সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে প্রথম দিনে ভোট পড়েছে রেকর্ড সর্বনিম্ন
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দুদিনব্যাপী নির্বাচনের প্রথম দিনে তুলনামূলকভাবে খুবই কম ভোট পড়েছে।নির্বাচনি সাব-কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৩ মে) প্রথম দিন ১ হাজার ৭৭১টি ভোট পড়েছে, যা গত পাঁচটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথম দিনে পড়া ভোটের মধ্যে সংখ্যার হিসাবে সর্বনিম্ন। তথ্য বলছে, এবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তবে ভোটারের সংখ্যা বাড়লেও ভোট প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম দিনে সেটা লক্ষ্য করা যায়নি। গতকালের মতো আজ বৃহস্পতিবারও (১৪ মে) সকাল ১০টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে ভোট চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এরপরই শুরু হবে গণনার পালা। এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১ জন। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের মোট ১১ হাজার ৯৭ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। যেখানে প্রথম দিন ভোট দিয়েছেন মাত্র ১৭৭১ জন। নির্বাচন সংক্রান্ত কমিটির একাধিক সদস্য দাবি করছেন, ভোটের প্রথম দিন সকালে ভোটার উপস্থিতি ভালোই ছিল। তবে দুপুরের পর ঝড়-বৃষ্টির কারণে ভোট প্রয়োগের হার কমেছে। মানে ঝড়-বৃষ্টির কারণে ভোটাররা আসতে পারেন
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দুদিনব্যাপী নির্বাচনের প্রথম দিনে তুলনামূলকভাবে খুবই কম ভোট পড়েছে।নির্বাচনি সাব-কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৩ মে) প্রথম দিন ১ হাজার ৭৭১টি ভোট পড়েছে, যা গত পাঁচটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথম দিনে পড়া ভোটের মধ্যে সংখ্যার হিসাবে সর্বনিম্ন।
তথ্য বলছে, এবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তবে ভোটারের সংখ্যা বাড়লেও ভোট প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম দিনে সেটা লক্ষ্য করা যায়নি।
গতকালের মতো আজ বৃহস্পতিবারও (১৪ মে) সকাল ১০টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে ভোট চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এরপরই শুরু হবে গণনার পালা।
এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১ জন। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের মোট ১১ হাজার ৯৭ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। যেখানে প্রথম দিন ভোট দিয়েছেন মাত্র ১৭৭১ জন।
নির্বাচন সংক্রান্ত কমিটির একাধিক সদস্য দাবি করছেন, ভোটের প্রথম দিন সকালে ভোটার উপস্থিতি ভালোই ছিল। তবে দুপুরের পর ঝড়-বৃষ্টির কারণে ভোট প্রয়োগের হার কমেছে। মানে ঝড়-বৃষ্টির কারণে ভোটাররা আসতে পারেননি।
এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হয়নি আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের। বিভিন্ন পদে আওয়ামীপন্থি ৪১ জনের মনোনয়নপত্র কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
আওয়ামীপন্থিদের (সাদা) প্যানেল না থাকলেও ভোটে অংশ নিয়েছে বিএনপিপন্থিদের নীল প্যানেল, জামায়াতপন্থিদের সবুজ প্যানেল ও এনসিপিপন্থিদের লাল-সবুজ প্যানেল। নীল ও সবুজ পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিলেও মাত্র ছয়টি পদে প্রার্থী দিয়েছে লাল-সবুজ প্যানেল।
এদিকে, আওয়ামীপন্থিদের নির্বাচনের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তের পর ভোট না দেওয়ার বিষয়ে দলীয় আইনজীবীদের নিয়ে জোট বেঁধেছেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। এ বিষয়টিও এবারের নির্বাচনকে অনেকটাই নিরুত্তাপ করে তুলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আইনজীবী সমিতিতে ২০২৪ সালে মোট ভোটার ছিল সাত হাজার ৮৮৩ জন। এর মধ্যে প্রথম দিনে ৩ হাজার ২৬১ জন আইনজীবী তাদের ভোট দিয়েছিলেন। এর আগে ২০২৩ সালে আট হাজার ৬০২ জন ভোটারের মধ্যে প্রথম দিনে ২ হাজার ২১৭ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। ২০২২ সালে আট হাজার ৬২৩ জনের মধ্যে প্রথম দিনে ২ হাজার ৮২৩ জন আইনজীবী এবং ২০২১ সালে সাত হাজার ৭২১ ভোটারের মধ্যে ২ হাজার ৮২৩ জন আইনজীবী ভোট দিয়েছিলেন।
নির্বাচনে ভোটের মাঠে রয়েছে তিনটি প্যানেল। সেগুলো হলো সরকার (বিএনপি) সমর্থক জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল, বিরোধীদল (জামায়াত) সমর্থক আইনজীবী ঐক্য প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল। তবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় সমিতির বিশেষ সাধারণ সভার সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। আওয়ামী লীগ সমর্থকরা মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বাছাইয়ে সেটি বাতিল হয়।
বিএনপি সমর্থিত প্যানেল: বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দুটি সহ-সভাপতি পদে মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ পদে জিয়াউর রহমান, দুটি সহ-সম্পাদক পদে মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সাতটি সদস্য পদে এ কে এম আজাদ হোসেন, এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, কবির হোসেন, টিপু সুলতান, জিয়া উদ্দিন মিয়া, রিপন কুমার বড়ুয়া এবং ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন।
জামায়াত সমর্থিত প্যানেল: জামায়াতে সমর্থিত প্যানেলে সভাপতি পদে আবদুল বাতেন, দুটি সহ-সভাপতি পদে আব্দুল হক ও মইনুদ্দিন ফারুকী, সম্পাদক পদে এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার, কোষাধ্যক্ষ পদে এস এম জাহাঙ্গীর আলম, দুটি সহ-সম্পাদক পদে তারিকুল ইসলাম ও যোবায়ের আহমদ ভুইয়া প্রার্থী হয়েছেন।
সাতটি সদস্য পদে আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী, ফারজানা খানম, ইসরাত জাহান অনি, মো. ফয়েজউল্লাহ, মো. জুবায়ের টিটু, মাহমুদুল হাসান ও মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন লিংকন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এনসিপি সমর্থিত প্যানেল: এনসিপি সমর্থিতরা আংশিক প্যানেল দিয়েছেন। এর মধ্যে সম্পাদক পদে আজমল হোসেন বাচ্চু, সহ-সম্পাদক পদে মোস্তফা আসগর শরীফী এবং সদস্য পদে আমিনা আক্তার লাভলী, কাজী আকবর আলী, মো. বনি আমিন ও মাজহারুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন।
প্যানেলের বাইরে সভাপতি পদে ইউনুছ আলী আকন্দ আর সম্পাদক পদে ফরহাদ উদ্দিন ভুইয়া, আবু ইয়াহিয়া দুলাল, ওমর ফারুক, মোহাম্মদ আশরাফ উজ-জামান খান ভোটে লড়ছেন। সদস্য পদে রয়েছেন জোবায়ের তায়েব ও তপন কুমার দাস। নির্বাচন পরিচালনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে নির্বাচন উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
এফএইচ/এমকেআর
What's Your Reaction?