ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালের দাবি

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে চাকরিচ্যুত প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুত হওয়ার সময় থেকে বকেয়া বেতন-ভাতা, বোনাসসহ সব ন্যায্য পাওনা পরিশোধের দাবিও জানিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ‘চাকরিচ্যুত মজলুম ব্যাংকার’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বগুড়ার সান্তাহার শাখার চাকরিচ্যুত জুনিয়র অফিসার মো. এরশাদ হোসেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে চাকরিচ্যুত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বপদে পুনর্বহাল করা, চাকরিচ্যুত সময়ের বেতন-ভাতা, বোনাসসহ সব ন্যায্য পাওনা পরিশোধ এবং চাকরিচ্যুতদের রাজনৈতিক, আঞ্চলিক বা গোষ্ঠীগত পরিচয়ে চিহ্নিত করা ও তাদের যোগ্যতা নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য বন্ধ করা। বক্তারা বলেন, দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর পরিসরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালের দাবি
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে চাকরিচ্যুত প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুত হওয়ার সময় থেকে বকেয়া বেতন-ভাতা, বোনাসসহ সব ন্যায্য পাওনা পরিশোধের দাবিও জানিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ‘চাকরিচ্যুত মজলুম ব্যাংকার’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বগুড়ার সান্তাহার শাখার চাকরিচ্যুত জুনিয়র অফিসার মো. এরশাদ হোসেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে চাকরিচ্যুত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বপদে পুনর্বহাল করা, চাকরিচ্যুত সময়ের বেতন-ভাতা, বোনাসসহ সব ন্যায্য পাওনা পরিশোধ এবং চাকরিচ্যুতদের রাজনৈতিক, আঞ্চলিক বা গোষ্ঠীগত পরিচয়ে চিহ্নিত করা ও তাদের যোগ্যতা নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য বন্ধ করা। বক্তারা বলেন, দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর পরিসরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকার মো. আরাফাত চৌধুরী, মো. পারভেজ, আক্তার ফয়সাল, মো. আনোয়ার, অপর্ণা দত্ত, নাজমা আকতার, নাইমুল ইসলামসহ চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে মো. এরশাদ হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিসহ ইসলামী ধারার কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রায় ১০ হাজার দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পরও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘স্পেশাল কম্পিটেন্সি অ্যাসেসমেন্ট’ নামে একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এবং হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে অনেক কর্মকর্তা ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরবর্তীতে এটিকেই চাকরিচ্যুতির কারণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরশাদ হোসেন আরও বলেন, চাকরিচ্যুতদের মধ্যে কেউ মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন, কেউ ওমরাহ পালন কিংবা চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। আবার অনেকের চাকরির মেয়াদ চার থেকে সাত বছর থাকা সত্ত্বেও তাদের গণহারে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অনেকের চাকরির বয়সসীমাও ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে। এসব বিষয় বিবেচনা না করে নেওয়া সিদ্ধান্তকে তারা অমানবিক বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, চাকরি হারানোর পর অসংখ্য ব্যাংকার ও তাদের পরিবার চরম আর্থিক সংকট ও মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমনকি এই পরিস্থিতিতে একাধিক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের পুনর্বহালের দাবিতে সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহাল এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা। তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যাংকারদের এভাবে কর্মহীন করে রাখা শুধু তাদের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং তাদের পরিবার ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই বিষয়টি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা জানান, দাবি পূরণ না হলে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow