রাসুলুল্লাহর (সা.) অসাধারণ শিক্ষাদান পদ্ধতি
এক যুবক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে আরজ করলেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাকে জিনার অনুমতি দিন, আমাকে ব্যভিচার করার অনুমতি দিন।’ তার এমন কথা শুনে সাহাবিগণ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন। তাঁরা তাঁকে ধমকাতে শুরু করলেন এবং বললেন, ‘তুমি কতটা বেয়াদব! রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনে এসে এ কী কথা বলছ? যেখানে মহান আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন ব্যভিচারের কাছাকাছিও যেও না, সেখানে তুমি বিশ্বনবীর সামনে দাঁড়িয়ে সরাসরি এই অন্যায়ের অনুমতি চাইছ?’ সাহাবিদের এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার মাঝে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পূর্ণ শান্ত রইলেন। তিনি তখন কিছু বললেন না। একটু পর পরম মমতায় যুবকটিকে নিজের কাছে ডেকে নিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে অত্যন্ত বিনম্র স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা, তুমি যে ব্যভিচারের অনুমতি চাইছ, কেউ যদি তোমার কন্যার সাথে এই কাজ করে, তবে কি তুমি তা পছন্দ করবে?’ যুবক সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, ‘আল্লাহর কসম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! কখনোই না, কেউই তা পছন্দ করবে না।’ নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার জিজ্ঞেস করলেন
এক যুবক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে আরজ করলেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাকে জিনার অনুমতি দিন, আমাকে ব্যভিচার করার অনুমতি দিন।’
তার এমন কথা শুনে সাহাবিগণ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন। তাঁরা তাঁকে ধমকাতে শুরু করলেন এবং বললেন, ‘তুমি কতটা বেয়াদব! রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনে এসে এ কী কথা বলছ? যেখানে মহান আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন ব্যভিচারের কাছাকাছিও যেও না, সেখানে তুমি বিশ্বনবীর সামনে দাঁড়িয়ে সরাসরি এই অন্যায়ের অনুমতি চাইছ?’
সাহাবিদের এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার মাঝে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পূর্ণ শান্ত রইলেন। তিনি তখন কিছু বললেন না। একটু পর পরম মমতায় যুবকটিকে নিজের কাছে ডেকে নিলেন।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে অত্যন্ত বিনম্র স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা, তুমি যে ব্যভিচারের অনুমতি চাইছ, কেউ যদি তোমার কন্যার সাথে এই কাজ করে, তবে কি তুমি তা পছন্দ করবে?’ যুবক সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, ‘আল্লাহর কসম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! কখনোই না, কেউই তা পছন্দ করবে না।’
নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি পছন্দ করবে যে কেউ তোমার মায়ের সাথে এমন অপরাধে লিপ্ত হোক?’ যুবক উত্তর দিলেন, ‘কখনোই না, ইয়া রাসুলুল্লাহ!’ এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার বোনের সাথে কেউ এমন কাজ করলে তুমি কি তা মেনে নেবে?’ যুবক আবারও দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, ‘না, একেবারেই না।’
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুবকটিকে মূল বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়ে বললেন, ‘তুমি যে কাজের অনুমতি চাইছ, তুমি যার সাথেই ব্যভিচারে লিপ্ত হবে, সে তো কারো না কারো মা, কারো না কারো বোন, কিংবা কারো না কারো কন্যা। তাহলে তুমি কীভাবে এই কাজ করার কথা ভাবতে পারো?’
রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই হৃদয়স্পর্শী কথা শুনে যুবকটি অনুতপ্ত হলো। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুবকের জন্য হাত তুলে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি তার পাপ মার্জনা করে দিন, আপনি তার অন্তরকে সম্পূর্ণ পরিশুদ্ধ করে দিন এবং তার চরিত্রকে চিরতরে নিষ্কলুষ ও পবিত্র করে দিন।’
বিশ্বনবীর মোবারক দোয়ার বরকতে ওই যুবক সারাজীবনের জন্য এক পুত-পবিত্র ও নিষ্কলুষ চরিত্রের মানুষে পরিণত হলেন।
একটু ভেবে দেখলে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি তাকে ধমক দিয়ে বা অন্য কোনো কঠোর উপায়ে বোঝাতেন, তবে হয়তো এভাবে কাজ হতো না। কিন্তু যখন বিষয়টি তার নিজের আবেগ ও পরিবারের ওপর দিয়ে উদাহরণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো যে তোমার বোন বা মেয়ের সাথে কেউ এমনটা করলে তুমি কি মেনে নেবে? তখন তার বিবেক জাগ্রত হয়ে উঠল।
পবিত্র দ্বীনের শিক্ষা প্রদানে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এখানে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সকে অসাধারণভাবে কাজে লাগিয়েছেন। ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স হলো নিজের আবেগ বোঝা ও নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি অন্যের আবেগ অনুধাবন ও পরিচালনা করার ক্ষমতা। এই ঘটনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ওই ব্যক্তির আবেগ ও অনুভূতিতে নাড়া দিয়ে তাকে ইমোশনাল বা আবেগপ্রবণ করে তুলেছেন এবং ঠিক সময়ে হৃদয়ের গভীরে সঠিক বার্তাটি পৌঁছে দিয়েছেন।
সূত্র: মিজানুর রহমান আজহারীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বক্তব্যের ভিডিও থেকে লেখাটি তৈরি করা হয়েছে।
ওএফএফ
What's Your Reaction?

