ি চলে যান।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা এরুলিয়া বন্দরে ছুটে যান। তারা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠান।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে জানা গেছে, ২২ জন সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাজু মিয়া (৪৫) নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়। তার বাড়ি গোবিন্দগঞ্জের সাপমারা ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামে।

জরুরি বিভাগের বিছানায় শুয়ে থাকা সাজু মিয়া বলেন, ‘আমরা কামলারা সব ভোরেত থেকে বসে আছি। কী বান হলো, আমরা কিছু বুঝেই উঠতে পারিনি। হঠাৎ গায়ের ওপর সব হুরমুর করে পড়ল। এরপর দেখলাম আশপাশে রক্ত, মানুষ পড়ে আছে। পরে লোকজন আমাক ধরে গাড়িত করে হাসপাতালে নিয়ে আসল।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমন ধান রোপণের মৌসুমে কাজ করে কিছু টাকা উপার্জনের জন্য গোবিন্দগঞ্জের কয়েকটি গ্রামের অন্তত ১০০ জন বগুড়ার এরুলিয়ায় এসেছেন।

তারা বৃহস্পতিবার রাতেই এরুলিয়ায় পৌঁছান। বন্দরের একটি ঘরে মাথাপিছু প্রতি রাত ২০ টাকা ভাড়া দিয়ে থাকেন তারা। এক থেকে দেড় সপ্তাহ কাজ করার পর আবার বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই নেমে আসে দুর্ঘটনা।

নিহত আবু সাঈদের খালাতো ভাই সাকিবুর বলেন, ‘ভাই, কপালে লেখা ছিল। আমার আসার কথা শনিবার। সাঈদ ও মামাতো বোনের স্বামী আমিরুল একদিন আগেই চলে আসে। এসেই সকালে এই ঘটনা। দুজনেই মারা গেছে।’

নিহত নুর মোহাম্মদ সরদারের ভাতিজা আল আমিন সরদার বলেন, ‘ভোরে বড় চাচা জমিতে ধান লাগানোর জন্য শ্রমিক নিতে এরুলিয়া এসেছিলেন। এরপর আমরা খবর পাই যে বাস চাপায় তিনি মারা গেছেন। সেই খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে আসছি। সুস্থ মানুষ বাড়ি থেকে বের হয়ে আসলো। এখন শুনি তিনি আর নেই।’

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘আমরা সাতজন নিহতের নাম পরিচয় নিশ্চিত হতে পেরেছি। এর মধ্যে দুজন বগুড়ার। বাকিরা গোবিন্দগঞ্জ ও জয়পুরহাট থেকে কাজের উদ্দেশ্যে এরুলিয়া এসেছিল।’

তিনি জানান, ফাপোঁড়ের বেল্লালের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকেই স্বজনরা নিয়ে গেছেন। এ ছাড়া আরেকটি মরদেহ গোবিন্দগঞ্জে নিয়ে গেছেন নিহতের স্বজনরা। বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে পাঁচটি মরদেহ রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ওসি আরও বলেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় বাসটি পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হতাহতদের পরিবারের কেউ মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow