লিভার নষ্ট হওয়ার আগেই শরীর ১৩টি সংকেত দেয়

আমাদের শরীরের অন্যতম প্রধান এবং অপরিহার্য অঙ্গ হলো লিভার বা যকৃৎ। এটি রক্ত থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বের করে দেওয়া, হজমে সাহায্য করা এবং শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করাসহ শত শত গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রতিদিন সম্পন্ন করে। একটি সুস্থ লিভার সাধারণত কোনো সমস্যা ছাড়াই কাজ করে যায়। তবে লিভার যখন ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে, তখন অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।  বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের রোগ বা ক্ষতি যখন বাড়তে থাকে, তখন শরীর কিছু নির্দিষ্ট সংকেত দিতে শুরু করে যা আমাদের কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। নিচে লিভার নষ্ট হওয়ার বা রোগাক্রান্ত হওয়ার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত আলোচনা করা হলো: লিভার সমস্যার ১৩টি প্রধান লক্ষণ ১. জন্ডিস: ত্বক এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া লিভারের সমস্যার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। ২. পেটে ব্যথা বা ফোলাভাব: পেটে অস্বস্তি, ব্যথা বা অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। ৩. সহজেই কালশিটে পড়া: সামান্য আঘাতেই শরীরে কালশিটে পড়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া। ৪. ত্বকে চুলকানি: কোনো কারণ ছাড়াই ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি অনুভব করা। ৫. পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া: শরীরের নিচের অং

লিভার নষ্ট হওয়ার আগেই শরীর ১৩টি সংকেত দেয়
আমাদের শরীরের অন্যতম প্রধান এবং অপরিহার্য অঙ্গ হলো লিভার বা যকৃৎ। এটি রক্ত থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বের করে দেওয়া, হজমে সাহায্য করা এবং শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করাসহ শত শত গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রতিদিন সম্পন্ন করে। একটি সুস্থ লিভার সাধারণত কোনো সমস্যা ছাড়াই কাজ করে যায়। তবে লিভার যখন ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে, তখন অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।  বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের রোগ বা ক্ষতি যখন বাড়তে থাকে, তখন শরীর কিছু নির্দিষ্ট সংকেত দিতে শুরু করে যা আমাদের কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। নিচে লিভার নষ্ট হওয়ার বা রোগাক্রান্ত হওয়ার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত আলোচনা করা হলো: লিভার সমস্যার ১৩টি প্রধান লক্ষণ ১. জন্ডিস: ত্বক এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া লিভারের সমস্যার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। ২. পেটে ব্যথা বা ফোলাভাব: পেটে অস্বস্তি, ব্যথা বা অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। ৩. সহজেই কালশিটে পড়া: সামান্য আঘাতেই শরীরে কালশিটে পড়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া। ৪. ত্বকে চুলকানি: কোনো কারণ ছাড়াই ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি অনুভব করা। ৫. পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া: শরীরের নিচের অংশ বিশেষ করে পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া লিভার ক্ষতির লক্ষণ হতে পারে। ৬. অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাস: ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই হঠাৎ শরীরের ওজন কমে যাওয়া। ৭. ক্ষুধামন্দা: খাবারে অনীহা বা ক্ষুধা কমে যাওয়া। ৮. বমি বমি ভাব এবং বমি: প্রায়ই বমি বমি ভাব হওয়া বা বমি হওয়া। ৯. দুর্বলতা ও ক্লান্তি: সবসময় দুর্বল অনুভব করা বা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি। ১০. ফ্যাকাশে মল: মলের রঙ সাদা বা চকের মতো ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া। ১১. নিম্ন রক্তচাপ: রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া। ১২. বিভ্রান্তি ও ভারসাম্যহীনতা: মানসিকভাবে বিভ্রান্ত বোধ করা বা চলাফেরায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা। ১৩. কাঁপুনি: শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে কাঁপুনি বা ট্রেমর (Tremors) দেখা দেওয়া। কেন লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়? লিভারের সমস্যার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন: ভাইরাল হেপাটাইটিস (এ, বি বা সি ভাইরাস), সিরোসিস (লিভারের টিস্যু ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়া) এবং বর্তমানে অত্যন্ত সাধারণ হয়ে ওঠা *ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। অতিরিক্ত মদ্যপান অথবা স্থূলতার কারণে লিভারে চর্বি জমে এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া লিভার ক্যান্সার এবং লিভার ফেইলিউরের মতো মারাত্মক পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। শনাক্তকরণ ও সুরক্ষা লিভারের অবস্থা বোঝার জন্য সাধারণত চিকিৎসকরা *রক্ত পরীক্ষা* করার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা বায়োপসির মাধ্যমেও লিভারের ক্ষতি বা ক্যান্সার শনাক্ত করা হয়।  লিভার সুস্থ রাখার উপায় লিভার ভালো রাখতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি: অতিরিক্ত মদ্যপান ত্যাগ করা। ধূমপান এবং অবৈধ ড্রাগ সেবন থেকে বিরত থাকা। নিরাপদ যৌন সম্পর্ক বজায় রাখা এবং অন্যদের সুঁই বা রেজর শেয়ার না করা (হেপাটাইটিস প্রতিরোধের জন্য)। ওষুধ ও ভিটামিন সেবনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা। শরীরে ওপরের লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই লিভারের বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়। তথ্যসূত্র: পিআইএইচ হেলথ 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow