প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৪৬ নম্বর সিঙ্গিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছে। নিরাপদ খাবার পানির সুব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। তৃষ্ণা মেটাতে অনেক শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে বোতলে করে পানি নিয়ে আসতে হচ্ছে, আবার অনেকে দীর্ঘ সময় পানি না খেয়েই কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল প্রাঙ্গণে একটি সাধারণ নলকূপ (স্যালো কল) থাকলেও এর পানি অত্যন্ত লবণাক্ত। এছাড়া ওই এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা বেশি হওয়ায় নলকূপটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প হিসেবে একটি পানির ট্যাপ স্থাপন করা হলেও সেটি গত কয়েক মাস ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এখানে বর্তমানে ১১৭ জন শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো সত্ত্বেও স্কুলে কোনো গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়নি। আগে যে নলকূপটি ছিল, সেটি আর্সেনিকযুক্ত ও লবণাক্ত পানি ওঠায় বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়রা খানম নিজের ভোগান্তির কথা জানিয়ে বলে, আমাদের স্কুলের নলকূপের প

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৪৬ নম্বর সিঙ্গিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছে। নিরাপদ খাবার পানির সুব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। তৃষ্ণা মেটাতে অনেক শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে বোতলে করে পানি নিয়ে আসতে হচ্ছে, আবার অনেকে দীর্ঘ সময় পানি না খেয়েই কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল প্রাঙ্গণে একটি সাধারণ নলকূপ (স্যালো কল) থাকলেও এর পানি অত্যন্ত লবণাক্ত। এছাড়া ওই এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা বেশি হওয়ায় নলকূপটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প হিসেবে একটি পানির ট্যাপ স্থাপন করা হলেও সেটি গত কয়েক মাস ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এখানে বর্তমানে ১১৭ জন শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো সত্ত্বেও স্কুলে কোনো গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়নি। আগে যে নলকূপটি ছিল, সেটি আর্সেনিকযুক্ত ও লবণাক্ত পানি ওঠায় বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়রা খানম নিজের ভোগান্তির কথা জানিয়ে বলে, আমাদের স্কুলের নলকূপের পানি খুব লবণাক্ত, তাই খাওয়া যায় না। বাড়ি থেকে পানি নিয়ে আসি, কিন্তু অনেক সময় তা শেষ হয়ে গেলে পানির অভাবে খুব কষ্ট হয়।

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী সাগর ও ইসমাইল জানায়, বিশুদ্ধ পানির অভাবে দূর থেকে পানি নিয়ে আসা তাদের জন্য বেশ কষ্টকর।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তুলনা বিশ্বাস বলেন, এখানে পানির সমস্যা অত্যন্ত প্রকট। গভীর নলকূপ না থাকায় আমরা নিরাপদ পানির সংস্থান করতে পারছি না। পানির অভাবে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা অতি দ্রুত সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি। 

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জহিরুল আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ তদন্ত শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। 

শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য রক্ষা ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow