ঈদের আগে বাড়লো আদার দাম, পেঁয়াজ-রসুনে স্বস্তি
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র পাঁচদিন বাকি। কোরবানির এই ঈদে মাংসের নানা পদের রান্নার কারণে স্বাভাবিকভাবেই তেলের পাশাপাশি মসলার চাহিদাও থাকে সবচেয়ে বেশি। তবে বরাবরের মতো প্রায় প্রতি বছর ঈদের ঠিক আগে মসলার বাজারে যে অস্থিরতা দেখা যায়, এবার চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। খুচরা বাজারে আদার দাম চড়া থাকলেও এলাচ, দারচিনি, জিরা বা রসুনের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় মসলার দাম খুব একটা বাড়েনি। বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর কয়েকটা বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। যদিও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ভেতরের দোকানগুলোতে কিছুটা ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কিছু কিছু দোকানি মূল বাজারের তুলনায় ক্রেতাদের থেকে বাড়তি দাম আদায় করছেন। বিশেষ করে আবাসিক এলাকার ভেতরের বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় এমনটা। সেখানে বড় বাজারের চেয়ে প্রতি কেজি মসলায় ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা। আরও পড়ুনহঠাৎ ডিমের দাম বৃদ্ধি, সংকট নাকি সিন্ডিকেট?কোরবানির আগে আদার বাজারে আগুন, ১৬ দিনে দাম দ্বিগুণ এদিকে, বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পাইকারি বাজারে মসলার পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। বন
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র পাঁচদিন বাকি। কোরবানির এই ঈদে মাংসের নানা পদের রান্নার কারণে স্বাভাবিকভাবেই তেলের পাশাপাশি মসলার চাহিদাও থাকে সবচেয়ে বেশি। তবে বরাবরের মতো প্রায় প্রতি বছর ঈদের ঠিক আগে মসলার বাজারে যে অস্থিরতা দেখা যায়, এবার চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন।
খুচরা বাজারে আদার দাম চড়া থাকলেও এলাচ, দারচিনি, জিরা বা রসুনের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় মসলার দাম খুব একটা বাড়েনি। বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই।
শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর কয়েকটা বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। যদিও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ভেতরের দোকানগুলোতে কিছুটা ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কিছু কিছু দোকানি মূল বাজারের তুলনায় ক্রেতাদের থেকে বাড়তি দাম আদায় করছেন।
বিশেষ করে আবাসিক এলাকার ভেতরের বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় এমনটা। সেখানে বড় বাজারের চেয়ে প্রতি কেজি মসলায় ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা।
আরও পড়ুন
হঠাৎ ডিমের দাম বৃদ্ধি, সংকট নাকি সিন্ডিকেট?
কোরবানির আগে আদার বাজারে আগুন, ১৬ দিনে দাম দ্বিগুণ
এদিকে, বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পাইকারি বাজারে মসলার পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। বন্দরে আমদানি ও খালাস প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকায় এবার আদা ছাড়া অন্য কোনো মসলার দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে যায়নি।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আদা জাতভেদে ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি। আদার বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও স্বস্তি দিচ্ছে পেঁয়াজ ও রসুন। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং মানভেদে আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে বাজারে দেশি রসুনের দাম আরও কমে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা জিল্লুর রহমান জানান, এক সপ্তাহ আগে আদার দাম কেজিতে আরও ২০ টাকা বেশি ছিল, সেটা এখন কমেছে। আদা ছাড়া পেঁয়াজ, রসুন, শুকনো মরিচ বা অন্য কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি।
চাহিদার শীর্ষে থাকা গরম মসলার বাজারও এবার বেশ স্থিতিশীল। খুচরা বাজারে প্রতি একশোগ্রাম জিরা ৬০-৭০ টাকা, এলাচ ৪৫০-৫০০ টাকা, কালো এলাচ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, দারচিনি ৪৫-৫০ টাকা, লবঙ্গ ১৩০-১৫০ টাকা, গোল মরিচ ১৪০-১৫০ টাকা ও তেজপাতা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রামপুরায় মা মসলা ঘরের স্বত্বাধিকারী আবু হোসেন বলেন, মসলার দাম যা বাড়ার সেটা ডলার সংকটের সময় গত দুই বছর আগে বেড়েছিল। এবার ঈদের নতুন করে গরম মসলার দাম বাড়েনি।
তবে পাড়া-মহল্লার ভেতরে অনেক মসলার দোকানে ওইসব গরম মসলায় কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও সেটা প্রতি একশোগ্রামে ১০ থেকে ৫০ টাকা।
মহল্লার বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী শায়লা পারভীন বলেন, কারওয়ান বাজার বা বড় বাজারে দাম না বাড়লেও আমাদের এলাকার দোকানে এসে দেখি জিরার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেশি চাচ্ছে। এলাচের দামও একশো গ্রাম ৫৫০ টাকার নিচে নামছেই না। ছোট দোকানদাররা ঈদের উসিলায় নিজেদের মতো দাম বাড়িয়ে দেয়। এবারও তারা সেটা করছে।
এদিকে, পাড়া-মহল্লার খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা পাইকারি বাজার থেকে খুব বেশি পরিমাণে পণ্য কিনতে পারেন না। যাতায়াত খরচ, বিক্রয় ও মজুতে ঘাটতি হিসাব করলে বড় বাজারের সমান দামে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
মসলার বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতার কথাও বলেছেন কিছু ক্রেতা। কারওয়ান বাজারে মসলা কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবার ঈদের আগে মসলার বাজারে আগুন লাগে। এবার আদার দামটা একটু বেশি মনে হচ্ছে, তবে জিরা, দারুচিনি বা পেঁয়াজের দাম আগের মতোই আছে। বিশেষ করে ঈদের আগে ৪০-৪৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ আমি কখনো কিনিনি।
তিনি বলেন, বাজারটা এমন থাকলে ঈদের খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আমার মনে হয়, সরকারের বাজার তদারকি ও আমদানি বাড়লে আদার দামটিও নিয়ন্ত্রণ করা যেত এবার।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আদার সিংহভাগ আমদানি করতে হয় বলে আন্তর্জাতিক বাজার ও সরবরাহের সামান্য হেরফেরে এর দাম একটু বেড়েছে। এছাড়া বর্তমানে দেশি আদার সরবরাহ অনেক কম। তবে বাকি মসলার মজুত পর্যাপ্ত।
বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির এক কর্মকর্তা জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার মসলার আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিগত বছরগুলোর চেয়ে অনেক ভালো। পাইকারি বাজারে কোনো ঘাটতি নেই। বরং বড় বড় বাজারে বাড়তি সরবরাহ চাপে মসলার দাম কমে গেছে।
অন্যদিকে, বাজারে কিছুটা উত্তাপ কমেছে সবজির দামেও। বিভিন্ন ধরনের সবজি প্রতিকেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা আগে ৮০ থেকে ১০০ টাকা ছিল।
তবে বেড়ে যাওয়া ডিমের দামে কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। অবশ্য শুধু ডিম বিক্রি করে এমন কিছু দোকানে ১৪৫ টাকায়ও কেনা যাচ্ছে ডিম। আবার পাড়া মহল্লার কোনো কোনো দোকানিকে ১৫৫ টাকাও দাম চাইতে দেখা গেছে।
তবে ব্রয়লার মুরগির দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকার মধ্যে।
এনএইচ/এসএনআর
What's Your Reaction?