লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে শুল্ক আদায়ের পরিকল্পনা নেই হুথির
লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে শুল্ক আদায়ের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তারা জানায়, এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল আগের মতোই শুল্কমুক্ত থাকবে। নতুন করে শুল্ক আরোপের খবরের পর এ ব্যাখ্যা দিল সংগঠনটি। শনিবার (১ আগস্ট) নিজেদের পরিচালিত 'হিউম্যানিটেরিয়ান অপারেশনস কোঅর্ডিনেশন সেন্টার' (এইচওসিসি) থেকে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, বাব আল-মানদেব প্রণালী পারাপারের জন্য কেউ যদি কোনো অর্থ দাবি করে, তবে তারা কোনোভাবেই ইয়েমেন সরকার বা এইচওসিসির প্রতিনিধিত্ব করে না। অননুমোদিত কোনো পক্ষকে অর্থ প্রদান কিংবা কোনো তথ্য শেয়ার না করার জন্য নৌ-পরিবহন সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার এক সপ্তাহের মাথায় ইরান-সমর্থিত হুথিরা বাব আল-মানদেব প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের কথা ভাবছে। আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, জুলাইয়ের শুরুতে হুথি প্রতিনিধি দলের তেহরান সফরকালে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে শুল্ক আদায়ের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তারা জানায়, এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল আগের মতোই শুল্কমুক্ত থাকবে। নতুন করে শুল্ক আরোপের খবরের পর এ ব্যাখ্যা দিল সংগঠনটি।
শনিবার (১ আগস্ট) নিজেদের পরিচালিত 'হিউম্যানিটেরিয়ান অপারেশনস কোঅর্ডিনেশন সেন্টার' (এইচওসিসি) থেকে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাব আল-মানদেব প্রণালী পারাপারের জন্য কেউ যদি কোনো অর্থ দাবি করে, তবে তারা কোনোভাবেই ইয়েমেন সরকার বা এইচওসিসির প্রতিনিধিত্ব করে না। অননুমোদিত কোনো পক্ষকে অর্থ প্রদান কিংবা কোনো তথ্য শেয়ার না করার জন্য নৌ-পরিবহন সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার এক সপ্তাহের মাথায় ইরান-সমর্থিত হুথিরা বাব আল-মানদেব প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের কথা ভাবছে।
আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, জুলাইয়ের শুরুতে হুথি প্রতিনিধি দলের তেহরান সফরকালে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে একটি নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে ফি নির্ধারণের বিষয়ে ইরানি উপদেষ্টাদের সহায়তার কথা উঠে আসে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের রয়টার্সকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা রয়টার্সকে বলেন, হুথিরা মূলত ‘ইরানি মডেলের অনুকরণ’ করার চেষ্টা করছে। বাব আল-মানদেব প্রণালীতে কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক বসানো হলে তা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে সৌদি আরবের ওপর। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে দেশটি তাদের তেল রপ্তানির জন্য বিকল্প রুট হিসেবে এই প্রণালীর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
উপসাগরীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বাব আল-মানদেব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পয়েন্ট। এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে এই প্রণালীটি ব্যবহৃত হয়। এখানে শুল্ক আরোপের বিষয়টি কার্যকর হলে তা হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অনুসরণ করা মডেলের মতোই হবে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে লোহিত সাগরে বিদেশি জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর সেই হামলা সাময়িক বন্ধ ছিল। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালে হুথিরা বিভিন্ন শিপিং এজেন্টের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ তুলে থাকতে পারে। যদিও বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই সংকটের পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল আর আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।
তবে নতুন হুমকির মুখে সৌদি আরব ১৪টি দেশের একটি যৌথ সামুদ্রিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য বাব আল-মানদেব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।
What's Your Reaction?