নোবিপ্রবির হলের খাবার নিয়ে অসন্তোষ শিক্ষার্থীদের
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছর পার হলেও পাঁচটি আবাসিক হলের খাবারের মানে কোনো পরিবর্তন না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হলের ডাইনিংগুলোতে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন এবং চড়া দাম নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ছেলেদের দুটি হল এবং মেয়েদের তিনটি হলসহ মোট পাঁচটি হল রয়েছে নোবিপ্রবিতে। হল প্রশাসনের সূত্র মতে, পাঁচ হলে প্রায় তিন হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে। খাবারের জন্য যাদের অন্যতম অবলম্বন হলের ডাইনিংগুলো। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ডাইনিংয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের চালের ভাত প্রদান করা হয়। খাবারের মান অনুযায়ী দাম অনেক বেশি রাখা হচ্ছে বলেও জানান তারা।
নবাব ফজিলাতুন্নেছা ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী উম্মে হানি সোনিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হলে ওঠার পর কয়েক দিন ডাইনিংয়ে খেয়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। বিশেষ করে রাতের খাবারের মান এতটাই খারাপ থাকে যে, মনে হয় বাসি বা অবশিষ্ট খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
শিক্ষার্থীরা জানান, ঈদুল ফিতরের পর থেকে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি’ হলের ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম খাদ্য স
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছর পার হলেও পাঁচটি আবাসিক হলের খাবারের মানে কোনো পরিবর্তন না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হলের ডাইনিংগুলোতে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন এবং চড়া দাম নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ছেলেদের দুটি হল এবং মেয়েদের তিনটি হলসহ মোট পাঁচটি হল রয়েছে নোবিপ্রবিতে। হল প্রশাসনের সূত্র মতে, পাঁচ হলে প্রায় তিন হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে। খাবারের জন্য যাদের অন্যতম অবলম্বন হলের ডাইনিংগুলো। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ডাইনিংয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের চালের ভাত প্রদান করা হয়। খাবারের মান অনুযায়ী দাম অনেক বেশি রাখা হচ্ছে বলেও জানান তারা।
নবাব ফজিলাতুন্নেছা ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী উম্মে হানি সোনিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হলে ওঠার পর কয়েক দিন ডাইনিংয়ে খেয়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। বিশেষ করে রাতের খাবারের মান এতটাই খারাপ থাকে যে, মনে হয় বাসি বা অবশিষ্ট খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
শিক্ষার্থীরা জানান, ঈদুল ফিতরের পর থেকে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি’ হলের ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন। এই হলের ছাত্রীরা পাশের নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের ওপর নির্ভর করায় সেখানেও খাবারের সংকট তৈরি হচ্ছে এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে খাবারের মান দিন দিন কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জুলাই শহীদ স্মৃতি হলের প্রভোস্ট নাসির উদ্দিন বলেন, হলে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ জনের খাবার রান্না করা হলেও ৩০ জন খাবার গ্রহণ করছেন, যার কারণে ডাইনিং ব্যবস্থাপকরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সেজন্য উনারা মাঝে মধ্যেই ডাইনিং ছেড়ে দেন। এ বিষয়ে আমি উপাচার্য স্যারের সাথে কথা বলেছি। আশা করি দুই-তিন দিনের মধ্যেই একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
ভাষাশহীদ আবদুস সালাম হলের শিক্ষার্থীরা হলের রান্নাঘর ও ডাইনিংয়ের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, বাসি খাবার নতুন খাবারের সঙ্গে মেশানো বন্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত সবজির আইটেম রাখতে হবে।
আবদুস সালাম হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান আরও উন্নত করা প্রয়োজন। ডাইনিং হল এবং রান্নাঘর— উভয় স্থানেই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা উচিত। একদিনের খাবার পরের দিন পরিবেশন না করা এবং বাসি খাবার নতুন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া খাবারের মানের তুলনায় মূল্য বেশি নেওয়া হচ্ছে, যা পুনর্বিবেচনা করা দরকার।
তবে হলের প্রভোস্ট ফরিদ দেওয়ান জানান, আমরা ডাইনিংয়ে খাবারের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছি। কিছুদিন আগে ডাইনিং কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে কথা বলে কয়েকটি খাবারের দাম ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া তেমন কোনো অভিযোগ আসেনি আমাদের কাছে। তবে কারও অভিযোগ থাকলে আমাদের কাছে আবেদনপত্র দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী কাউছার আহামেদ জানান, হলের প্রতিটি খাবারের দাম ৫০ টাকার বেশি, ফলে দিনে তিন বেলা খেতে গেলে ২০০ টাকারও বেশি খরচ হয়ে যায়। দুঃখজনক বিষয় হলো— এত বেশি মূল্য নেওয়া হলেও খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। অনেক সময় খাবার মুখে দিয়েই খেতে ইচ্ছা করে না। বিশেষ করে ডালের অবস্থা এমন যে, মনে হয় যেন হলুদ মেশানো পানি।
হলের ডাইনিংগুলোতে খাবারের ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং নিম্নমানের খাবারের অভিযোগের বিষয়ে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, ক্যাফেটেরিয়া বন্ধের বিষয়টি জানার পরপরই আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। যারা দায়িত্বে ছিল তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে দেরি হয়েছে। আমরা আবাসিক হলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকি দিচ্ছি যাতে খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে আমরা প্রভোস্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।