যোগদানের দাবিতে রোববার থেকে রাজপথে প্রাথমিকের ১৪ হাজার নতুন শিক্ষক

যোগদান ও পদায়নের দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে যাচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে পাস করে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজারেরও বেশি প্রার্থী। শনিবার (১ আগস্ট) সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পক্ষে দেবব্রত সরকার ও ফারজানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ঘোষণা অনুযায়ী, রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের ১৭৫ দিন অতিবাহিত হলেও নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে আজও বিদ্যালয়ে পদায়ন ও যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমাদের একমাত্র দাবি ছিল গত ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে বিধিমালা অনুযায়ী যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়নের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন/অফিস আদেশ সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। ‘‌কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অনিশ্চয়তা ও বারবার আশ্বাসের পরও বাস্তব কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রি

যোগদানের দাবিতে রোববার থেকে রাজপথে প্রাথমিকের ১৪ হাজার নতুন শিক্ষক

যোগদান ও পদায়নের দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে যাচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে পাস করে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজারেরও বেশি প্রার্থী।

শনিবার (১ আগস্ট) সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পক্ষে দেবব্রত সরকার ও ফারজানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ঘোষণা অনুযায়ী, রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের ১৭৫ দিন অতিবাহিত হলেও নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে আজও বিদ্যালয়ে পদায়ন ও যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমাদের একমাত্র দাবি ছিল গত ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে বিধিমালা অনুযায়ী যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়নের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন/অফিস আদেশ সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।

‘‌কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অনিশ্চয়তা ও বারবার আশ্বাসের পরও বাস্তব কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে ন্যায্য অধিকার আদায়ের অংশ হিসেবে শান্তিপূর্ণ লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনে বাধ্য হচ্ছি।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দায়িত্বশীল মহল থেকে একাধিকবার আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে কখনই রাজপথে নামতে হবে না। কিন্তু আজ আমরা বাধ্য হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছি। এ পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের; আমাদের নয়।

কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের দাবিতে গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মের নেতা দেবব্রত সরকার। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করবো। নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।’

চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়। এত উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলনে নামেন তারা। এরপর তাদের প্রশিক্ষণসহ কিছু শর্তে যোগদান করানো হবে বলে জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এএএইচ/এমএএইচ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow