নদীর পাড় কাটছে ভূমিখেকোরা, নেপথ্যে ভূমি কর্মকর্তা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ও পাইলগাঁও ইউনিয়নে পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কুশিয়ারা নদীর পাড় কেটে মাটি লুটে নিচ্ছে এক প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) সেলিম আহমেদকে মোটা অংকের টাকায় ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে রহিম উল্লাহ ও তার সহযোগীরা। পাইলগাঁও ইউনিয়নের সেনাতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর পাড়-ঘেঁষে বিশাল এলাকাজুড়ে ড্রেজার ও ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে দিনরাত মাটি কাটা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই লুটপাট চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে শত শত বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চক্রের মূলহোতা রহিম উল্লাহ ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে বলে বেড়ান যে, সব জায়গায় মুখ বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ সব জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বরং অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দিচ্ছেন।  ভুক্তভোগী এক কৃষক বলেন, আমরা অভিযোগ করার কথা বললে রহ

নদীর পাড় কাটছে ভূমিখেকোরা, নেপথ্যে ভূমি কর্মকর্তা
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ও পাইলগাঁও ইউনিয়নে পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কুশিয়ারা নদীর পাড় কেটে মাটি লুটে নিচ্ছে এক প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) সেলিম আহমেদকে মোটা অংকের টাকায় ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে রহিম উল্লাহ ও তার সহযোগীরা। পাইলগাঁও ইউনিয়নের সেনাতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর পাড়-ঘেঁষে বিশাল এলাকাজুড়ে ড্রেজার ও ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে দিনরাত মাটি কাটা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই লুটপাট চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে শত শত বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চক্রের মূলহোতা রহিম উল্লাহ ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে বলে বেড়ান যে, সব জায়গায় মুখ বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ সব জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বরং অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দিচ্ছেন।  ভুক্তভোগী এক কৃষক বলেন, আমরা অভিযোগ করার কথা বললে রহিম উল্লাহর লোকেরা হুমকি দেয়। তারা বলে, ভূমি কর্মকর্তা সেলিম তাদের লোক, অভিযোগ করে কোনো লাভ হবে না।  তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভূমি কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, আমি কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযুক্ত রহিম উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।   বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন (২০১০) অনুযায়ী, নদীর তীর ভাঙনের ঝুঁকি থাকলে সেখান থেকে মাটি বা বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।  স্থানীয়রা জানান, নদীর পাড় কেটে মাটি নেওয়ায় বর্ষায় আবাদি জমিতে পানি ঢুকে ফসল নষ্ট হবে। এছাড়া মাটিভর্তি ট্রাক্টর চলাচলের কারণে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।   এ বিষয়ে জগন্নাথপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন জানান, তিনি তহশিলদারকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনি ব্যবস্থা নেবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ বলেন, নদীর পাড় কাটার খবর পেয়ে লোক পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূমি কর্মকর্তা সেলিম আহমেদের জড়িত থাকার বিষয়টি শুনেছি, তাকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে।  সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল জানিয়েছেন, জগন্নাথপুর ইউএনওকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow